ছবির মতোই সুন্দর ছিল আমার গ্রামটা...

বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচলের কোন উপায় থাকতোনা। যেন মহসড়কের পাশে বিচ্ছিন্ন ছোটএকটা দ্বীপ।

সমস্যা যত বড়ই হোক, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে

আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জের সব দর্শনীয় স্থানে

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলায়ই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। যা আমাদের দেশকে করেছে আরো সমৃদ্ধ। শত বছর ধরে লাখো পর্যটককে করেছে আকৃষ্ট।

মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম: ফাদার তেরেসা

অসহায়, দুস্থ মানুষের সহায়তাই তার ধ্যান-জ্ঞান।সহিংসতার বিপরীতে তিনি অসহায়ের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।তিনি পাকিস্তানের আবদুল সাত্তার ইদি।অসম্ভব মানবসেবার কারনে ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার দেশে ফাদার তেরেসা নামেই বেশি পরিচিত।

‘মানসিক প্রশান্তির জন্য সাইকেল’

যাত্রা পথে পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তা আর ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে বিকল্প হলো একটা বাই সাইকেল। তাছাড়া ইদানিং স্বাস্থ্যটার দিকেও মনে হচ্ছে একটু যত্ন নেয়া দরকার।

বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৭

হাওরবাসীর দুর্দিন: জনসাধারনের ত্রাণ তৎপরতা কই?

প্রকৃতির বৈরিতায় নিঃস্ব হাওরের লাখো মানুষ। বৃষ্টির পানি আর উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭ জেলার ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা। নষ্ট হয়েছে কৃষকের প্রায় পেকে যাওয়া একমাত্র ফসল ধান। প্রকৃতির এই আচরণে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব হাওরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ।



শুধু একমাত্র ফসল ধানই নয়, বিষাক্ত পানিতে মারা পড়ছে টনের পর টন মাছ। মারা যাচ্ছে হাস মুরগীর মতো গৃহপালিত পশুও। ফলে হাওরের এইসব কৃষিজীবি মানুষদের চোখেমুখে এখন শুধু অন্ধকার। 




একটি বেসরকারি টিভি প্রতিবেদনের দেখলাম, একজন বয়োবৃদ্ধ কৃষক  তার দু:খ কষ্টের কথা বলতে গিয়ে বলছেন, ‘ মনে কয়, পানিতে ঝাঁপ দিয়া মইরা যাই, পোলাপাইন লইয়্যা এখন কেমন চলমু, কী খাওয়ামু’  তার এমন দুর্দশার কথাশুনে  মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো। 



কৃষি নির্ভর আমাদের এই দেশে,দুর্ভিক্ষের  যে পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে, তা থেকে হয়তো বাঁচতে পারবোনা আমরাও। কারন সব সময়ই দেখে আসছি, কারনে অকারনে সময়ে অসময়ে কোন কারন ছাড়াই বাড়ে দ্রব্যমুল্য। আর ধান বা চালতো আমাদের নিত্য আহার। তাই ধানের সবচেয়ে বড় যোগান আসে যে এই হাওরাঞ্চল থেকে। মৌসুমের শেষ দিকে এসে প্রকৃতির এমন আকস্মমিকতায় যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে সাড়ে তিন লাখ মানুষের সে বিপর্যয় যে কিছু দিনের মধ্যেই ১৬ কোটি মানুষকেও গ্রাস করতে পারে, সে আশংকা অন্যায্য নয়।



এরই মধ্যে একটি আশা জাগানিয়া খবর পেলাম তা হলো,হাওরবাসীর এই দুর্দিনে এগিয়ে গেছে আমাদের সরকার। মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী জানিয়েছেন, হাওরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও ৫’শ টাকা অর্থ সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবং আগামী মৌসুম পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। জাতীয় এ দুর্যোগে সরকারের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসীয়।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সরকারের এই ত্রাণ কতটা পর্যাপ্ত। যারা ধারকর্জ করে ধান চাষ করেছিলেন,তাদের কী হবে? 



তবে,সরকারের একার পক্ষেত আর এত বৃহৎ জনগোষ্ঠির সব চাহিদা মেটানো কখনোই সম্ভব নয়।তবে আমাদের সবার অংশগ্রহনে ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা যায় তাহলে হয়তো সেই দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব হবে। 



এছাড়া অতীতে, শীত  মৌসুমে বা বড় দূর্যোগের সময়ও আমরা দেখতে পেয়েছি, আমাদের শহুরে মানুষদের অনেকেই যার যার সাধ্যমতো ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে যায়, কেউ কেউ হয়তো লোক দেখানো সহায়তা নিয়েও যায়। কিন্তু এবারের এই জাতীয় দূর্যোগে সেই চিত্র অনেকটাই কমই দেখতে পাচ্ছি।



তাই সবার প্রতি আহ্বান জানাবো, হাওরবাসীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এখনই আমাদের উচিৎ সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।  প্রয়োজনে শীতবস্ত্র সংগ্রহের মতো যৌথভাবে  ফান্ড সংগ্রহ করে, খাদ্য সামগ্রী ও অন্যান্য সহযোগিতা দুর্গতদের মাঝে পৌঁছে দেয়া যেতে পারে।



আর  যেসব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হারওরের কৃষকদের মাঝে বীজ, সার, কীটনাশক বিক্রি করে, তাদের প্রতিও আহ্বান জানাবো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূর্বেকার ঋণ মওকুফ করে, আগামী মৌসুমে ফ্রি-তে বীজ সার বিতরন করবেন।


- আকতার হাবিব
সাংবাদিক, রেডিও ধ্বনি,ঢাকা।

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

সৌরবিদ্যুত বদলে দিচ্ছে কুষ্টিয়ার কৃষকদের ভাগ্য

সোলার প্লান্টে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। সৌরশক্তিনির্ভর কৃষি প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে কৃষকের ভাগ্য। বিদ্যুতের লোডশেডিং, বাড়তি বিলের বোঝাসহ লো-ভোল্টেজের ভয়ে এখন ভীত নয় কৃষক। আর সেচপাম্প চালাতেও দরকার পড়ছে না ডিজেলের। সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজন মতো জমিতে সেচ দিচ্ছে।
সনাতন পদ্ধতিকে পেছনে ফেলে সৌর শক্তি নির্ভর সেচ প্রযুক্তির দিকে ছুঁটছে এখন প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক। সৌরবিদ্যুত চালিত সেচ পাম্পের সফলতায় আশার আলো খুঁজে পেয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃষকরা। সুইচ টিপেই পানি পেয়ে তারা নিজেরাও বেজায় খুশি।
জানা যায়, কৃষকদের সেচ কাজের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে রহিম আফরোজ ফাউন্ডেশন ও আরডিএফ সোলার ইরিগ্রেশন পাম্পিং সিস্টেমের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে সৌরবিদ্যুত চালিত ডিপ সেচ পাম্প পদ্ধতি।
আগে মিরপুর উপজেলার নওদাআজমপুর ও বুরাপাড়া এলাকার মানুষের সেচ কাজের জন্য বৈদ্যুতিক মোটর ও শ্যালো ইঞ্জিন চালিত সেচ পাম্প ব্যবহার করতো। এর ফলে কৃষকের আবাদ খরচ বৃদ্ধি পেত। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত সেচের অভাবে অনেক জমি অনাবাদী থাকতো।
কৃষকদের এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নওদাআজমপুর ও বুরাপাড়া মাঠে স্থাপন করা হয় ২টি সৌরবিদ্যুত চালিত সেচ পাম্প। এ অঞ্চলে এখন প্রায় ৫০০ একর ফসলী জমিতে পানি সরবরাহ করছে এই সেচ পাম্প। ফলে ভুক্তভোগী কৃষকরা এখন কোনো প্রকার বিপত্তি ছাড়াই তাদের জমিতে সেচ কাজ চালিয়ে উপকৃত হচ্ছে।
নওদাআজমপুর এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান জানান, এবার তিনি বোরো চাষ করেছেন সৌর বিদ্যুতের সহায়তায়। এ এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং প্রায় নিত্য দিনের। লো-ভোল্টেজ এর কারণে মোটর চালানো যেতো না। তারপর ঘন ঘন লোডশেডিং এর ফলে নষ্ট হয়ে যেতো পাম্প। এদিকে বিদ্যুতের মূলও প্রায় আকাশ ছোঁয়া। এখন সৌরবিদ্যুৎ পাম্পের ফলে প্রয়োজন মতো জমিতে সেচ দেওয়া যায়। সেচের মূল্যও বেশি না। আর সময় মতো সেচ দেওয়ার সু-ব্যবস্থা থাকায় যে জমিতে বছরে একবার ফসল চাষ হতো সে জমিতে বছরে তিনবার ফসল চাষ করা যাচ্ছে।
শুধু নওদাআজমপুর মাঠেই নয় উপজেলার চিথলিয়া মাঠে চালু হয়েছে ৩টি, নওয়াপাড়া মাঠে ১টি সৌরবিদ্যুৎ সেচ প্রকল্প। এতে একদিকে যেমন বিঘা প্রতি সেচ খরচ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা কমে এসেছে অন্যদিকে সময়মত পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ফসলের উৎপাদনও বেড়েছে।
মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, রহিম আফরোজ ফাউন্ডেশন ও আরডিএফ সোলার ইরিগ্রেশন পাম্পিং সিস্টেমে এ ধরনের সৌর বিদ্যুৎ সেচ প্রকল্প চালু করেছে। এ সেচ প্রকল্পে খরচ অনেক কম। সারা বছরই সেচ কাজ চালানো যায় এবং এটা পরিবেশ বান্ধব। বিএডিসি (সেচ) এর সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সেচ পাম্প চালাতে হলে প্রয়োজন নেই তেল কিংবা বিদ্যুতের। প্রয়োজন নেই এনার্জি রিজারর্ভার হিসেবে ব্যাটারি। শুধু প্রয়োজন সূর্যের আলো। সৌরশক্তিকে সরাসরি ব্যবহার করে কৃষক তার জমির সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবে।
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, মাঠে মাঠে এ ধরনের সৌর বিদ্যুৎ পাম্পের ফলে কৃষকদের কৃষি সেচ কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে। তারা বর্তমানে আর বিদ্যুতের উপর নির্ভর করছে না। এতে খরচও তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে।

মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন জানান, বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী। সরকার দেশের কৃষি খাতকে আরো উন্নত এবং কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করতে এ ধরনের নানা মুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আর এ সৌর বিদ্যুৎ সেচ পাম্পের ফলে কৃষকরা প্রয়োজন মতো সেচ সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের ওপরও চাপ কমছে।

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৫

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বড় অর্জন: প্রাথমিকে বৃত্তি পেলো ৫৪,৪৮১ জন

২০১৪ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৫৪ হাজার ৪৮১ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান রবিবার দুপুরে বৃত্তির ফল ঘোষণা করেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এ বৃত্তির ফল ঘোষণা করা হয়।


বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) ২১ হাজার ৯৮৩ জন এবং সাধারণ কোটায় ৩১ হাজার ৪০৭ জন রয়েছে। সম্পূরক বৃত্তি পেয়েছে এক হাজার ৯১ জন।

সারাদেশে সর্বোচ্চ বৃত্তিপ্রাপ্ত ১০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১৪৫ জন বৃত্তি পেয়েছে।

প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইট   (www.dpe.gov.bd)  থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

সোমবার, ২ মার্চ, ২০১৫

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে সৌদি গমনেচ্ছু নারীকর্মীদের নিবন্ধন

আগামী ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে সৌদি আরব তথা বিদেশ গমনেচ্ছু নারীকর্মীদের নিবন্ধন কার্যক্রম।

প্রথম পর্যায়ে ১১ মার্চ পর্যন্ত শুধু ঢাকা বিভাগের বাসিন্দারা নিবন্ধন করতে পারবেন। এরপর ১২  থেকে ১৬ মার্চ রাজশাহী ও রংপুর, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম ও সিলেট এবং ২৪ থেকে ২৮ মার্চ খুলনা ও বরিশাল বিভাগে নিবন্ধন হবে।

পুরুষকর্মী এ দফায় নিবন্ধন করতে পারবেন না।

সোমবার রাজধানীর ইস্কাটনের প্রবাসীকল্যাণ ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রবাসী জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার।

তিনি জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের নগর তথ্যসেবা কেন্দ্রে এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে নিবন্ধন করা যাবে। প্রতি কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিবন্ধন চলবে। নিবন্ধনের জন্য ৩০০ টাকা খরচ হবে। এর মধ্যে সরকারি ফি ২০০ টাকা। ফরম পূরণে সহায়তার জন্য উদ্যোক্তাকে দিতে হবে ১০০ টাকা।
 
গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি আরব। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে জনশক্তি রফতানিতে চুক্তি করে সৌদি সরকার। ওই দিন বিনা খরচে সৌদি আরব যাওয়ার ঘোষণায় নিবন্ধন করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। ভিড় সামলাতে না পেরে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নিবন্ধন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, 'নারী-পুরুষ কর্মী একত্রে নিবন্ধন করায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই নারীদের জন্য আলাদা নিবন্ধন চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা গৃহকর্মী হিসেবে যেতে চান তাদের আলাদা নিবন্ধন করা হবে। নিবন্ধিতদের মধ্যে যারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবে তাদের ছয় সপ্তাহ গৃহস্থালি কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।'

এদিকে, সৌদি গেজেট সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী ৩ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী সৌদি আরবে পৌঁছতে পারে বলে আশা করছে দেশটি।
দেশটির ইস্টার্ন প্রভিন্সের রিক্রুটমেন্ট অফিসের একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরবে কাজের ভিসা দেওয়া শুরু হবে। - আকতারের ক্যানভাস

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

শেষ পর্যন্ত ৮’শ রিয়ালেই খুশি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ থেকে গৃহ খাতে কর্মী নিতে চুক্তি করেছে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ। কথা ছিল গৃহকর্মীরা ২৫ হাজার ২০০ টাকা (১২০০ রিয়াল) থেকে ৩১ হাজার ৫০০ টাকা (১৫০০ রিয়াল) বেতন পাবেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬ হাজার ৮০০ টাকায়ই (৮০০ রিয়াল) গৃহকর্মী পাঠাতে রাজি হয়ে গেছে বাংলাদেশ। আর গৃহকর্মী ছাড়া অন্যান্য খাতে কবে থেকে বা কতজন শ্রমিক নেয়া হবে সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় সফররত সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
প্রতিনিধিদলে সৌদি আরবের পক্ষে নেতৃত্বে দেন দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আহমেদ আল ফাহাইদ। আর বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে ইফতেখার হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, গৃহ খাতে মোট ১২টি পেশা রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আমরা নারী গৃহকর্মী পাঠানোর জন্য বেতন নির্ধারণ করেছি। সৌদি আরব নারী গৃহকর্মীদের থাকা খাওয়াসহ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা দিতে রাজি হয়েছে।

জানা গেছে, নির্যাতনসহ নানা কারণে ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা,নেপাল, ভারত, এমনকি ইন্দোনেশিয়াও এখন আর সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠাতে রাজি হচ্ছে না। আর এই কারণেই সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে নারী কর্মী নিতে চাইছে।
এরআগে সোমবার প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, ২৫ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৩১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে কোনোভাবেই কর্মী পাঠাবে না বাংলাদেশ। অথচ মাত্র এক দিনের মাথায় এত কম টাকায় বাংলাদেশ কেন নারী গৃহকর্মী পাঠাতে রাজি হলো বাংলাদেশ, জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব গণমাধ্যমকে বলেন, বেতন ১৬ হাজার ৮০০ টাকা হলেও থাকা-খাওয়াসহ সব সুযোগ সুবিধা পাবেন কর্মীরা। আর এ বেতন শুধু গৃহকর্মীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি খাতগুলোর বেতন এখনো ঠিক হয়নি।

সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে আহমেদ আল ফাহাইদ বলেন, গৃহকর্মীদের অধিকারসহ অন্যান্য অধিকার রক্ষা করা হবে। কেউ আইন ভাঙলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দীর্ঘ ছয় বছর পর সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ কর্মী দেশটিতে যাওয়ার আশায় আছে। তবে গৃহ খাত বাদে অন্যান্য খাতে কবে নাগাদ কর্মী যেতে পারবেন, সে ব্যাপারে এখনো কিছুই জানায়নি সৌদি আরব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা আশা করছি গৃহ খাতে কর্মী যাওয়া শুরুর পর এ বিষয়েও আমরা চুক্তি করতে পারব।

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫

শোকে অসুস্থ খালেদা জিয়া, ফিরে গেলেন শেখ হাসিনা

প্রিয় পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুশোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বর্তমানে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর বিশেষ সহকারি শিমুল বিশ্বাস।

শনিবার রাত সোয়া আটটার দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের  গুলশান কার্যালয়ে এক প্রেস বিফ্রিংএ তিনি এসব কথা বলেন।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র তারেক রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার দুপুরে মালয়েশিয়ায় ইন্তেকাল করেন।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, শোকার্ত বেগম খালেদা জিয়াকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি সুস্থ বোধ করলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দেয়া হবে। শিমুল বিশ্বাস এসময়  গণতন্ত্রের বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন।

এদিকে রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু এবং তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ বেগম খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে এসে উপস্থিত হন। তিনি গাড়ী থেকে নেমে কার্যালয়ের সামনে আসেন। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহাকরি শিমুল বিশ্বাস বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমদেকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও ইনজেকশনের মাধ্যমে  ঘুম পাড়িয়ে রাখার কথা অবহিত করেন। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরে যান।

আরাফাত রহমান কোকোর বর্ণাঢ্য জীবন

ঢাকা : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকো। তিনি ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, ক্রীড়া সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন।

আরাফাত রহমানের জন্ম ও বেড়ে উঠা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম ১৯৬৯  সালে ঢাকায়। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেই ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। শিক্ষা জীবনে ঢাকার বি এফ শাহীন কলেজে লেখাপড়া করেন আরাফাত রহমান কোকো।

১৯৬৯ সালে জিয়াউর রহমান স্বপরিবারে ঢাকায় চলে আসলে কিছুদিন জয়দেবপুরে থাকার পর বাবা জিয়াউর রহমানের চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় বসবাস করেন তারা। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে মায়ের সাথে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন কোকো। এরপর বড় খালা খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন পরিবারের সবাই। ২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে জনাব এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাক সেনারা মা ও বড়ভাই তারেকসহ আরাফাত রহমান কোকোকে বন্দি করে। তাঁরা ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মা-ভাইসহ তিনি মুক্তি পান।

ব্যক্তি জীবনে বাবা জিয়াউর রহমান সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান ও রাষ্ট্রপতি, মা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, এবং বড় ভাই তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হলেও আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন অনেকটা পর্দার আড়ালে। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ তার ছিল না। ব্যবসা বাণিজ্যসহ সামাজিক কর্মকান্ডেই সময় ব্যয় করতেন তিনি।

জেল-জুলুম, প্রবাসী জীবন গ্রহন: ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির  মাধ্যমে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে জিয়া পরিবারের উপর নেমে আসে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের খড়গ। একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেফতার হন তিনি। সেনা সমর্থিত সরকারের অমানুষিক নির্যাতনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয় তাকে।

২০০৮ সালের ১৮ জুলাই চিকিৎসার জন্য সপরিবারে ব্যাংকক যান আরাফাত রহমান কোকো। এরপর চিকিৎসা শেষে তিনি মালয়েশিয়াতে চলে যান এবং সেখানেই সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন।

২০১২ সালে খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতে গেলে সেখানে কোকোর সাথে সিঙ্গাপুরে সাক্ষাত করেন তিনি। সবশেষ ২০১৪ সালে সৌদি আরবে জিয়া পরিবার একত্রিত হলেও আসতে পারেননি আরাফাত রহমান কোকো।

কোকোর বিরুদ্ধে যত মামলা: জরুরি অবস্থার সেনা সমর্থিত সরকারের সময় দেশের অন্যান্য ব্যাবসায়ীদের মতো তিনিও হয়রানির শিকার হন। বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাতটি হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোকোর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দুটি চাঁদাবাজির মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোনালী ব্যাংকের ঋণখেলাপের মামলায় ভাইয়ের (তারেক রহমান) সঙ্গে এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাকেও আসামি করা হয়।

এরপর বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে কাফরুল থানায় আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০১১ সালের ২৩ জুন এ মামলার রায় হয়।  মামলায় পলাতক দেখিয়ে কোকোকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদ-াদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
কোকোর বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির অভিযোগে ২০১০ সালের ১ মার্চ আরেকটি মামলা করে এনবিআর।

পারিবারিক জীবন: পারিবারিক জীবনে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান এবং জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান নামে দুই মেয়ে রয়েছে। তারাও বর্তমানে তার সঙ্গে মালয়েশিয়াতে বসবাস করছেন। প্রায় সাত বছর ধরে তিনি নির্বাসিত জীবন যাপন করে আসছিলেন।

ক্রীড়াঙ্গনে আরাফাত রহমান কোকো: ২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। এছাড়া ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

এদিকে আগেই থেকেই শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে অসুস্থ ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। সবশেষ ২৪ জানুয়ারি শনিবার তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (আকতারের ক্যানভাস)

বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৫

ফের খুলল সৌদির শ্রম বাজার: শীঘ্রই কার্যকর

বহু প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশীদের জন্য খুলল সৌদি আরবের শ্রম বাজার। বাংলাদেশী শ্রমিকদের ফের ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। খুব শিগগির বাংলাদেশের শ্রমিকরা সৌদি আরব যেতে পারবেন।

সৌদি আরব সফররত বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশটির শ্রম মন্ত্রীর কার্যালয়ে রবিবার সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের পর সোমবার এ কথা জানিয়েছেন সে দেশের শ্রমমন্ত্রী আবদেল ফাতেহ।

দেশটির গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে সৌদি আরবে বাংলাদেশী নতুন শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে দুই দেশের কল্যাণেই এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। খুব শিগগিরই আমরা বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা দেওয়া শুরু করব। এ সময় তিনি বাংলাদেশী শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলার আহ্বান জানান।

বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সৌদি শ্রমমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিদেশে কাজ করতে ইচ্ছুক এমন ব্যক্তিদের একটি ডাটা সেন্টার তৈরি করেছে সরকার। এতে ২২ লাখের বেশি লোক নিবন্ধিত হয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ে যাচ্ছেন বলেও সৌদি মন্ত্রীকে অবহিত করেন তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত থেকে উন্নততর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও একমত পোষণ করেন দুই দেশের মন্ত্রীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম বুধবার বলেন, আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভিসা দেয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে এবং নতুন করে শ্রমিক নিয়োগ শুরু করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৭ জানুয়ারি শনিবার সকাল থেকে ৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সফর শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল দেশে ফিরবে।

শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৫

বিলুপ্তির পথে গফরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী পলো উৎসব


বাংলা বর্ষপঞ্জিকা মতে এখন চলছে পৌষ মাস। বাংলা ঋতুতে হাড়কাপানো শীতের মৌসুম। বর্ষার পরে এই মাসে সাধারণত বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাল-বিল, নদী নালা ও হাওর বাওরের বর্ষার থৈ থৈ পানি সড়ে গিয়ে বিস্তৃর্ণ মাঠ জেগে উঠে। কৃষকরা সেই মাঠে ফসল ফলানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে বর্ষার পানি সড়ে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে বা গর্তে হাটু পরিমান পানি অবশিষ্ট থাকে যেখানে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমানে দেশী মাছ। এই মাছ শিকারের জন্য গ্রামের ছেলে-বুড়ো সবাই নেমে পড়ে কাদা পানিতে। উৎসবের আয়োজনে সেসব মাছ শিকার করা হয়। বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের মধ্যে এটাও একটা সংস্কৃতি যে শীত মৌসুমে দল বেধে মাছ শিকার করা।

জানা যায়, সাধারনত পৌষ মাস থেকে শুরু হয়ে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত গফরগাঁওয়ের হাওড়, বাঁওর, ছোট নদী-নালা ও খাল-বিল প্রায় শুকিয়ে যায়। তখন নির্দিষ্ট বিল বা ছোট নদীর আশে পাশে হাট-বাজার, গ্রামগুলোতে মাইকে বা ঢোল পিটিয়ে জানান দেওয়া হতো মাছ শিকারীদের।

জানানোর পর মাছ শিকারী পলো (দেশীয় পদ্ধতিতে মাছ ধরার সরঞ্জাম), টাকজাল, জালি, ক্ষেতজাল, চাবিসহ বিভিন্ন রকম মাছ শিকারের সরঞ্জাম নিয়ে মিছিলের মতো করে উপস্থিত হতো নির্দিষ্ট বিল বা ছোট নদীতে। দলবেধে মাছ ধরতে যাওয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। একসঙ্গে এরকম হাজার হাজার মাছ শিকারীদের নির্দিষ্ট বিল বা নদীতে মাছ শিকারকে হাত বাওয়া আবার কোন কোন এলাকায় পলো বাওয়া বলা হয়।

হাত বাওয়া বা পলো বাওয়া উৎসব চলত সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত। এই উৎসবে অনেকে একাধিক বা তার চেয়ে বেশি মাছ পেলেও কেউ কেউ আবার একটি মাছও পেত না। মাছ না পেলেও তাদের কোন দুঃখ থাকত না। দলবদ্ধভাবে মাছ ধরতে যাওয়ার আনন্দটাই মূলত মূখ্য। মাছ প্রাপ্তিটা মূল বিষয় নয়। হাত বাওয়া-পলো বাওয়াকে কেন্দ্র করে বিলের আশপাশে দশ গ্রামে ৩/৪ দিন পূর্ব থেকেই উৎসবের আমেজ চলে আসত। বাড়ির মা-ঝি’রা দল বেঁধে মসল¬া বাটার পাশাপাশি গীত-সংগীতের আয়োজন করে  থাকত। হাত বাওয়া-পলো বাওয়ার পর চলতে থাকত পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে উপহার হিসেবে মাছ পাঠানো।

নানা কারণে এ ‘পলো বাওয়া’ উৎসব এখন আর তেমন দেখা যায়না। ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ সংস্কৃতি। বিল বা ছোট জলাশয়ে ইতিমধ্যে মৎস্য চাষের আওতায়, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার আওতায় আনায় এখন ধীরে ধীরে এ উৎসব হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম অঞ্চল থেকে। ইদানীং মাছশূন্য খাল-বিলে হাত বাওয়া-বিল বাওয়া উৎসব আর দেখা যায়না।

মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৫

বাংলাদেশের শীর্ষ ধণী যারা


ধনী আর বিত্তশালীদের নিয়ে আলোচনা হলে আমরা সবসময় সাধারণত বিশ্বের সেরা ধনী ব্যক্তিদের নিয়েই আলোচনা করি। বাহাদুরি, বিলাসিতা, বা নীতিবাক্য, অধ্যবসায়, সাফল্য আর উদ্যমের কথা আসলে কেবল ওয়ারেন বাফেট, বিল-গেটসদের নামই উচ্চারন করে থাকি। অথচ আমাদের দেশেও যে অনেক বিলিনিয়ার রয়েছে তাদের কথা একবারও বলিনা। অনেকে তাদের নাম জানলেও সব সময় একধরণের নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করি। অথচ ইতিবাচক ভাবে দেখলে তাদের কাছ থেকেও নিতে পারি অনেক অনুপ্রেরণা। তাই আজকে আসুন জেনে নেই বাংলাদেশে ধনীদের তালিকায় শীর্ষ দশে কে কে আছেন...



১.    মূসা বিন শমসের: বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষ ধনী মূসা বিন সামসের। তবে প্রিন্স মূসা নামেই তিনি  সমধিক পরিচিত। বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার সন্তান মুসা এখনো অনেকের কাছেই রহস্যময় পুরুষ। তাকে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি বাণিজ্যের অগ্রদূত বলা হয়। তিনি ড্যাটকো গ্রুপের এর মালিক।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, মুসা বিন শমসেরের মোট অর্থের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকা)। এর মধ্যে সাত বিলিয়ন ডলার আইনি জটিলতায় আটকে আছে সুইস ব্যাংকে।

বেশভূষা ও অঙ্গসজ্জায় মুসা ব্যবহার করেন ১৬ ক্যারেটের একটি রুবি। যার দাম ১০ লাখ ডলার। ৫০ হাজার ডলার দামের একটি চুনিও পরেন তিনি। এ ছাড়াও পরেন ৫০ হাজার ডলার মূল্যের একটি হীরা ও এক লাখ ডলার মূল্যের একটি পান্না (এমেরাল্ড)। নিত্যদিনের চলাফেরায় অথবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে তিনি ৭০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের গহনা-অলঙ্কার পরেন। তার পরনের কয়েকটি স্যুট স্বর্ণ সুতা খচিত। তাকে কখনো এক স্যুট পরিহিত অবস্থায় দুবার দেখা যায় না। প্রতিটি স্যুটের মূল্য পাঁচ থেকে ছয় হাজার পাউন্ড। প্রতিদিন তিনি গোসল করেন গোলাপ পানিতে। আর বাংলাদেশী পানি তিনি পান করেন না। বিদেশ থেকে আমদানি করা পানি তিনি পান করেন।

তিনি হীরকখচিত যে জুতা পরেন তার প্রতি জোড়ার মূল্য এক লাখ ডলার। তার সংগ্রহে রয়েছে রতœখচিত হাজারো জুতা।
এক কোটি ডলার মূল্যের মন্ট বাল্ক কলম ব্যবহার করেন তিনি। ফ্রান্সের তৈরি ওই কলম মাত্র একটিই তৈরি করেছে নির্মাতা কোম্পানি।

২.    সালমান এফ রহমান: বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মালিক। তিনি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক । তিনি আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক।
 বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট কোম্পানি বা বেক্সিমকো তাদের যাত্রা শুরু করেছিলো ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে বারটার ট্রেডিং করাই ছিলো তাদের মূল ব্যবসা সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বেক্সিমকো উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ শুরু করে৻ আশির দশকে ঔষধ শিল্পে বেসরকারী বিনিয়োগের সুযোগ হবার পরে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে বিনিয়োগ করে৻ এরপর আসে টেক্সটাইলসের খাতে বিনিয়োগ। এখন বেক্সিমকো বিমান পরিবহন খাতকেও তাদের ‘‘কোর বিজনেস‘‘-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে।


৩.    আহমেদ আকবর সোবহান (জন্ম : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২): তিনি প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক। বাজার মূল্য এবং আর্থিক প্রবৃদ্ধির হিসেবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক ও শিল্পদ্যোক্তা।
বিচক্ষণ এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এই ব্যবসায়ী বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে সুসংহত করতে বসুন্ধরা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। আবাসন দিয়ে শুরু হলেও দিনে দিনে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবসায় সম্প্রসারিত হয়েছে সিমেন্ট, কাগজ, ইস্পাতজাত পণ্য উৎপাদন, এলপি গ্যাস, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স নির্মাণসহ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খাতে। দেশের শীর্ষস্থানীয় চারটি মিডিয়া হাউজ (দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ) এই গ্রুপের মালিকানাধীন।

৪.    এম এ হাশেম: পারটেক্স গ্রুপ ও ইউসিবিএল ব্যাংকের চেয়ারম্যান । তিনি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক।  পারটেকস গ্রুপের চেয়ারম্যান।
সাবেক এই মন্ত্রী  ঢাকায় ২৫০ কোটি টাকা খরচ করে নিজের বাড়ি বানিয়েছিলেন। নকশা এবং প্রকৌশলী সবাই এসেছিলেন ফ্রাঞ্চ থেকে। তিনি পারটেক্স গ্রুপের ছাড়াও দুইটা বেসরকারী ব্যাংকের মালিক। সিটি এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মালিক তিনি।

৫.    আজম জে চৌধুরী:  তিনি ইস্ট-কোস্ট গ্রুপের মালিক।  প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্টের সোল এজেন্ট। আজম জে চৌধুরীর পুরো নাম আজম জাহাঙ্গীর চৌধুরী। তার জন্ম মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া আজম বর্তমানে প্রায় ৪১০ মিলিয়ন ডলারের মালিক।

আজমের শৈশব কাটে কুলাউড়ায়। তিনি কুলাউড়ার নবীণচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে সিলেট এমসি কলেজে ভর্তি হন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে মাস্টার্স করে ১৯৮১ সালে ব্যবসায় পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রাইম ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর তিনি এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যান বর্তমানে মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টের এমডি। ইংরেজী দৈনিক নিউজ টুডে এবং একুশে টিভির পরিচালক ছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার টিএন্ডটির পরিচালকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তিনি ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বহুজাতিক কোম্পানি ইস্টকোস্ট গ্রুপ। এরপর গ্রীণ ওয়েজ ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ, ঘোরাশাল পাওয়ার স্টেশন ও সিদ্ধিগঞ্জে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ট্রেড সিন্ডিকেট, ইস্টকোস্ট শিপিং লাইন, গ্রীণওয়েজ ইন্ডাষ্ট্রি, ইষ্ট কোস্ট ট্রেডিং, সাউথ এশিয়া প্লাষ্টিক কোম্পানি, গ্রীণডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মালিক ও পরিচালক তিনি। গ্রীণ ডেল্টাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বাংলাদেশ নরওয়ে চেম্বারের সভাপতিও।আর্তমানবতার সেবায় তার অর্থে বিভিন্ন স্কুল কলেজ, বৃদ্ধাশ্রমসহ নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে।

৬.    গিয়াস উদ্দিন আল মামুন: তিনি ঠিকাদারি, রিয়েল এস্টেট, হোটেল ও নৌ পরিবহন (জাহাজ) ব্যবসা রয়েছেন তাঁর। টাকার পরিমান ৪০০ মিলিয়ন ইউ এস ডলার।

৭.    রাগিব আলী:  তিনি চা উৎপাদন ব্যাবসায় সফল একজন ব্যাবসায়ী। তিনি সাউথ ইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তিনি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

৮.    শামসুদ্দিন খান: তিনি একে খান এন্ড কোম্পানি লিঃ-এর চেয়ারম্যান এবং ডিরেক্টর । তিনিও প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

৯.    ইকবাল আহমেদ: তিনি সিলেটের একজন ব্যাবসায়ী। সামুদ্রিক খাবার ব্যবসায় তিনি সফল। তিনি সীমার্ক গ্রুপ লিবকো ব্রাদার লিঃ-এর চেয়ারম্যান এবং ডিরেক্টর । তিনি প্রায় ২৫০-২৯০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।

১০.    সাইফুল ইসলাম কামাল: তিনি নাভানা লিঃ ও নাভানা সিএনজি লিঃ-এর চেয়ারম্যান এবং ডিরেক্টর । তিনিও প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলারের মালিক ।



(বি.দ্র: উপরুক্ত পরিসংখ্যানে তথ্যগত দূর্বলতা রয়েছে। তবে আমার এই লেখার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া।)

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৪

ঐতিহ্য ফেরাতে আধুনিক যুগে আমিরের ডিজিটাল পালকি

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যে মিশে আছে পালকি। একসময় পালকি না হলে বিয়েই হতো না। তাছাড়া অবস্থা সম্পন্ন মহিলাদের দূরদূরান্তে যাতায়াতের জন্যও ব্যবহৃত হতো পালকি। একসময় পালকির বেশ কদর থাকলেও আধুনিক সভ্যতার উৎকর্ষের সঙ্গে পালকির প্রচলন উঠেই গেছে। আজকাল কোথাও আর পালকি দেখাই যায়না।

তবে আধুনিক যুগে পালকিতে চাকা লগিয়ে প্রায় ৩০০ বছর আগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনলেন বগুড়ার আমির হোসেন। তিনি তৈরী করেছেন চাকা বিশিষ্ট বিশেষ ধরনের পালকি। প্রাচীণ পালকি আর কয়লা চালিত রেলের ডিজাইনে তৈরী এই বিশেষ ধরণের পালকি চলবে প্রেট্রোল ইঞ্জিনে। যার গতি কিছুটা কম। ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলক ভাবে চলছে বাহনটি।

পালকিতে তিনজন করে বেহারা থাকতেন। তাদের পোশাক ছিল লাল ফতুয়া, হাতে থাকত লাঠি ও লাঠির মাথায় থাকত বল্লম। পরনে সাদা ধুতি, মাথায় থাকত গামছা বাঁধা। বর-কনে দুজনই পালকিতে বসে থাকতেন। এখনকার প্রজন্ম জানেই না বা দেখেওনি পালকি জিনিসটা কি বা কোন কাজে ব্যবহৃত হতো। তাই নতুন রূপে চাকা লাগিয়ে ইঞ্জিনের সঙ্গে সেটিং করে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পালকি নতুন রূপে ফিরিয়ে আনেন আমির হোসেন।


আমির হোসেন জানান, শিশু পার্ক কিংবা দেশের যেগুলো কমিউনিটি সেন্টার আছে সেগুলোতে এ অটোপালকি সংযোজন করতে পারলে এর মান আরও বাড়বে। পালকিটিতে আসন সংখ্যা রয়েছে ২২টি। পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো যাবে আসন। পালকিটি প্রতি ঘণ্টায় পেট্রোলে ১২ কিমি. চলবে। এ পালকির গতি ৩০ থেকে ৬০ কিমি.। যন্ত্রচালিত পালকিটির মূল্য পড়বে আট লাখ টাকা।

তিনি জানান, সরকার চাইলে বিদেশী অতিথিদের এয়ারপোর্ট থেকে অভ্যর্থনা দিয়ে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহার করতে পারেন এ পালকি। এতে তারা অবাক হবেন ও এতে করে দেশের মান আরও বাড়বে।

৮০ বছরের কলিমুদ্দিন প্রাং জানান, এ রকম কয়লাচালিত রেলগাড়ি করে কলকাতা ঘুরে এসেছি। এত বছর পর ঠিক এ রকম রেলগাড়ি চোখে পড়ল। ভাবাই যায় না।

খাতেমন বিবি জানান, আমার বয়স যখন ১৬ বছর, তখন আমার বাবা-জ্যাঠা এ করম পালকি আমার বিয়েতে ব্যবহার করেন। -আকতারের ক্যানভাস


রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৪

ঘাস কেটে কোটিপতি!

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সুলতানপুর বড়ইপাড়া গ্রামের আব্দুল গফুর (৫০)। এক সময় নুন আনতে যার পান্তা ফুরাত, এখন তিনি কোটিপতি। নেপিয়ার জাতের ঘাস চাষ করে কয়েকবছরে তিনি কোটি টাকার সম্পদ করেছেন। তার সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে এ ঘাসের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন একই এলাকার আরও কয়েকজন কৃষক।

গফুর জানান, ২০০৫ সালের কথা। তখন দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। স্ত্রীর পরামর্শে সমিতি থেকে সাত হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি গাভী কেনেন। পরে গাভীর ভালো খাবার যোগাড় করতে গিয়ে জানতে পারেন নেপিয়ার ঘাসের কথা। সেই নেপিয়ার ঘাসই তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। নেপিয়ার ঘাস বিক্রি করে বর্তমানে ১০ বিঘা জমি, পাকা বাড়িসহ সোয়া কোটি টাকার মালিক গফুর।

তিনি জানান, পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের চিকিৎসক মোস্তফা কামালের পরামর্শে নেপিয়ার ঘাস চাষ শুরু করেন। প্রথমে নিজেই পাঁচ শতক জমিতে ঘাস লাগান। ধীরে ধীরে তিনি ঘাস চাষের পরিমাণ বাড়াতে থাকেন। ২০০৯ সালেও বর্গা নেয়া তিন বিঘা জমিসহ মোট সাত বিঘা জমিতে নেপিয়ার চাষ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি বাণিজ্যিকভিত্তিতে নিজের ১০ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন। প্রতিমাসে ঘাস বিক্রি করছেন ৯০ হাজার টাকা। খরচ বাদে তার মাসিক আয় ৭০ হাজার টাকা।

তার পরিবারের সদস্য ৬ জন। স্ত্রী আছিয়া বেগম গৃহিণী। বড় ছেলে আতিয়ার রহমান ও দ্বিতীয় ছেলে ফারুক হাসান তার সঙ্গে ঘাষ চাষ করেন। ছোট ছেলে শাকিল অষ্টম ও একমাত্র মেয়ে ফারহানা সপ্তম শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে।

গফুর আরও জানান, ঘাস ব্যবসার আয় দিয়ে তিনি পাকা বাড়ি, ১০ বিঘা জমি, দুইটি গাভী, দুইটি শ্যালো মেশিনসহ প্রায় সোয়া কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন।



তিনি জানান, তার দুই ছেলে ছাড়াও পাঁচজন শ্রমিক প্রতিদিন রিকশা-ভ্যানযোগে পলাশবাড়ী, ঢোলভাঙ্গা, ধাপেরহাট ও গাইবান্ধা শহরে ঘাস বিক্রি করেন। নতুন বছরে আরও দশবিঘা জমিতে ঘাসচাষ ও ডেইরি ফার্ম করার প্রয়োজনীয় যোগাড়-যন্ত্র শেষ করে এনেছেন বলে জানান কৃষক আব্দুল গফুর।



সরেজমিনে দেখা যায়, আব্দুল গফুরের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাসুদ মিয়া, সিরাজুল ইসলাম ও আব্দুর রশিদসহ অর্ধশতাধিক কৃষক নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন।

মাসুদ মিয়া বলেন, আগে এই ঘাস সম্পর্কে আমার কিছু জানা ছিল না। গফুর ভাইয়ের সাফল্য দেখে আমিও একবিঘা জমিতে ঘাসচাষ করছি। এ থেকে প্রতিমাসে নয় হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর দুই বিঘা জমিতে ঘাসচাষ করেছি।নিজের গাভীকে খাওয়ানোর পরও মাসিক চৌদ্দ হাজার টাকার ঘাস বিক্রি করতে পারছি।

দেড় বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ওই গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুর রশিদ।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, গাইবান্ধা জেলায় একমাত্র আব্দুল গফুরই বাণিজ্যিকভাবে ঘাস চাষ করছেন। এ ঘাস গবাদি পশুর একটি আদর্শ খাদ্য। এ কারণে চাহিদাও ব্যাপক। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে এসব কৃষককে সহায়তার পাশাপাশি সাফল্যের ভিডিও চিত্র ধারণ করে বিভিন্ন সেমিনারে প্রদর্শন করে কৃষকদের নেপিয়ার ঘাস চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৪

জীবনের নিরাপত্তার জন্য এখনো আসছে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের নাফ নদী পার হয়ে অবৈধভাবে এখনো মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা আসছে বাংলাদেশে। অন্যকোন উদ্দেশে্য নয়, শুধুমাত্র জীবনের নিরাপত্তার জন্যই তারা নিজেদের বাপ-দাদার ভিটে ও সম্পদ ছেড়ে তারা বাংলাদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।


সপ্তাহখানেক আগে নাফ নদী পারি দিয়ে উখিয়ার অনিবন্ধনকৃত রোহিঙ্গা শিবিরে আত্মীয়ের কাছে স্বপরিবারের উঠেছেন রুহুল আমীন। তার স্ত্রী এবং নয়জন ছেলে-মেয়েসহ ১১ জনের সংসার। তিনি আরেকটি পরিবারের সাথে মোট ১৭ জনের দল নিয়ে নৌকা ভাড়া করে মিয়ানমারে নিজের ভিটে-মাটি ছেড়ে চলে এসেছেন।

মিয়ানমার সরকার বলেছে, মিয়ানমারের নয়। তোমরা বাঙালি। তারা আমাদের নিজের মা-বোনকে নির্যাতন করে। আমাদের সম্পদের ওপর অধিকার দেয় না। সেজন্য চলে এসেছি।

আব্দুল হাফেজ নামের এক শরণার্থী বলেন, “আমরা সতেরো জন দলবদ্ধ হয়ে নদীর পারে নারিকেল বাগানে একরাত কাটিয়েছি। নৌকা না পাওয়ায় পরের দিনও ওই নারিকেল বাগানে কাটিয়েছি। এর পরের দিন ২৫ হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করে সীমান্তের পাহাড়া এড়িয়ে আমরা নাফ নদী পারি দিয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে উঠেছি। শাহপরী দ্বীপ থেকেই আমরা এই শিবিরে আত্মীয়ের কাছে এসেছি।”

রুহুল আমীনের ভাষায়, মিয়ানমারে কিছু দিন ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর বড় ধরনের কোনো আক্রমণ হয়নি। কিন্তু নির্যাতন হচ্ছে ভিন্নভাবে। রোহিঙ্গাদের জন্য দম বন্ধ করা একটা পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে। যেখানে তাদের মৌলিক অধিকারগুলোও কেড়ে নেয়া হচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে পরের প্রজন্মকে বাঁচাতে সব পিছুটান ফেলে আমীন সীমান্ত পারি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “মিয়ানমারে আমরা চলাফেরা করতে পারি না। বাধা দেয়। এ ঘর থেকে অন্য ঘরে যেতে পারি না। এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায় যেতে পারি না। হাটে বাজারে মসজিদেও নামাজ পড়তে যেতে পারি না। সেখানে থেকে লাভ কী। এই বন্ধ জীবন ছেড়ে আমরা এখন খোলামেলায় চলে এসেছি।”

নিয়মিতভাবে না হলেও রোহিঙ্গারা এখনো আসে। তবে তাদের বাধা দেওয়া হয়। রুহুল আমীনের মতো আরো চারটি পরিবারের আটত্রিশ জনের দল দু’টি ছোট নৌকা ভাড়া করে টেকনাফে এসেছে অগাষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে। এদের একটি পরিবার নাফ নদীর তীরেই গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

নয় সদস্যের এই পরিবারটির কর্তা আব্দুল হাফেজ নিরাপত্তার প্রশ্নে জন্মস্থান ছেড়ে আসার কথা বললেন। তার বক্তব্য হচ্ছে, এখন গোপন হত্যা এবং স্ত্রী মেয়ের সম্ভ্রম বাঁচাতে তিনি সব মায়া ত্যাগ করেছেন।

তিনি বলেন, “মিয়ানমার সরকার বলেছে, মিয়ানমারের নয়। তোমরা বাঙালি। তারা আমাদের নিজের মা-বোনকে নির্যাতন করে। আমাদের সম্পদের ওপর অধিকার দেয় না। সেজন্য চলে এসেছি।”

আব্দুল হাফেজ আরো বলছিলেন, “পৃথিবীতে আমাদের রোহিঙ্গাদের আসলে কোনো দেশ নেই।”

এব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, রোহিঙ্গারা এখন দলে দলে আসছে না। মাঝেমধ্যে দু’একটি পরিবারের অনুপ্রবেশ ঘটছে। আগের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম। এরপরও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও প্রশাসন বলছে।
নাফ নদীর সীমান্তের মূল অংশে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির ৪২ ব্যাটালিয়ন কাজ করে। এই ব্যাটালিয়নের পরিচালক আবু জার আল জাহিদ বলেছেন, “রোহিঙ্গারা মূলত চিকিৎসা করানোর জন্যে বাংলাদেশে আসে। এছাড়া নাফ নদীর তীরে দুই পাশে আতœীয় স্বজন আছে, তাদের কাছেও আসে। অনেক সময় তিন বা সাতদিনের ভিসা নিয়ে এসে থেকে যায়।”

বিজিবির কর্মকর্তা আরো উল্লেখ করেছেন,নিয়মিতভাবে না হলেও রোহিঙ্গারা এখনো আসে। তবে তাদের বাধা দেয়া হয়। এছাড়া গত দু’বছরের তুলনায় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের ঘটনা অনেক কম।

স্থানীয় পুলিশ মনে করে, চিকিৎসার পাশাপাশি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গারা তিন বা সাত দিনের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে একটা বড় অংশ থেকে যাচ্ছে।আর অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা কমবেশি সবসময়ই থাকছে।

টেকনাফ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকাগুলোতে অভিযান অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নতুনরা এসে অনিবন্ধনকৃত শিবিরে বা এর বাইরে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গা আত্মীয়দের কাছে প্রথমে আশ্রয় নিচ্ছেন। এরপর নিজের পথ খুঁজে নিচ্ছেন। তবে সপ্তাহখানেক আগে অবৈধভাবে হলেও শেষপর্যন্ত রুহুল আমীন সপরিবারে টেকনাফে যে এসেছেন। এখানে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কোনো চিন্তা তাকে কাবু করতে পারেনি।

তিনি মনে করেন, কোনো একটা কাজ তার মিলবে এবং এখানে কষ্ট হলেও তাদের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে।

যদিও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের সংখ্যা এখন অনেক কম বলে মনে করছেন। তবে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই।–বিবিসি।

বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

দেড় বছরে ২০৭ গার্মেন্টস বন্ধ, বেকার দেড় লাখ

দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি এবং রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক শিল্পে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই প্রায়ই দু-একটি করে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। রানা প্লাজা ধসের পর থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০৭টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বমানের এবং দেশের সবচেয়ে বড় গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান হলমার্ক গ্রুপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় ৪৫ হাজার শ্রমিক।

সর্বশেষ ১ সেপ্টেম্বর মিরপুরের সেকশন-৭ এ পূরবী সুপার মার্কেটের উপর স্থাপিত ইমাকুলেট প্রাইভেট লিমিডেট গার্মেন্টসটি বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। এর কয়েকদিন আগে একই মালিকের মিরপুর-১ এ অবস্থিত দুটি কারখানাও বন্ধ হয়ে যায়।

বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বন্ধ হওয়া ২০৭টি কারখানার মধ্যে ২০ শতাংশ হচ্ছে শিফট হওয়া, ৪০ শতাংশ শেয়ার্ড বিল্ডিং কারখানা। বাকী কারখানাগুলো সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা কারখানা। তবে এর মধ্যে ভালো মানের কারখানা ৫ শতাংশেরও কম। পারপাসমেড বিল্ডিংয়ের কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি।

এই কর্মকর্তা আরো জানান, ইদের আগে বিভিন্ন জায়গায় আরো ২০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। যা বিজিএমইএ জানেনা বা বিজিএমইএকে জানানো হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কারখানা বন্ধ হওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্ট্যান্ডার্ড মানের কোনও কারখানা বন্ধ হয়নি, সবই নরমাল কারখানা। অন্যদিকে শিফট হওয়া কারখানাগুলো ঢাকায় বন্ধ করে গাজীপুর আশুলিয়ায় একই নামে চালু করছে মালিকরা।

জানা গেছে, আগে বড় কারখানাগুলো বেশি করে পোশাকের অর্ডার নিয়ে অন্য কারখানায় সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করাতো। এবং তাদের নামে রপ্তানি হত। কিন্তু রানা প্লাজা ধসের পর বড় বড় বায়াররা কারখানার পরিবেশ ও মান যাচাই-বাছাইয়ের পর অর্ডার দেন। তারা শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে অর্ডার বন্ধ করে দিয়েছেন।

কোনো নামি-দামি ব্র্যান্ড খারাপ পরিবেশে তার কোম্পানির পোশাক তৈরি করে বদনাম কামাতে চান না। আর দেশে ভালো মানের কম্প্লায়েন্স কারখানাগুলোও সাব-কন্ট্রাক্টে এখন আর কাজ করাচ্ছেন না। তাই ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো কাজ না পাওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রানা প্লাজা ধসের পর থেকে এ শিল্প কঠিন চাপের মুখে পড়ে। দেশে বিদেশে এ শিল্পের ইমেজ নষ্ট হয়। প্রশ্ন উঠে কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে। ফলে ক্রেতাদের দুটি জোট এ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স কারখানা পরিদর্শনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারা গত বছরের নভেম্বর থেকে কারখানা পরিদর্শন শুরু করে।

এ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের কারখানা পরিদর্শন কর্মসুচির পর নিরাপত্তা ইস্যুতে ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় ২১ টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া রানা প্লাজা ধসের পর অনেক ক্রেতা এদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। ফলে রপ্তানি আদেশও কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন গার্মেন্টস মালিকরা।

বর্তমানে বিজিএমইএ সদস্যভূক্ত সাড়ে তিন হাজার কারখানা চালু রয়েছে। যদিও বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭৫১টি। এর মধ্যে ডিহোল্ডার আছে দুই হাজার ২০০ কারখানা। বিভিন্ন কারণে ছোট ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হলেও ২০১৪ সালে নতুন কারখানা হয়েছে ৮০টি, ২০১৩ সালে হয়েছে ১৪০টি আর ২০১২ সালে ২০০ টি কারখানা নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কারখানা বন্ধের পাশাপাশি নতুন কারখানা করার হারও কমছে।

কারখানা বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, কারখানা বন্ধ হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। এক নম্বর কারণ হচ্ছে রানা প্লাজা ধসের প্রভাবে ক্রয় আদেশ কমে যাওয়া। এছাড়া এ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সর কারখানা পরিদর্শন, শেয়ার্ড বিল্ডিং কারখানা থাকার কারণে ক্রেতারা অর্ডার না দেওয়া, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির কারণে মালিকরা কারখানা চালাতে না পারা এসব কারণেও কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিনই কোনো না কোনো কারখানার সমস্যা বিজিএমইএতে সমাধান করা হচ্ছে। প্রতিদিনই দুই একটি করে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। কারখানার কাজ না থাকায় আরো কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

হলমার্ক গ্রুপের মত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে একের পর এক বন্ধই থেকে যায় তাহলে অদুর ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির চাকা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

বিশেষজ্ঞরা  মনে করেন, বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের মত অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তিকে সচল করতে সরকারের একটু সদিচ্ছাই যতেষ্ঠ। সমঝোতার মাধ্যমে সরকারই পারে গার্মেন্টস শিল্পের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে। (জুহা)

রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৪

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘গরু সমিতি’


নারায়ণগঞ্জ, ২৭ জুলাই : “আমরা গরীব মানুষ। ঈদে পোলাপানগো জামা কাপড় দিতেই সব টেকা শেষ। কোন মতে সেমাই- চিনি কিনছি। মাংস কেনার টাকা পাবো কোথায়? কিন্তু সমিতি কইরা এইবার চার কেজি গরুর মাংস আনছি।” এ কথাগুলো বললেন আড়াইহাজার পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ফৈটাদী নাগরাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্বাস আলী মিয়া।

একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন, আল আমীন ও জাকির হোসেন জানান, মাংস সমিতি করে তারা অনেক লাভবান হতে পেরেছেন। সমিতি করলে নিজেরা গরু কিনে এনে ভাল মাংস পাওয়া যায়। তাছাড়া খরচও কম পড়ে।

বেশ কয়েক বছর ধরে নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মাংস সমিতি’ বা ‘গরু সমিতি’। উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ১০ টি ইউনিয়নে এ বছর ৫’শ এর ও বেশি সমিতি গরীব , নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের মাংসের চাহিদা পুরণ করেছে। সারাবছর একটু একটু করে সঞ্চয় করে ঈদের আগে পশু কিনে জবাই করে মাংস ভাগ করে নেন ‘মাংস সমিতি’র সদস্যরা। এতে করে ঈদে গরীব মানুষ বাড়তি আনন্দ পায় এবং তাদের আর্থিক চাপও কমে যায়।

আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া বা মহল্লায় ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এ ধরনের মাংস বা গরু সমিতি গঠন করা হয়। শুরুতে শুধুমাত্র নিম্নবিত্ত মানুষেরা এ ধরনের সমিতি করলেও এখন মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরা ও মাংস সমিতি করছেন। মাংস সমিতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গ্রামের লোকজনের সাথে আলাপ করে জানাযায়, দশ-বারো বছর আগে দু’একটি গ্রামে পেশাদার মাংস বিক্রেতারা পরীক্ষা মূলকভাবে এ ধরনের সমিতি চালু করেছিল। কসাইদের দেখানো পথে অনেকেই হেটেছেন। প্রতিবছর বাড়ছে মাংস সমিতির সংখ্যা।

এ বছর আড়াইহাজারের উপজেলার ৩১৬ টি গ্রামে সমিতির সংখ্যা ৫’শ এরও বেশি হয়েছে বলে জানাগেছে। মাংস সমিতিতে সচরাচর সদস্য সংখ্যা হয়ে থাকে ২০ থেকে ৪০ জন পর্যন্ত। প্রত্যেক সদস্য সপ্তাহে বা মাসে চাঁদা জমা দেন। ঈদুল ফিতরের দু’একদিন আগে জমা করা টাকায় গরু বা ছাগল কিনে এনে জবাই করে সদস্যরা মাংস ভাগ করে নেন। তবে চামড়া বিক্রির টাকা পরের বছরের জন্য তহবিল গঠন করে সমিতির কার্য্যক্রম চলে।

আড়াইহাজার পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের নাগড়াপাড়া ফৈটাদী গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো: আব্বাস মিয়া, আনোয়ার হোসেন ও আল আমিন একটি মাংস সমিতি গঠন করেছিলেন। মূল উদ্যোক্তা আব্বাস মিয়া জানান, তাদের সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ছিল ২৫ জন। প্রত্যেকে সপ্তাহে টাকা জমা দিতেন। বছর ঘুরে সমিতিতে জমা হয় ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে গরু কিনে এনে সমিতির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকের ভাগে ৫ কেজি করে মাংস পড়েছে। তাদের এলাকাতেই এ ধরনের অšতত ৬ টি সমিতি রয়েছে।

বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০১৪

জমে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর ঈদ বাজার

আকতার হোসেন : একে একে ফুরিয়ে আসছে রমজানের  দিন গুলো। সে সাথে হাতছানি দিয়ে ডাকছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ঊৎসব ঈদ-উল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে জমে  উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর শপিং মলগুলো। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে মার্কেটগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। সারা বছরের মন্দাভাব কাটিয়ে উঠে বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাবসায়ীরাও তাই নেমেছেন আটঘাট বেঁধে। সে লক্ষ্যে রমজানের শুরু থেকেই তারা বিপুল পরিমান পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেছেন। রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ব্যাবসায়ীরা নান্দানিক ডেকোরেশন ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে তাদের পণ্যে ঠাসা দোকানগুলো। রমজানের শুরুতে ক্রেতা কম থাকায় কিছুটা হতাশা কাজ করলেও ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তা কাটিয়ে উঠছে তারা। ব্যাবসাীরা আশা করছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকুল থাকলে গতবারের চেয়ে অনেক বেশি বিকিকিনি হবে। গত বছরও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দেশের অবস্থা খারাপ থাকার কারণে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি ব্যাবসায়ীরা। তবে এবারের চিত্র অনেকটাই স্থিতিশীল। তাই এবার ব্যাবসায়ীদের চাহিদাও একটু বেশী।

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে ক্রেতা সমাগম কিছুটা কম থাকলেও বিকালের দিকে তা কয়েকগুন বৃদ্ধি পায়। বেচাকেনা চলছে টানা রাত দশটা পর্যন্ত। বাতিল করা হয়েছে দোকানকর্মচারীদের ছুটি। বন্ধের দিনেও খোলা থাকছে মার্কেটগুলো। সামনের দিনগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে বলে জানান ব্যাবসায়ীরা।

ব্যাবসায়ীরা জানান, এমনিতেই সারা বছর বেচাকেনা অনেক কম হয়। সারা বছরের সেই আয় দিয়ে টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়ে। তাছাড়া দোকান ভাড়া, কর্মচারী খরচ, বিদ্যুৎ বিল, আনুষঙ্গিক খরচসহ বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে আনা সবগুলোই বেশ চ্যালেঞ্জের । তাই ব্যাবসায়ীরা মুখিয়ে থাকে এ এক মাসের জন্য। ব্যবসায়ীদের ভাষায় রমজান ও ঈদকে বলা হয় সিজন টাইম। এই সিজনেই পুষিয়ে নিতে চায় বছরের সব ঘাটতি। এ সময়ে মানুষজন প্রায় প্রত্যেকেই নিজেদের জন্য ও আপনজনের জন্য কিছুনা কিছু কেনার চেষ্টা করেন। এতে ব্যাবসায়ীদের বেচা-বিক্রিও বেশ ভাল হয়।

বাহারী পোশাকে ঠাসা দোকানগুলো
ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন ডিজাইনের বাহারীসব পোশাকে ঠাসা রাজধানীর শপিংমলগুলো। ফ্যাশন হাউজগুলো তাদের নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এসেছে বাজারে। আর অন্যান্য সাধারণ দোকানীরা ক্রেতা চাহিদা লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন ধরণের পোশাকের সমাহার ঘটিয়েছে। রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, পলওয়েল, গুলিস্তান, পল্টন, পীর ইয়ামেনীসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে প্রায় প্রত্যেকটি দোকানেই স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুন বেশি পোশাক সংগ্রহ করে রেখেছে ব্যাবসায়ীরা। বাজার ঘুুরে দেখা গেছে এবার ছেলেদের বিভিন্ন স্টাইলের জিন্স, টিস্যু, গ্যাভাডিনসহ ফরমাল প্যান্টের চাহিদা বেশি। এছাড়া অত্যাধুনিক ও মনকাড়া দেশীয় ডিজাইনের শার্ট, পাঞ্জাবী,ফতুয়া বিক্রি হচ্ছে বেশী।

অন্যদিকে মেয়েদের পোশাকের মধ্যে ফুল হাতা লং কামিজ, আনস্টিচ থ্রি পিস, লেহেঙ্গা, শাড়ির মধ্যে জামদানী, কাতান ইত্যাদির চাহিদা তুঙ্গে। তাছাড়া প্রতিবারের ন্যায় এবারও মেয়েদের ঈদ বাজারে দাপটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে পার্শ্ববর্তী দেশ ও হিন্দী সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের নামকরণ অনুযায়ী ডিজাইন করা পোশাকগুলো।

বিক্রি বেশি ছোটদের পোশাক, ভীড় বেশি কসমেটিক্সের দোকানে
রাজধানীর শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ঈদঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মার্কেটগুলোতে ভীড় বাড়লেও বেচা-বিক্রি তুলনামুলক কম। তবে ছোটদের পোশাক ও জুতা বেশি বিক্রি হচ্ছে। এব্যাপারে মৌচাক মার্কেটের এক দোকানী জাস্ট নিউজকে জানান,  ঈদে সাধারণত ছোটদের আনন্দটাই থাকে আলাদা। শপিং নিয়ে ছোট বাচ্চাদের আবদার থাকে শক্তিশালী। তাছাড়া সব বাবা-মা ই নিজেদের চেয়ে সন্তানের পছন্দটাকে গুরুত্ব দেয় বেশি। সেজন্য সবাই বাচ্চাদের শপিংগুলোই আগে ভাগে সেরে নেয়।  অন্যদিকে মার্কেটগুলোতে মহিলাদের নানারকম প্রসাধনী, ব্যাগ ও চুড়িসহ বিভিন্ন দোকানে ভীড় তুলনামুলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া রেডিমেড পোশাকের পাশাপাশি থান কাপড়ের দোকানেও বেচা-বিক্রি কম নেই। বিক্রেতারা জানান, অনেকে  রেডিমেড পোশাকের চেয়ে অর্ডার দিয়ে পোশাক তৈরি করে নিতে পছন্দ করেন।  আর  ঈদের সময় সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকেই দর্জি বা টেইলার্সের দোকানে আর অর্ডার নিতে চায়না। সেজন্য আগে ভাগে রেডিমেড পোশাকের চেয়ে কাটা বা গজ কাপড়েরর দোকানগুলোতে তুলনামুলক বেচা-বিক্রি বেশি।

তবে এ মুহূর্তে বেচা-বিক্রি যাই হোক দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে গতবারের চেয়ে এবার ঈদে অনেক ভালো বিক্রি হবে এমনটাই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০১৪

রমজানে নিরাপত্তায় বাড়ানো হয়েছে কমিউিনিটি পুলিশিং কার্যক্রম

আকতার হোসেন : পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর নির্বিঘেœ পালন করতে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রহণ করা হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। নগরবাসীর নিরাপদে চলাফেরা, কেনাকাটা, ইবাদত বন্দেগী করতে বাড়ানো হয়েছে কমিউিনিটি পুলিশের কার্যক্রম। সে সাথে বাড়ানো হয়েছে ভেজাল বিরোধী অভিযান, চেকপোষ্ট ও মোবাইলকোর্ট।

মুসলমানদের কাছে রমজান মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। নগরীতে অন্তত একটি মাস হলেও শান্তিতে চলাফেরা এবং ইবাদত বন্দেগী করতে চায় মানুষ। আর এরপরই রয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ উৎসব ঈদ। এ ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের প্রস্তুতি থাকে যেমন, তেমনি ভোগান্তিও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে লাখো ঢাকাবাসী। ফাঁকা হয়ে যায় ব্যস্ত নগরী ঢাকা। আর এ সুযোগে চুরি ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটে ফি বছর। ঈদকে সামনে রেখে রাস্তাঘাটে অসহনীয় যানজট, খাদ্যে ভেজাল, দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতি, অতি মুনাফালোভীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াও মলম পার্টি অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা বেড়ে যায়। এসব থেকে নাগরিকদের মুক্তি দিতে প্রতিবছরই নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে প্রশাসন।

পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরেও বাড়তি ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জাস্ট নিউজকে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।

তিনি বলেন, আসন্ন রমজানে নগরবাসী যেন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে, নির্বিঘেœ শপিং করতে পারে, নিরাপদে ইবাদত বন্দেগী করতে পারে সে জন্য ডিএমপি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে কমিউিনিটি পুলিশের কার্যক্রম।

মাসুদুর রহমান বলেন, রমজান মানে ফরমালিন য্ক্তু ফলমুল ও সব্জি যাতে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, অসা¯্য’কর খাদ্য সরবরাহ ও অতিরিক্ত পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সেখানে দোষীদের জেল জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া যানজট নিরসনেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাস্তাঘাটগুলোতে অবৈধ পার্কিং, ফুটপাতে দোকান উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

এছাড়াও রমজানে ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকগুলোতে লেনদেনের সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষ সহায়তা থাকবে। তিনি বলেন, ব্যাংক এবং ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করব বড় ধরণের টাকা লেনদেন করার পূর্বে তারা যেন নিকটস্থ থানাকে অবহিত করেন।

বাসা-বাড়ি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিরাপত্তা এলার্ম এবং গাড়িতে জিপিএস ব্যবহারের আহবান জানান তিনি।

পুলিশের এসব নিরাপত্তা ব্যাবস্থা পুরো রমজান জুড়ে এবং আগামী ঈদ উদযাপন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও জানান উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান।