ছবির মতোই সুন্দর ছিল আমার গ্রামটা...

বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচলের কোন উপায় থাকতোনা। যেন মহসড়কের পাশে বিচ্ছিন্ন ছোটএকটা দ্বীপ।

সমস্যা যত বড়ই হোক, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে

আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জের সব দর্শনীয় স্থানে

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলায়ই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। যা আমাদের দেশকে করেছে আরো সমৃদ্ধ। শত বছর ধরে লাখো পর্যটককে করেছে আকৃষ্ট।

মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম: ফাদার তেরেসা

অসহায়, দুস্থ মানুষের সহায়তাই তার ধ্যান-জ্ঞান।সহিংসতার বিপরীতে তিনি অসহায়ের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।তিনি পাকিস্তানের আবদুল সাত্তার ইদি।অসম্ভব মানবসেবার কারনে ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার দেশে ফাদার তেরেসা নামেই বেশি পরিচিত।

‘মানসিক প্রশান্তির জন্য সাইকেল’

যাত্রা পথে পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তা আর ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে বিকল্প হলো একটা বাই সাইকেল। তাছাড়া ইদানিং স্বাস্থ্যটার দিকেও মনে হচ্ছে একটু যত্ন নেয়া দরকার।

উৎসব-আয়োজন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
উৎসব-আয়োজন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৫

বিলুপ্তির পথে গফরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী পলো উৎসব


বাংলা বর্ষপঞ্জিকা মতে এখন চলছে পৌষ মাস। বাংলা ঋতুতে হাড়কাপানো শীতের মৌসুম। বর্ষার পরে এই মাসে সাধারণত বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাল-বিল, নদী নালা ও হাওর বাওরের বর্ষার থৈ থৈ পানি সড়ে গিয়ে বিস্তৃর্ণ মাঠ জেগে উঠে। কৃষকরা সেই মাঠে ফসল ফলানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে বর্ষার পানি সড়ে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে বা গর্তে হাটু পরিমান পানি অবশিষ্ট থাকে যেখানে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমানে দেশী মাছ। এই মাছ শিকারের জন্য গ্রামের ছেলে-বুড়ো সবাই নেমে পড়ে কাদা পানিতে। উৎসবের আয়োজনে সেসব মাছ শিকার করা হয়। বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের মধ্যে এটাও একটা সংস্কৃতি যে শীত মৌসুমে দল বেধে মাছ শিকার করা।

জানা যায়, সাধারনত পৌষ মাস থেকে শুরু হয়ে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত গফরগাঁওয়ের হাওড়, বাঁওর, ছোট নদী-নালা ও খাল-বিল প্রায় শুকিয়ে যায়। তখন নির্দিষ্ট বিল বা ছোট নদীর আশে পাশে হাট-বাজার, গ্রামগুলোতে মাইকে বা ঢোল পিটিয়ে জানান দেওয়া হতো মাছ শিকারীদের।

জানানোর পর মাছ শিকারী পলো (দেশীয় পদ্ধতিতে মাছ ধরার সরঞ্জাম), টাকজাল, জালি, ক্ষেতজাল, চাবিসহ বিভিন্ন রকম মাছ শিকারের সরঞ্জাম নিয়ে মিছিলের মতো করে উপস্থিত হতো নির্দিষ্ট বিল বা ছোট নদীতে। দলবেধে মাছ ধরতে যাওয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। একসঙ্গে এরকম হাজার হাজার মাছ শিকারীদের নির্দিষ্ট বিল বা নদীতে মাছ শিকারকে হাত বাওয়া আবার কোন কোন এলাকায় পলো বাওয়া বলা হয়।

হাত বাওয়া বা পলো বাওয়া উৎসব চলত সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত। এই উৎসবে অনেকে একাধিক বা তার চেয়ে বেশি মাছ পেলেও কেউ কেউ আবার একটি মাছও পেত না। মাছ না পেলেও তাদের কোন দুঃখ থাকত না। দলবদ্ধভাবে মাছ ধরতে যাওয়ার আনন্দটাই মূলত মূখ্য। মাছ প্রাপ্তিটা মূল বিষয় নয়। হাত বাওয়া-পলো বাওয়াকে কেন্দ্র করে বিলের আশপাশে দশ গ্রামে ৩/৪ দিন পূর্ব থেকেই উৎসবের আমেজ চলে আসত। বাড়ির মা-ঝি’রা দল বেঁধে মসল¬া বাটার পাশাপাশি গীত-সংগীতের আয়োজন করে  থাকত। হাত বাওয়া-পলো বাওয়ার পর চলতে থাকত পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে উপহার হিসেবে মাছ পাঠানো।

নানা কারণে এ ‘পলো বাওয়া’ উৎসব এখন আর তেমন দেখা যায়না। ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ সংস্কৃতি। বিল বা ছোট জলাশয়ে ইতিমধ্যে মৎস্য চাষের আওতায়, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার আওতায় আনায় এখন ধীরে ধীরে এ উৎসব হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম অঞ্চল থেকে। ইদানীং মাছশূন্য খাল-বিলে হাত বাওয়া-বিল বাওয়া উৎসব আর দেখা যায়না।

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪

ঐতিহ্য ফেরাতে আধুনিক যুগে আমিরের ডিজিটাল পালকি

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যে মিশে আছে পালকি। একসময় পালকি না হলে বিয়েই হতো না। তাছাড়া অবস্থা সম্পন্ন মহিলাদের দূরদূরান্তে যাতায়াতের জন্যও ব্যবহৃত হতো পালকি। একসময় পালকির বেশ কদর থাকলেও আধুনিক সভ্যতার উৎকর্ষের সঙ্গে পালকির প্রচলন উঠেই গেছে। আজকাল কোথাও আর পালকি দেখাই যায়না।

তবে আধুনিক যুগে পালকিতে চাকা লগিয়ে প্রায় ৩০০ বছর আগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনলেন বগুড়ার আমির হোসেন। তিনি তৈরী করেছেন চাকা বিশিষ্ট বিশেষ ধরনের পালকি। প্রাচীণ পালকি আর কয়লা চালিত রেলের ডিজাইনে তৈরী এই বিশেষ ধরণের পালকি চলবে প্রেট্রোল ইঞ্জিনে। যার গতি কিছুটা কম। ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলক ভাবে চলছে বাহনটি।

পালকিতে তিনজন করে বেহারা থাকতেন। তাদের পোশাক ছিল লাল ফতুয়া, হাতে থাকত লাঠি ও লাঠির মাথায় থাকত বল্লম। পরনে সাদা ধুতি, মাথায় থাকত গামছা বাঁধা। বর-কনে দুজনই পালকিতে বসে থাকতেন। এখনকার প্রজন্ম জানেই না বা দেখেওনি পালকি জিনিসটা কি বা কোন কাজে ব্যবহৃত হতো। তাই নতুন রূপে চাকা লাগিয়ে ইঞ্জিনের সঙ্গে সেটিং করে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পালকি নতুন রূপে ফিরিয়ে আনেন আমির হোসেন।


আমির হোসেন জানান, শিশু পার্ক কিংবা দেশের যেগুলো কমিউনিটি সেন্টার আছে সেগুলোতে এ অটোপালকি সংযোজন করতে পারলে এর মান আরও বাড়বে। পালকিটিতে আসন সংখ্যা রয়েছে ২২টি। পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো যাবে আসন। পালকিটি প্রতি ঘণ্টায় পেট্রোলে ১২ কিমি. চলবে। এ পালকির গতি ৩০ থেকে ৬০ কিমি.। যন্ত্রচালিত পালকিটির মূল্য পড়বে আট লাখ টাকা।

তিনি জানান, সরকার চাইলে বিদেশী অতিথিদের এয়ারপোর্ট থেকে অভ্যর্থনা দিয়ে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহার করতে পারেন এ পালকি। এতে তারা অবাক হবেন ও এতে করে দেশের মান আরও বাড়বে।

৮০ বছরের কলিমুদ্দিন প্রাং জানান, এ রকম কয়লাচালিত রেলগাড়ি করে কলকাতা ঘুরে এসেছি। এত বছর পর ঠিক এ রকম রেলগাড়ি চোখে পড়ল। ভাবাই যায় না।

খাতেমন বিবি জানান, আমার বয়স যখন ১৬ বছর, তখন আমার বাবা-জ্যাঠা এ করম পালকি আমার বিয়েতে ব্যবহার করেন। -আকতারের ক্যানভাস


শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৪

শেষ মুহূর্তের ঈদ বাজার: বেচাকেনায় ভাটা, ব্যবসায়ীরা হতাশ


আকতার হোসেন: ঈদের আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকী। ভীড় বাড়তে শুরু করেছে নগরীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল গুলোতে। ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী। সেই সাথে তুলনামুলক ভাবে রাজধানীর বিপনী বিতান গুলোতেও ভীড়ও কমছে। সাধারণত রমজানের শুরু থেকে বেচাকেনার পরিমান বাড়তে থাকে। আর শেষ মুহূর্তে বিশেষ করে চাঁদরাত পর্যন্ত বেচাকেনার পরিমান বেড়ে যায় কয়েকগুন। ব্যাবসায়ীদের যেন দম ফেলার সময় থাকেনা। কিন্তু এবারের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন।

শুরুতে ক্রেতা কম থাকলেও ঈদ এগিয়ে আসার  সাথে সাথে ভীড় বাড়তে থাকে। ব্যাবসায়ীরাও আশায় বুক বাঁধতে থাকে। সেই সাথে তারা দোকনগুলোতে কয়েকগুন বেশি পন্য বোঝাই করেন। সবার প্রত্যাশা শেষ মূহুর্তে বেচাকেনা আরও বাড়বে।

কিন্তু সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি নিয়ে বড় রকমের ছুটির ফাঁদে পড়ে দেশ। কর্মজীবীরা নিজেদের সুবিধা মতো ছুটি নিয়ে অনেকেই ছুটছেন আপনজনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। আর যারা এখনও যেতে পারেননি তারাও ঢাকা ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে আবার আগে ভাগে পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে দিয়েছেন গ্রামে।

ফলে রাজধানী কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে শপিংমল গুলোতে। বিকি-কিনি ধারাবাহিকভাবে চললেও ব্যবসায়ীরা বলছে সময়ের তুলনায় ক্রেতা সমাগম হতাশাজনক। এমনকি ফুটপাতেও এবার বেচাকেনা অনেক কম।

নগরীর বিভিন্ন শপিংমল ও ফুটপাত ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। ব্যাবসায়ীদের হিসাবে ২৭ রমজানের পর থেকে কাস্টমার আসবে জোয়ারের মতো। বেচা কেনার ধুম লেগে যাবে। দম ফেলারও সময় পাবেননা তারা। অথচ এবার রমজান উপলক্ষে বাড়তি সেলসম্যানরা কাজ করছেন ঢিলেঢাল ভাবে। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরা ক্রেতা আকর্ষন করতে হাক ডাক ছাড়ছেন। একজন কাষ্টমার পেলে নিজেদের দোকানে ভেড়াতে উঠে পড়ে লাগছেন। কথা হয় রাজধানীর ফকিরের পুল এলাকার ফুটপাতের এক ব্যাবসায়ীর সাথে। বেচাকেমন কেমন- এ প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, দেখতেই তো পারছেন কেমন বেচা কেনা হচ্ছে। কাস্টমরাই নাই। বেচমু কার কাছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখলে মনে হয় দেশে হরতাল লাগছে। এমতাবস্থায় ঈদের জন্য সংগ্রহ করা তার সব পণ্য যথা সময়ে বিক্রি করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ব্যাপক চিন্তিত তিনি।

রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত দেশের সর্বাধুনিক শপিং মল বসুন্ধরা সিটিতে গিয়ে দেখা গেল বেশিরভাগ দোকানি  বসে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। এ দোকানগুলো মূলত  মহিলাদের শাড়ী, পাঞ্জাবী, আর ফতুয়ার দোকান।
 মোটামুটি ক্রেতাদের ছোট-খাটো ভিড় দেখা গেলেও বেশিরভাগ ক্রেতারা শুধু এ দোকান ও দোকান ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাছাড়া এই সময়ের তুলনায় সেই সংখ্যাটাও নেহাতেই নগন্য।

ঈদের বেচা -কেনা কেমন হচ্ছে এ বিষয়ে কথা বলতেই করিম উদ্দিন নামের একজন বিক্রেতা চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সারা বছর তো ব্যবসা এমনিতেই হয় না। তাই আশায় থাকি অন্তত ঈদের সময় দারুণ একটা ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি।

বিক্রেতা করিম অভিযোগের আঙ্গুল সরকারের দিকে দেখিয়ে বলেন, এ সরকার যতদিন থাকবে ব্যবসা করে আমরা কোন সুবিধা করতে পারবো না। তিনি বলেন, গত বছর আমাদের এক সপ্তাহে যা বিক্রি হয়েছিল এ বছর পুরো মাসেই তার অর্ধেক ব্যবসাও হয়নি। এভাবে একটি ব্যবসা চলতে পারেনা। তাই এ রকম বেচা-কেনার মুহূর্তেও  চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।

ঈদের বেচাকেনা নিয়ে কথা বলতেই মৌচাক এলাকার এক ব্যাবসায়ী ওই দিনের একটি জাতীয় দৈনিকের একটি নিউজ  দেখিয়ে বলেন, ভাই দেশে ডিজিটাল রাজত্ব চলছে তাই কোন কথা বলতে পারবোনা। দেশের পরিস্থিতি বেশি ভালোনা। তাহলে আমরা ভালো থাকবো কেমন করে? মানুষের হাতে টাকা পয়সা নাই, তাই ব্যাবসায়ও মন্দা।

ব্যাবসায়ীরা জানান, এমনিতেই সারা বছর বেচাকেনা অনেক কম হয়। দোকান ভাড়া, কর্মচারী খরচ, বিদ্যুৎ বিল, আনুষঙ্গিক খরচসহ বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে আনা সর্বোপরি সারা বছরের সেই আয় দিয়ে টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়ে। তাই ব্যাবসায়ীরা মুখিয়ে থাকে এই এক মাসের জন্য। এক মাসেই পুষিয়ে নিতে চায় বছরের সব ঘাটতি। কিন্তু এবার আগে আগে মানুষ ঢাকা ত্যাগ করতে শুরু করায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। তাদের শঙ্কা বাড়ছে অতিরিক্ত দামে ক্রয় করা অতিরিক্ত মাল চাঁদ রাতের মধ্যে বিক্রি করতে পারবেনতো!

ব্যাবসাীরা জানান, গত বছরও দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি ব্যাবসায়ীরা। তবে এবারের চিত্র ছিল অনেকটাই স্থিতিশীল। রাজনৈতিক দলগুলো কঠোর কোন কর্মসূচিও ছিলনা। তাই এবার ব্যাবসায়ীদের চাহিদাটাও ছিল একটু বেশী। তারা আশা করেছিল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকুল থাকলে গতবারের চেয়ে অনেক বেশি বিকিকিনি হবে।

কিন্তু এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়েও খুশি হতে পারছেননা তারা। ব্যবসায় এমন বাজে অবস্থা যে ব্যবসায়ীরা এখন হাসির বদলে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছে। তবুও অনেকেই এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন যে, পরিস্থিতি যাই হোক আল্লাহর রহমতে চাঁদ রাত পর্যন্ত বেঁচাকেনা বেশ ভালো হবে।

বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০১৪

জমে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর ঈদ বাজার

আকতার হোসেন : একে একে ফুরিয়ে আসছে রমজানের  দিন গুলো। সে সাথে হাতছানি দিয়ে ডাকছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ঊৎসব ঈদ-উল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে জমে  উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর শপিং মলগুলো। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে মার্কেটগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। সারা বছরের মন্দাভাব কাটিয়ে উঠে বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাবসায়ীরাও তাই নেমেছেন আটঘাট বেঁধে। সে লক্ষ্যে রমজানের শুরু থেকেই তারা বিপুল পরিমান পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেছেন। রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যাবসায়ীরা নান্দানিক ডেকোরেশন ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে তাদের পণ্যে ঠাসা দোকানগুলো। রমজানের শুরুতে ক্রেতা কম থাকায় কিছুটা হতাশা কাজ করলেও ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তা কাটিয়ে উঠছে তারা। ব্যাবসাীরা আশা করছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকুল থাকলে গতবারের চেয়ে অনেক বেশি বিকিকিনি হবে। গত বছরও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দেশের অবস্থা খারাপ থাকার কারণে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি ব্যাবসায়ীরা। তবে এবারের চিত্র অনেকটাই স্থিতিশীল। তাই এবার ব্যাবসায়ীদের চাহিদাও একটু বেশী।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে ক্রেতা সমাগম কিছুটা কম থাকলেও বিকালের দিকে তা কয়েকগুন বৃদ্ধি পায়। বেচাকেনা চলছে টানা রাত দশটা পর্যন্ত। বাতিল করা হয়েছে দোকানকর্মচারীদের ছুটি। বন্ধের দিনেও খোলা থাকছে মার্কেটগুলো। সামনের দিনগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে বলে জানান ব্যাবসায়ীরা।

ব্যাবসায়ীরা জানান, এমনিতেই সারা বছর বেচাকেনা অনেক কম হয়। সারা বছরের সেই আয় দিয়ে টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়ে। তাছাড়া দোকান ভাড়া, কর্মচারী খরচ, বিদ্যুৎ বিল, আনুষঙ্গিক খরচসহ বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে আনা সবগুলোই বেশ চ্যালেঞ্জের । তাই ব্যাবসায়ীরা মুখিয়ে থাকে এ এক মাসের জন্য। ব্যবসায়ীদের ভাষায় রমজান ও ঈদকে বলা হয় সিজন টাইম। এই সিজনেই পুষিয়ে নিতে চায় বছরের সব ঘাটতি। এ সময়ে মানুষজন প্রায় প্রত্যেকেই নিজেদের জন্য ও আপনজনের জন্য কিছুনা কিছু কেনার চেষ্টা করেন। এতে ব্যাবসায়ীদের বেচা-বিক্রিও বেশ ভাল হয়।

বাহারী পোশাকে ঠাসা দোকানগুলো
ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন ডিজাইনের বাহারীসব পোশাকে ঠাসা রাজধানীর শপিংমলগুলো। ফ্যাশন হাউজগুলো তাদের নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এসেছে বাজারে। আর অন্যান্য সাধারণ দোকানীরা ক্রেতা চাহিদা লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন ধরণের পোশাকের সমাহার ঘটিয়েছে। রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, পলওয়েল, গুলিস্তান, পল্টন, পীর ইয়ামেনীসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে প্রায় প্রত্যেকটি দোকানেই স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুন বেশি পোশাক সংগ্রহ করে রেখেছে ব্যাবসায়ীরা। বাজার ঘুুরে দেখা গেছে এবার ছেলেদের বিভিন্ন স্টাইলের জিন্স, টিস্যু, গ্যাভাডিনসহ ফরমাল প্যান্টের চাহিদা বেশি। এছাড়া অত্যাধুনিক ও মনকাড়া দেশীয় ডিজাইনের শার্ট, পাঞ্জাবী,ফতুয়া বিক্রি হচ্ছে বেশী।

অন্যদিকে মেয়েদের পোশাকের মধ্যে ফুল হাতা লং কামিজ, আনস্টিচ থ্রি পিস, লেহেঙ্গা, শাড়ির মধ্যে জামদানী, কাতান ইত্যাদির চাহিদা তুঙ্গে। তাছাড়া প্রতিবারের ন্যায় এবারও মেয়েদের ঈদ বাজারে দাপটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে পার্শ্ববর্তী দেশ ও হিন্দী সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের নামকরণ অনুযায়ী ডিজাইন করা পোশাকগুলো।

বিক্রি বেশি ছোটদের পোশাক, ভীড় বেশি কসমেটিক্সের দোকানে
রাজধানীর শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ঈদঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মার্কেটগুলোতে ভীড় বাড়লেও বেচা-বিক্রি তুলনামুলক কম। তবে ছোটদের পোশাক ও জুতা বেশি বিক্রি হচ্ছে। এব্যাপারে মৌচাক মার্কেটের এক দোকানী জাস্ট নিউজকে জানান,  ঈদে সাধারণত ছোটদের আনন্দটাই থাকে আলাদা। শপিং নিয়ে ছোট বাচ্চাদের আবদার থাকে শক্তিশালী। তাছাড়া সব বাবা-মা ই নিজেদের চেয়ে সন্তানের পছন্দটাকে গুরুত্ব দেয় বেশি। সেজন্য সবাই বাচ্চাদের শপিংগুলোই আগে ভাগে সেরে নেয়।  অন্যদিকে মার্কেটগুলোতে মহিলাদের নানারকম প্রসাধনী, ব্যাগ ও চুড়িসহ বিভিন্ন দোকানে ভীড় তুলনামুলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া রেডিমেড পোশাকের পাশাপাশি থান কাপড়ের দোকানেও বেচা-বিক্রি কম নেই। বিক্রেতারা জানান, অনেকে  রেডিমেড পোশাকের চেয়ে অর্ডার দিয়ে পোশাক তৈরি করে নিতে পছন্দ করেন।  আর  ঈদের সময় সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকেই দর্জি বা টেইলার্সের দোকানে আর অর্ডার নিতে চায়না। সেজন্য আগে ভাগে রেডিমেড পোশাকের চেয়ে কাটা বা গজ কাপড়েরর দোকানগুলোতে তুলনামুলক বেচা-বিক্রি বেশি।

তবে এ মুহূর্তে বেচা-বিক্রি যাই হোক দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে গতবারের চেয়ে এবার ঈদে অনেক ভালো বিক্রি হবে এমনটাই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০১৪

রমজানে নিরাপত্তায় বাড়ানো হয়েছে কমিউিনিটি পুলিশিং কার্যক্রম

আকতার হোসেন : পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর নির্বিঘেœ পালন করতে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রহণ করা হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। নগরবাসীর নিরাপদে চলাফেরা, কেনাকাটা, ইবাদত বন্দেগী করতে বাড়ানো হয়েছে কমিউিনিটি পুলিশের কার্যক্রম। সে সাথে বাড়ানো হয়েছে ভেজাল বিরোধী অভিযান, চেকপোষ্ট ও মোবাইলকোর্ট।

মুসলমানদের কাছে রমজান মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। নগরীতে অন্তত একটি মাস হলেও শান্তিতে চলাফেরা এবং ইবাদত বন্দেগী করতে চায় মানুষ। আর এরপরই রয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ উৎসব ঈদ। এ ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের প্রস্তুতি থাকে যেমন, তেমনি ভোগান্তিও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে লাখো ঢাকাবাসী। ফাঁকা হয়ে যায় ব্যস্ত নগরী ঢাকা। আর এ সুযোগে চুরি ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটে ফি বছর। ঈদকে সামনে রেখে রাস্তাঘাটে অসহনীয় যানজট, খাদ্যে ভেজাল, দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতি, অতি মুনাফালোভীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াও মলম পার্টি অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। এসব থেকে নাগরিকদের মুক্তি দিতে প্রতিবছরই নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে প্রশাসন।

পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরেও বাড়তি ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জাস্ট নিউজকে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।

তিনি বলেন, আসন্ন রমজানে নগরবাসী যেন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে, নির্বিঘেœ শপিং করতে পারে, নিরাপদে ইবাদত বন্দেগী করতে পারে সে জন্য ডিএমপি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে কমিউিনিটি পুলিশের কার্যক্রম।

মাসুদুর রহমান বলেন, রমজান মানে ফরমালিন য্ক্তু ফলমুল ও সব্জি যাতে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, অসা¯্য’কর খাদ্য সরবরাহ ও অতিরিক্ত পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সেখানে দোষীদের জেল জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া যানজট নিরসনেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাস্তাঘাটগুলোতে অবৈধ পার্কিং, ফুটপাতে দোকান উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

এছাড়াও রমজানে ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকগুলোতে লেনদেনের সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ সহায়তা থাকবে। তিনি বলেন, ব্যাংক এবং ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করব বড় ধরণের টাকা লেনদেন করার পূর্বে তারা যেন নিকটস্থ থানাকে অবহিত করেন।

বাসা-বাড়ি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিরাপত্তা এলার্ম এবং গাড়িতে জিপিএস ব্যবহারের আহবান জানান তিনি।

পুলিশের এসব নিরাপত্তা ব্যাবস্থা পুরো রমজান জুড়ে এবং আগামী ঈদ উদযাপন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও জানান উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান।

মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৪

বাঙ্গালী সংস্কৃতির শেকড় পহেলা বৈশাখ, আমাদের প্রাণের উৎসব

আকতার হোসেন:
সেই ছোটবেলা থেকেই দেখতাম যে, বছরের নির্দিষ্ট একটি দিন এলেই সকালে মা আমাদের সকল ভাইবোন কে  ডেকে কড়া ভাষায় বলে দিতেন। এই আজ কিন্তু সারা দিন কেউ কারো সাথে ঝগড়া করবি না, দুষ্টুমিও করবি না। মায়ের কথা শুনে বুঝতাম আজকে কোন বিশেষ দিন হবে হয়তো যার কারনে ম্পেশাল ভাবে আজকেই এই দিনটিতে কারো সাথে ঝগড়া করা যাবে না, ভালো ভাবে চলতে হবে। এবং সেই আলোকেই সারা দিন ভালো থাকার চেষ্টা করতাম।

গ্রাম গঞ্জে একধরনের কথা প্রচলিত আছে, যে বছরের প্রথম দিন যা করবে, সারা বছরও তাই করতে হয়।  কিন্তু কালের পরিক্রমায় দিনের আবর্তে এখন বুঝতে পারছি যে মায়ের বলা স্পেশাল সেই দিনটি হচ্ছে আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতির শেকড়, চেতনার আধার পহেলা বৈশাখ। বাংলা বছরের প্রথম দিন। যা আমরা বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালন করি।
শহুরে জীবনে প্রবেশের পর আরেকটি সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হলাম তা হলো বছরের একটি নির্দিষ্ট দিন এলেই পান্তা ইলিশ খাওয়ার একটা ধুম পড়ে যায়।

বছরের অন্যান্য দিনে যে ছেলেটি বা মেয়েটি ফাস্ট ফুডে মজে থাকে সেদিন তারা পান্তা খাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে। ওয়েস্টার্ন পোষাকে আগ্রহী যুবকরা পাজামা পাঞ্জাবী পরে আর যুবারা লাল সাদা বাসন্তী রঙ্গের শাড়ী পরে খোপায় ফুল গেথে পরিবেশটাকে রাঙিয়ে তোলে। সবত্রই একটা সাঝ সাঝ রব, উৎসবের আমেজ।

যাই হোক উৎসবের ধরণটা যেমনই হোক গ্রীষ্মের তীব্র খড়তাপের এই দিনটিতে পুরনো একটি বছরকে ইতিহাসের ঝুড়িতে ফেলে আরেকটি নতুন বছরের আগমন ঘটে আমাদের মাঝে। আমরাও অতীতের সব দু:খ বেদনা, ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে গিয়ে নতুন আগামীর স্বপ্নে বিভোর হয়ে বরণ করে নেই নতুন বছরটিকে। আশায় থাকি সামনের দিনগুলি যেন হয় অনাবিল সুখ সমৃদ্ধি আর আন্দন্দের। সেই সাথে শপথ নেই সকল প্রকার হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেস ভুলে গিয়ে নতুন ভাবে নব উদ্যোমে সামনে চলার।

বর্ষ বরণের এই রেওয়াজ শুধু আমাদের দেশে বা শুধু বাঙ্গালী জাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্ষবরণের রেওয়াজ পৃথিবীর প্রধান প্রধান সকল ভাষা ও জাতির মধ্যেই রয়েছে। বৈশাখ এলেই আমাদের মাঝে উৎসবের রোল পড়ে যায়। শুরু হয় ব্যপক আয়োজন।

নব বর্ষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস : অন্যান্য জাতির ন্যায় আমরাও বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনার মাদ্যমে  ১লা বৈশাখকে বরণ করে নেই। কিন্তু এই নব বর্ষের প্রকৃত ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না।
মুঘল আমলে এই উপমহাদেশ  ছিল সম্পূর্ণ কৃষি নির্ভর। তৎকালীন শাষকরা কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের একটা রেওয়াজ ছিল। সেই সময় কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হতো হিজরী সনের অনুযায়ী। কিন্তু  এতে সমস্যা হলো হিজরী সনের প্রথম দিন একেক বছর একেক সময় আসে। যা আমাদের দেশের কৃষি প্রকৃতির সাথে তেমন সামঞ্জস্য ছিল না। ফলে অনেক সময় কৃষকের ফসল হীন অবস্থায়ও খাজনা দিতে হতো। ১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবর ক্ষমতা গ্রহনের পর দেখলেন, অকৃষি মৌসুমে কৃষকদের খাজনা দিতে খুবই কষ্ট হতো। তাছাড়া সম্রাটের পক্ষেও খাজনা আদায় সম্ভব হত না। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক কাজে সমস্য দেখা দিত।  তাই এ সমস্যা সমাধানে সম্রাট আকবর সে সময়ের বিশিষ্ট পন্ডিত ফতেহ উল্লাহ সিরাজীকে বাংলার ঋতুর সাথে তথা ফসল তোলার মৌসুমের সাথে মিল রেখে একটা নতুন দিনপঞ্জি তৈরীর  নির্দেশ দেন। পরে ফতেহউল্লাহ সিরাজী ইংরেজী ও হিজরী সনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং কৃষকদের অনুকুলে বাংলার প্রকৃতির সাথে মিল রেখে একটি নতুন দিন পঞ্জি তৈরী করলেন। 
আর বিশাখা নামক নক্ষত্রের নামের সাথে মিল রেখে প্রথম মাসের নাম দিলেন বৈশাখ। তবে এখানে একটা লক্ষনীয় ব্যাপার হলো যে দিন থেকে এই দিন পঞ্জি প্রবর্তন হলো সে দিন থেকে কিন্তু বাংলা বর্ষের দিন গননা শুরু হয়নি। হয়েছে তারও আগে সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সময় থেকে।

ফতেহউল্লাহ সিরাজী দিন পঞ্জি তৈরী করেন ১৫৮৪ সালের ১০ কি ১১ মার্চ কিন্তু বাংলা সন গণনা শুরু করেন ১৫৫৬ সাল থেকে অর্থাৎ সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহনের সময় থেকে। আর যেহেতু বাংলা দিনপঞ্জি তৈরী করা হয়েছে হিজরী এবং ইংরেজী  সনের সাথে সামঞ্জস্য  রেখে সেহেতু বাংলা সন এবং ইংরেজী সন খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। আরেকটি তথ্য হলো বাংলা সন সব সময় ইংরেজী সন থেকে ৫৯৩ বছর পিছিয়ে থাকবে। সে অনুযায়ী কেউ যদি বর্তমানে বাংলা সন কত তা জানতে চায় তাহলে বর্তমানের ইংরেজী সন থেকে  ৫৯৩ বিয়োগ করলেই বাংলা সন পেয়ে যাবেন।

আরেকটি মজার তথ্য হলো আমাদের বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ সব সময়  ১৪ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভারতে এমনটি হয় না। সেখানে কখনো ১৪ এপ্রিল আবার কখনো ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। এর কারণ হলো ইংরেজী সনে লিপ ইয়ারের কারনে কখনো একদিন বেড়ে যায়। আর আগে বাংলা সনে কোন লিপ ইয়ার ছিল না। ফলে বাংলা দিনপঞ্জিতে একদিন হেরফের হয়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষে আমাদের দেশে ১৯৬৬সালের ১৭ ই ফেব্রুয়ারি ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি বাংলা সনকে সংশোধন করেন।

পরবর্তীতে ১৯৮৭ সন থেকে বাংলাদেশে নতুন দিনপঞ্জি  অনুযায়ী  দিন গননা করা হয়। আরো একটি তথ্য হলো আমরা বাংলা নব বর্ষের প্রকৃত ইতিহাস হিসেবে আকবরীয় ধারনাকেই  মানি। ভারতে কিন্তু তা মানা হয় না। বরং তারা রাজা শশাঙ্কের সময়ের ইতিহাসকে বাংলা ক্যালেন্ডারের ইতিহাস হিসেবে মনে করে। যার শাষন কাল ছিল ৫৯০ থেকে ৬২৫ খৃষ্টাব্দের মাঝামাঝি।
নব বর্ষের যত আয়োজন:  আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিতে বাংলা বর্ষ বরণ অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ একটি বৃহত ও জাতীয় উৎসব। ছোট বড়, ধনী-দরিদ্র, হিন্দু-মুসলিম, শহর গ্রাম নির্বিশেষে সকল গোত্র বর্ণের বাঙ্গালীর প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে প্রাচীন অনুষ্ঠান “হাল খাতা”। যুগ যুগ ধরে আমাদের সংস্কৃতিতে যে পদ্ধতিটি চলে আসছে তা হলো হাল খাতা। হাল খাতা পহেলা বৈশাখেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদিন গ্রামে গঞ্জে শহরের প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা তাদের পুরোনো বছরের সকল হিসাব নিকাশ শেষ করে বকেয়া টাকা আদায় করে। নতুন বছরের নতুন খাতা উদ্বোধন করা হয়। তাই ব্যবসায়ীদের কাছে দিনটির তাৎপর্য অনেক। এ উপলক্ষে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় মিলাদ মাহফিল, মিষ্টি বিতরন করা হয়।

সব মিলিয়ে একটি উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও গ্রামে গঞ্জে শহরে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজন করা করা বৈশাখী মেলার। বৈশাখী মেলা এ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির শেকড়। মেলা গুলোতে মুড়ি মুরকি আর বাহারী খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে বিক্রেতারা। সেই সাথে নানা ধরণের গ্রাম্য মিস্টান্ন, পোড়া মাটি দিয়ে তৈরী বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলা সামগ্রী, মেয়েদের সাঁঝগোজের বিভিন্ন আইটেম পাওয়া যায় মেলা গুলোতে। এছাড়াও বিনোদনের জন্য নাড়র দোলা, চড়কা ঘোরা, পুতুল নাচসহ বিভিন্ন আকর্ষনীয় গ্রাম্য খেলার আয়োজনতো থাকেই। তবে বর্তমানে গ্রামে গঞ্জে এধরণের মেলা অনেকটা খেই হারিয়ে ফেলছে। বৈশাখী মেলার নামে মাঝে মাঝে অশ্লীল নৃত্য আর জুয়ার আসরের খবরও পাওয়া যায় মাঝে মাঝে।

তবে শহরজীবনে একটু আলাদা আঙিকে বৈশাখী মেলার কদর বাড়ছে দিন দিন। পহেলা বৈশাখে শহরে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় আনন্দ উৎসবের নতুন মাত্রা যোগ করে। রং বেরং এর পোষাক পরে ছেলে মেয়েরা রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান গুলোতে সেদিন উপচেপড়া ভীড় লক্ষ করা যায়। ঢাকায় পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় আয়োজনটি হয় রমনাতে। রমনা পার্কের বটমূলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংঘটন অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বের হয় মঙ্গল সোভাযাত্রা। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেনী পেশার নারী পুরুষ।

এছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন এলাকায় বা পার্কে বিশেষ কনসার্ট, অনুষ্ঠান, সেমিনার র‌্যালীর আয়োজন করে। পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড় পত্র প্রকাশ করে। টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলো পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্রকরে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান নির্মান ও প্রচার করে থাকে।

ভোজের আয়োজন: পহেলা বৈশাখের ভোজন পর্ব একটি অপরিহার্য  আয়োজন। ভোজন বিলাসী বাঙ্গালীর সারা বছর পছন্দের তালিকায় চাইনিজ আর ফাষ্ট ফুড থাকলেও এই দিনটি একেবারেই আলাদা। এই দিনে পান্তা, ইলিশ আর কাচা মরিচ, পেয়াজের কদর বেড়ে যায় বহুগুন। পান্তা ইলিশ ছাড়া যেন পহেলা বৈশাখ পালনই হয়না । এমনকি রাজধানীর বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট গুলোতেও পান্তা ইলিশের বিশেষ প্যাকেজ ও ছাড় চোখে পড়ার মতো।

পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ। পহেলা এলেই আমরা একদিনের জন্য বাঙ্গালী সাজার চেষ্টা করি। অথচ সরা বছর ভীনদেশী সংস্কৃতি আর অনুষ্ঠান নিয়ে মত্ত থাকি। নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আর সংস্কৃতিকে  ভুলে থাকি। তাই এই পহেলা বৈশাখে আমাদের শপথ হোক শুধু মাত্র একদিনের বাঙ্গালী সাঁজার চেষ্টা না করে বরং আমরা সারা বছরই বাঙ্গালী থাকবো। বাংলা সংস্কৃতির চর্চা করবো।

নব বর্ষের মানুষের চিরন্তন অভিলাষ সামনের বছরটি যেন ভাল কাটে। আমাদের ও প্রত্যাশা আগামীদিন গুলো আমাদের সকলের জন্য বয়ে আনুক অনাবিল সুখ,সমৃদ্ধি আর শান্তি। আগামী বছরটি সকলের ভাল কাটুক এই কামনায় শেষ করছি । সবাইকে শুভ নববর্ষ।

বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

সাকরাইন উৎসব: গোধুলির আকাশে রঙিন ঘুড়ি আর রাতের আকাশে আতশবাজি

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি (জাস্ট নিউজ):  সাকরাইন উৎসব পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোর মধ্যে একটি। এটি পালিত হয় পৌষ মাসের শেষ দিনে। সেদিন পুরান ঢাকার আকাশে শোভা পায় নানান রঙ বেরঙ এর ঘুড়ি আর রাতের অন্ধকার মাৎকরে সোভাপায় আতশবাজীর আলোর ঝলকানি।

সাধারণত প্রতিবছর ১৪ বা ১৫ই জানুয়ারি পৌষের শেষ দিনে অর্থাৎ পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে ঢাকাবাসি।  বয়স ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পুরান ঢাকার ছেলে-বুড়ো সবাই শামিল হয় এই উৎসবে। দূর হয়ে যায় প্রজন্মের ব্যবধান; নাটাই হাতে পিতাপুত্র নেমে পড়ে ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতায়। মেতেওঠে ঘুড়িতে ঘুড়িতে প্যাঁচকষা আর কাটাকাটির খেলায়। সুতোয় মাঞ্জামেরে দিনভর চলে এই খেলা।

এরপর একসময় সূর্যিমামা বিদায় নিলে যখন বাংলার আকাশে নেমে আসে ঘণকালো অন্ধকার তখন শুরু হয় আতশবাজীর আলোর ঝলকানি আর বাড়ির ছাদে ছাদে চলে আনন্দ উৎসব।  তরুনরা আতশবাজী পোড়ায় ও মুখে কেরোসিন তেল নিয়ে আগুন দিয়ে চমৎকার এক ধোঁয়ার কু-লী তৈরী করে আকাশে ছেড়ে দেয়।


ইতিহাসের পাতায় সাকরাইন উৎসব:

পৌষ মাসের শেষ দিন সাকরাইনে নতুন ধানের চালের পিঠাপুলি খেয়ে, ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ উৎসব করার রেওয়াজ বহু পুরনো। ঢাকায় এই উৎসব হচ্ছে প্রায় ৪০০ বছর ধরে। বাংলাদেশের পুরানো ঢাকায় ঘুড়ি ওড়ানো বিনোদন শুরু হয়েছিল মুঘল আমলে।  কথিত আছে, ১৭৪০ সালে নবাব নাজিম মহম্মদ খাঁ এই ঘুড়ি উৎসবের সূচনা করেন। সেই থেকে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এই ঘুড়ি উৎসব পশ্চিম ভারতের গুজরাটেও পালিত হয়। সেখানে মানুষ সুন্দর সুন্দর ঘুড়ির মাধ্যমে সূর্যদেবতার কাছে নিজেদের ইচ্ছা ও আকুতি প্রেরণ করেন। উত্তর ভারতীয় এ ঘুড়ি উৎসবটিকে স্থানীয়রা 'সাকরাইন' নামে অভিহিত করে।

অতীতে সাকরাইনে পুরান ঢাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের নাটাই, বাহারি ঘুড়ি উপহার দেওয়া এবং পিঠার ডালা পাঠানো ছিলো অবশ্য পালনীয় অনুসঙ্গ। ডালা হিসেবে আসা ঘুড়ি, পিঠা আর অন্যান্য খাবার বিলি করা হতো আতœীয়-স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে। একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলতো কার শ্বশুরবাড়ি হতে কত বড় ডালা এসেছে। আজ এই সব চমৎকার আচারগুলো বিলুপ্ত হতে চলেছে। পুরান ঢাকার আদি বসবাসকারী সকল মানুষ আজও এই ঐতিহ্যগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেন।

বাহারী যত  ঘুড়ি : 
সাকরাইন উৎসবের দিন সারাদিন আকাশে উড়ানো হয় নানান রঙের , নানান আকারের বিচিত্রদর্শন সব ঘুড়ি। দেখতে যেমন তাদের নামও তেমন বাহারি- গাহেল, চোখদার, চানদার, নাকপান্দার, ভোয়াদার, কাউঠাদার, চিলা, চাপরাস, মাখখি আরও কত কি!

এদিন আকাশে উড়ে চোখদ্বার, মালাদ্বার, পঙ্খীরাজ, চশমাদ্বার, কাউঠাদ্বার, চাপালিশ, চানদ্বার, এক রঙা ইত্যাদি ঘুড়ি। এমনকি জাতীয় পতাকার রঙেও তৈরি করা হয় ঘুড়ি । তবে ঘুড়ির চেয়েও সুন্দর হয় এর লেজ। লেজ অনেক আকৃতির ও রঙ বেরঙ এর হয়ে থাকে। ঘুড়ির সঙ্গে সঙ্গে নাটাইগুলোর নামও বেশ মজাদার। বাটিওয়ালা, মুখবান্ধা, মুখছাড়া ইত্যাদি।

সাকরাইনের উপায় উপকরণের খোজ খবর:
সাকরাইন উৎসবের অন্যতম প্রধান অনুসঙ্গ হলো ঘুড়ি। আর শাঁখারিবাজার হচ্ছে ঘুড়ি-নাটাই-সুতার সবচেয়ে বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার। ঘুড়ির দাম শুরু হয় ২ টাকা থেকে । আছে ২৫০-৩০০ টাকার ঘুড়িও। নাটাইয়ের দাম নির্ভর করে তার আকার আকৃতি ও ফিনিশিং এর উপর। পাওয়া যাবে ৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার ভিতর। নিনজা, ড্রাগন , হ্যামার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাটাকাটি খেলার উপযোগী ধারালো মাঞ্জা সুতা পাওয়া যাবে ৬০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।


বর্তমানে যেমন আছে সাকরাইন:
সময়ের সাথে সাথে সাকরাইন উৎসবেও এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। এক সময়ের চকলেট, শলতা আর পাটকার আধিপত্য ছাপিয়ে এখন আতশবাজির জয়জয়কার! মাইকের জায়গা দখল করে নিয়েছে ডিজে। সাকরাইন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলেও এই উৎসবটি আর আগের মত জানান দিতে পারছেনা নতুন প্রজন্ম বিশেষ করে তরুনদের মনে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ছোবলে বাংলার প্রাচীন অনেক উৎসবের মতোই সাকরাইও হারাতে বসেছে তার মাধুর্য্য। গুটিয়ে আসছে তার পরিধি।

তবে উৎসবের অনুষঙ্গে পরিবর্তন এলেও আমেজ আর আবেগটা এখনও রয়ে গেছে আগের মত। যান্ত্রিক এই নগরজীবনে তার আবেগ, তার আমেজ নিয়ে বেঁচে থাকুক সাকরাইন।


লেখক: আকতার হাবিব
জাস্ট নিউজবিডি ডটকম
সূত্র: উইকিপিডিয়া, ব্লগ

ছুটির দিনে বইপ্রেমীদের উপচেপড়া ভীড়

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি (জাস্ট নিউজ): ছুটির দিনে পুরো পুরি জমে উঠেছে বই প্রেমীদের প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থ মেলা। মেলা শুরু হওয়ার পর আজই প্রথম সরকারি ছুটির দিন। আর ছুটির দিনে ব্যস্ততা কম থাকায় বইয়ের টানে মেলায় ছুটে আসছে বই প্রেমীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেলাকে কেন্দ্রকরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকার রাজু ভাস্কর্য থেকে বাংলা একাডেমী পর্যন্ত অপরদিকে দোয়েল চত্তর পর্যন্ত পাঠকদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। আর মেলা প্রাঙ্গনও ছিল কানায় কানায় পূর্ন। যেন তিল ধারণের ঠাইনেই। সন্ধ্যা গড়াতেই পাঠকের ভীড় যেন বাড়ছেই। বেচা কেনাও চলছে সমান গতিতে।

মেলায় আগত দর্শক সমাগম দেখে আশাবাদী হয়ে উঠছে প্রকাশকরা। চারুলিপি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী হুমায়ূন কবীর জানান, ‘মেলার প্রথম শুক্রবার আমাদের জন্য এক ধরনের পর্যবেক্ষণের দিন। দিন শেষে বলতে পারব এবারের মেলা সফলতার মুখ দেখবে কি না?’ আশা করছি বেচা কেনাও ভালই হবে।

সেবা প্রকাশনীর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আবদুস সালাম জানান, অন্য দিনগুলোতে মানুষ বেশি ব্যস্ত থাকায় তারা শুক্রবার বা ছুটির দিনগুলোতেই মেলায় ভিড় করেন। তাই ছুটির দিনে স্বাভাবিক ভাবেই বেচা বিক্রি বেশি হয়।

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী আফসানা জানান, পুরো সপ্তাহ জুড়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই শুক্রবার নিজেদের ফ্রেশ করতেই বইমেলাতে আসি। ঘুরে ফিরে পছন্দমতো বইও কিনি।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দিয়ে মেলার দিন শুরু হলেও সর্বসাধারণের জন্য মেলার প্রবেশ দ্বার খুলে দেওয়া হয় ১১টায়। শুরুতে দর্শক সমাগম কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। দুপুর গড়াতেই বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বইপ্রেমী মানুষ আসতে থাকে।