ছবির মতোই সুন্দর ছিল আমার গ্রামটা...

বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচলের কোন উপায় থাকতোনা। যেন মহসড়কের পাশে বিচ্ছিন্ন ছোটএকটা দ্বীপ।

সমস্যা যত বড়ই হোক, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে

আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জের সব দর্শনীয় স্থানে

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলায়ই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। যা আমাদের দেশকে করেছে আরো সমৃদ্ধ। শত বছর ধরে লাখো পর্যটককে করেছে আকৃষ্ট।

মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম: ফাদার তেরেসা

অসহায়, দুস্থ মানুষের সহায়তাই তার ধ্যান-জ্ঞান।সহিংসতার বিপরীতে তিনি অসহায়ের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।তিনি পাকিস্তানের আবদুল সাত্তার ইদি।অসম্ভব মানবসেবার কারনে ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার দেশে ফাদার তেরেসা নামেই বেশি পরিচিত।

‘মানসিক প্রশান্তির জন্য সাইকেল’

যাত্রা পথে পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তা আর ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে বিকল্প হলো একটা বাই সাইকেল। তাছাড়া ইদানিং স্বাস্থ্যটার দিকেও মনে হচ্ছে একটু যত্ন নেয়া দরকার।

রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫

শোকে অসুস্থ খালেদা জিয়া, ফিরে গেলেন শেখ হাসিনা

প্রিয় পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুশোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বর্তমানে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর বিশেষ সহকারি শিমুল বিশ্বাস।

শনিবার রাত সোয়া আটটার দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের  গুলশান কার্যালয়ে এক প্রেস বিফ্রিংএ তিনি এসব কথা বলেন।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র তারেক রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার দুপুরে মালয়েশিয়ায় ইন্তেকাল করেন।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, শোকার্ত বেগম খালেদা জিয়াকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি সুস্থ বোধ করলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দেয়া হবে। শিমুল বিশ্বাস এসময়  গণতন্ত্রের বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন।

এদিকে রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু এবং তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ বেগম খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে এসে উপস্থিত হন। তিনি গাড়ী থেকে নেমে কার্যালয়ের সামনে আসেন। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহাকরি শিমুল বিশ্বাস বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমদেকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও ইনজেকশনের মাধ্যমে  ঘুম পাড়িয়ে রাখার কথা অবহিত করেন। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিরে যান।

আরাফাত রহমান কোকোর বর্ণাঢ্য জীবন

ঢাকা : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকো। তিনি ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, ক্রীড়া সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন।

আরাফাত রহমানের জন্ম ও বেড়ে উঠা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম ১৯৬৯  সালে ঢাকায়। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেই ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। শিক্ষা জীবনে ঢাকার বি এফ শাহীন কলেজে লেখাপড়া করেন আরাফাত রহমান কোকো।

১৯৬৯ সালে জিয়াউর রহমান স্বপরিবারে ঢাকায় চলে আসলে কিছুদিন জয়দেবপুরে থাকার পর বাবা জিয়াউর রহমানের চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় বসবাস করেন তারা। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে মায়ের সাথে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন কোকো। এরপর বড় খালা খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন পরিবারের সবাই। ২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে জনাব এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাক সেনারা মা ও বড়ভাই তারেকসহ আরাফাত রহমান কোকোকে বন্দি করে। তাঁরা ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মা-ভাইসহ তিনি মুক্তি পান।

ব্যক্তি জীবনে বাবা জিয়াউর রহমান সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান ও রাষ্ট্রপতি, মা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, এবং বড় ভাই তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হলেও আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন অনেকটা পর্দার আড়ালে। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ তার ছিল না। ব্যবসা বাণিজ্যসহ সামাজিক কর্মকান্ডেই সময় ব্যয় করতেন তিনি।

জেল-জুলুম, প্রবাসী জীবন গ্রহন: ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির  মাধ্যমে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে জিয়া পরিবারের উপর নেমে আসে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের খড়গ। একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেফতার হন তিনি। সেনা সমর্থিত সরকারের অমানুষিক নির্যাতনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয় তাকে।

২০০৮ সালের ১৮ জুলাই চিকিৎসার জন্য সপরিবারে ব্যাংকক যান আরাফাত রহমান কোকো। এরপর চিকিৎসা শেষে তিনি মালয়েশিয়াতে চলে যান এবং সেখানেই সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন।

২০১২ সালে খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতে গেলে সেখানে কোকোর সাথে সিঙ্গাপুরে সাক্ষাত করেন তিনি। সবশেষ ২০১৪ সালে সৌদি আরবে জিয়া পরিবার একত্রিত হলেও আসতে পারেননি আরাফাত রহমান কোকো।

কোকোর বিরুদ্ধে যত মামলা: জরুরি অবস্থার সেনা সমর্থিত সরকারের সময় দেশের অন্যান্য ব্যাবসায়ীদের মতো তিনিও হয়রানির শিকার হন। বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাতটি হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোকোর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দুটি চাঁদাবাজির মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোনালী ব্যাংকের ঋণখেলাপের মামলায় ভাইয়ের (তারেক রহমান) সঙ্গে এবং গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাকেও আসামি করা হয়।

এরপর বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ সিঙ্গাপুরে ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থের অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে কাফরুল থানায় আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০১১ সালের ২৩ জুন এ মামলার রায় হয়।  মামলায় পলাতক দেখিয়ে কোকোকে ছয় বছরের সশ্রম কারাদ-াদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
কোকোর বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির অভিযোগে ২০১০ সালের ১ মার্চ আরেকটি মামলা করে এনবিআর।

পারিবারিক জীবন: পারিবারিক জীবনে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান এবং জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান নামে দুই মেয়ে রয়েছে। তারাও বর্তমানে তার সঙ্গে মালয়েশিয়াতে বসবাস করছেন। প্রায় সাত বছর ধরে তিনি নির্বাসিত জীবন যাপন করে আসছিলেন।

ক্রীড়াঙ্গনে আরাফাত রহমান কোকো: ২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। এছাড়া ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

এদিকে আগেই থেকেই শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে অসুস্থ ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। সবশেষ ২৪ জানুয়ারি শনিবার তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (আকতারের ক্যানভাস)

বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৫

১৫ দিনে গুলিতে ১১ নেতা নিহত // বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে সরকার: বিএনপি

আকতার হোসেন : নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে সরকার তালিকা করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গত ১৫ দিনের চলমান আন্দোলনে কেবল মাত্র পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের গুলিতে অন্তত ১১ জন বিরোধীদলীয় নেতা নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় দেশের সুশীল সমাজ ও পেশাজীবীসহ সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তথ্যমতে, ‘৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’র কর্মসূচিকে ঘিরে গড়ে ওঠা চলমান আন্দোলনে দেশের বিভিন্নস্থানে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের গুলিতে বিএনপি-জামায়াতের অন্তত ১১ নেতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশব্যাপী বহু নেতাকর্মীকে অপহরণ ও গুম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে বেড়ে গেছে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের ঘটনা। প্রায় প্রতিরাতেই রাজধানীসহ বিভিন্নস্থানে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতরা প্রায় সবাই আগে থেকেই পুলিশ হেফাজতে ছিল বলে তাদের পরিবার ও দলের অভিযোগ। এদের কাউকে রাস্তা থেকে আবার কাউকে জেলগেট থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতদের পরিবার।

সবশেষ সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জোড়াপুকুর মাঠে ডিবি পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনি।

দলের অভিযোগ, সোমবার বিকালে খিলগাঁও থানা বিএনপি নেতা দিপু সরকার, যুবদল নেতা মাইনুদ্দিন ও ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের গেট থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সাদা পোষাকধারীরা। এরপর মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে জনির লাশ পাওয়া যায়। তবে অন্য দু’জনের হদিস মেলেনি এখনো।

নিহত জনির বাবা ইয়াকুব আলী জানান, ছোট ভাই মনিরুজ্জামানকে দেখতে সোমবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যায় জনি। সেখান থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে নড়াইলের পৌর কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা ইমরুল কায়েস মতিঝিলের এজিবি কলোনী এলাকায় ডিবির সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তার শরীরে অন্তত ১০টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ইমরুলের স্ত্রী জানান, ঢাকায় বেড়াতে এসে গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ হন তিনি। সোমবার সকালের ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয় যে, তার স্বামী আর নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে তার লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়।

ইমরুলের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে র‌্যাবের সথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন আরেক ছাত্রদল নেতা মতিউর রহমান। নিহত মতিউর শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন।

বিএনপির দাবি, গ্রেফতারের পর পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিঞা বলেন, মতিউর রহমানকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। এরপর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা জিডিও ছিল না।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি ছুড়িকাঘাত ও গুলিতে নিহত হয় শঙ্করচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম (৪৭)।

গত ১৬ জানুয়ারি র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মতিউর রহমান (২৩)। সে শিবগঞ্জ উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব জানায়, বিএনপি জোটের অবরোধে নাশকতার অভিযোগে আগের দিন বৃহস্পতিবার কানসাট বাজার থেকে মতিউরসহ ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাদেরকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায় র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা। এসময় সন্ত্রাসীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে এ পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব পাল্টা গুলি চালালে মতিউর নিহত হয়।

১৫ জানুয়ারি নোয়াখালীতে যুবলীগ কর্মীদের গুলিতে নিহত হয় ছাত্রদল নেতা মোর্শেদ আলম পারভেজ। তিনি সোনাইমুরী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

৭ জানুয়ারি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ছাত্রদল কর্মী মহসিন উদ্দিন (৩০) ও যুবদল কর্মী  মিজানুর রহমান রুবেল (৩৭)।

জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে চৌমুহনী বাজারে জামায়াত ও বিএনপি কর্মীরা মিছিল বের করতে চাইলে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে মহসিন ও রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

 এদিকে ‘৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন উপলক্ষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের সঙ্গে ২০ দল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এদিন দেশের পৃথক স্থানে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। এদের মধ্যে নাটোরের তেবাড়িয়ায় গণতন্ত্র হত্যা দিবসে কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করার সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশের পাহারায় মিছিলে গুলি চালালে ছাত্রদল নেতা রাকিব ও রায়হান রানা নিহত হন। রাজশাহীর বানেশ্বরে কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করার সময় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মিছিলে গুলি চালালে এতে বিএনপি কর্মী মজির উদ্দিন নিহত হন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী জমশেদ আলী নিহত হয়েছে। এছাড়া ওই দিন সারাদেশে সংঘর্ষে সহস্রাধিক আহত ও ১১ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

মূলত, ৫ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি চায় বিএনপি। কিন্তু ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুমতি না মেলায় সে সমাবেশ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কর্মসূচির দুই দিন আগে ৩ জানুয়ারি রাতেই গুলশানে নিজ কার্যালয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে পুলিশ পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে ও গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এজন্যই দেশব্যাপী গুম-খুনে মেতে উঠেছে তারা। আর এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ-র‌্যাবকে।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসা ও অফিসে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সরকার সমর্থকরা এসব হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাদের। শুধু গুপ্ত হত্যাই নয়, গত কয়েকদিনে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসা নেতাকর্মীদেরও উপরও হামলা চালানো হয়েছে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ও গুলি বর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। এসময় বিশিষ্ট কূটনীতিক রিয়াজ রহমানের শরীরে চারটি গুলি লাগে।

কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আইন বহির্ভূতভাবে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যার সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া জাস্ট নিউজকে জানান, এধরনের হত্যাকান্ড সংবিধান পরিপন্থী, আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা পুলিশের এ ধরনের কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সরকারের এজেন্ডা বাস্তাবায়নের জন্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যাবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার নীল নকশায় মেতে উঠেছে।

তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচিতে জনসমর্থন দেখে দ্বিগবিদিগ জ্ঞানশূন্য হয়ে নিজেদের অস্তিত টিকিয়ে রাখতে ও ক্ষমতা সুরক্ষিত করতেই অবৈধ সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে গুম ও তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে পৈশাচিকভাবে হত্যা করছে। তবে এসব হত্যাকান্ড চালিয়ে অবৈধ সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৪

৫ম ধাপের উপজেলা নির্বাচন: বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার আশংকা বিএনপি’র

ঢাকা, ৩০ মার্চ : গত ৪ ধাপের উপজেলা নির্বাচনের মতো আগামীকালের নির্বাচনেও সরকারদলীয় ক্যাডারদের ভোটকেন্দ্র দখল, অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সরকার গত নির্বাচনগুলোর চেয়ে আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

রবিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের কথা তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামীকালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে সরকার দলীয় সমর্থকরা। র‌্যাব-পুলিশকে ব্যবহার করে গ্রেফতার ও নির্যাতন চালাচ্ছে। কারচুপি ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র দখল করে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অধিকাংশ পদ ছিনিয়ে নিতে বিরোধী নেতা-কর্মীদের হত্যা ও জখম করেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী দিয়ে নির্বিচারে গ্রেফতার করে দেশের কারাগারগুলো কানায় কানায় ভর্তি করে ফেলা হয়েছে।

নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, স্বৈরাচারী কায়দায় জোরজবরদস্তি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে পৃথিবীর কোনো স্বৈরশাসক টিকে থাকেনি। আপনারাও থাকবেন না, এটাই ইতিহাসের অমোঘ বিধান।

তিনি বলেন, এখনও সময় আছে, অবৈধ জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায়, তীব্র গণঅভ্যূত্থানে আপনাদের পতন অনিবার্য।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সরকার গত ৫ই জানুয়ারী প্রহসনের নির্বাচনের আগে ও পরে দেশব্যাপী যেসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে তা বর্তমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আরো বেশী বেপরোয়াভাবে প্রকাশিত হয়ে উঠেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে-বর্তমান অবৈধ সরকার গত চারটি ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যেভাবে সহিংসতা চালিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল থেকে শুরু করে ব্যালট বাঙ ও ব্যালট পেপার ছিনতায়ের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদগুলো ছিনিয়ে নিতে মরিয়া ছিল; আগামীকালের নির্বাচনেও তার ব্যতয় ঘটাবে বলে মনে হচ্ছে না।

সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যই আওয়ামী লীগের অনুষঙ্গ উল্লেখ করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলগুলোতে গণতন্ত্রের সুস্থ ধারাকে বেগবান রাখতে কখনোই সচেষ্ট হয়নি। গণতন্ত্রের লেবাসে আওয়ামী লীগ সবসময়ই গণতন্ত্রকে  গলাটিপে হত্যা করেছে। এরা নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীসহ রাষ্ট্রের সকল অঙ্গকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা অর্থাৎ বাকশালী শাসন প্রতিষ্ঠার সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বড় বড় বুলি আউড়িয়ে প্রকারন্তরে বর্তমান অবৈধ সরকার গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিরাম কুঠারাঘাত করছে। আর এজন্যই দেশের আপামর জনসাধারণের আবেগ-অনুভূতির প্রতি তোয়াক্কা না করে নিজেদের ক্ষমতার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাস্তবায়ন করতে দেশব্যাপী রক্তারক্তি, হত্যা, সন্ত্রাস ও ভোট ডাকাতির দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আবারো নিজেদের মুখোশ নগ্নভাবে উন্মোচন করেছে।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রভাবমুক্ত হয়ে নির্বাচন পরিচালনা করার যথেষ্ট ক্ষমতাবান হওয়া সত্ত্বেও ভোট ডাকাতি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিজেদেরকে সরকারের অতীব আজ্ঞাবহ হিসেবে প্রমাণ করে প্রতিষ্ঠানটিকে কলঙ্কিত করেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন উপজেলা নির্বাচনের প্রত্যেকটি ধাপে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ  হয়েছে বললে ভুল হবে, বরং নির্বাচন কমিশন নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব করেছে। অদক্ষ, অযোগ্য, ব্যর্থ, দলবাজ নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ পদত্যাগ আমরা আগেও চেয়েছি, এখনও চাই।

নির্বাচনে সরকার দলীয় লোকদের সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালালেও বিএনপি তথা ১৯ দলীয় জোটের সাফল্য দেখে তারা দিশেহারা হয়ে উপজেলা নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোতে আরো বেসামাল ও বেপরোয়া হয়ে উঠে। চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ও ১৯ দলীয় জোটের ৪ জন নেতা-কর্মীর মৃত্যুই তাদের ধারাবাহিক ভয়াল ও পৈশাচিক তান্ডবের সাক্ষী বহন করে। সুতরাং এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় নির্বাচনী কারচুপি ও সহিংসতায় পারদর্শী আওয়ামী লীগ ১৯৭৩ সাল থেকে যে দক্ষতার প্রমান দিয়েছে তা বিশ্বের ইতিহাসে নজীরবিহীন।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে প্রতারণা, হিংসা, সন্ত্রাস, হত্যা, গুপ্ত হত্যা, দুর্নীতি ও মিথ্যাচারের ইতিহাস। ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, ফলাফল ছিনতাই ইত্যাদি আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য। গণতন্ত্রের মুখোশে আওয়ামী লীগ একটি সর্বনাশা স্বৈরাচারের নাম। আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র পরস্পর বিপরীত শব্দ।

শনিবার, ১ মার্চ, ২০১৪

উপজেলা নির্বাচন শেষ হলেই আন্দোলন : খালেদা জিয়া

১৯ দলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, উপজেলা নির্বাচন শেষ হলে দ্রুত আন্দোলন শুরু হবে। ওই আন্দোলনে সরকারের পতন হবে। এজন্য আপনাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

শনিবার বিকালে রাজবাড়ীর ঐতিহাসিক  রেলওয়ে ময়দানে ১৯দলীয় জোট আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ জবরদস্তির মাধ্যমে নির্বাচন করেছে। এটা কোনো নির্বাচন হয়নি। জনগণ ওই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যায়নি। কারণ, জনগণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়।

তিনি বলেন, এ সরকার অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় এসেছে। এটা অবৈধ জবর দখলকারী সরকার। এদেরকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। আর এর জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগ মানুষের ভালো চায় না উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে রক্ত আর রক্ত। এরা রক্ত পিপাসু দল। এদের হাতে ৫৭জন সেনা অফিসারসহ ৭৪জন বিডিআরের রক্ত লেগে আছে। শাপলা চত্ত্বরে এতিম ও আলেমদের খুনের রক্ত এদের হাতে লেগে রয়েছে। এরা মানুষের ভাল করতে জানেনা। জানে শুধু মানুষ খুন করতে।

দেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে সরাতে হবে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশকে স্বাধীন- সার্বভৌম রাখতে হবে।  আমরা দেশের মানুষের জন্য স্বাধীনতা এনেছি।

খালেদা জিয়া বলেন, এরা ব্যাংকের টাকা, হলমার্ক, শেয়ার মার্কেটের টাকা লুট করছে। এটা লুট-পাটের সরকার। প্রতিনিয়ত দেশের টাকা লুট করছে। এরা কুইক রেন্টালের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার আরেক দফা গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে সব কিছুর দাম বেড়ে যাবে জনগণের গলা কেটে এই টাকা নেয়া হবে। এজন্য আপনাদের প্রতিবাদ করতে হবে।

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন কায়েম করতে চায়। এর আগেও তারা রক্ষী বাহিনী গঠন করে দেশের মানুষের উপর নির্যাতন চালিয়েছিল, হাজার হাজার বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা করেছিল। এটা তাদের পুরনো চরিত্র।  এখনও দেশে প্রতিনিয়ত মানুষ খুন-গুম হচ্ছে। বিদেশীরা এদেশের মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

রাজবাড়ীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ গত পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু রাজবাড়ীর কোন উন্নয়ন করেনি। পদ্মাসেতুর নামে লুটপাট চালিয়েছে। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে পদ্মা সেতু করা হবে। এছাড়াও রাজবাড়িতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

কৃষি উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকদের দিকে খেয়ালই করে না। আপনারা দেখেছেন রাস্তায় আলু ফেলে চাষীরা কিভাবে প্রতিবাদ করেছে। অথচ এই সরকার তাদের দিকে নজর দেয়ার সময় পায় না। তারা নিজেদেরকে নিয়ে ব্যস্ত।  আমরা ক্ষমতায় গেলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা করবো। কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো হবে। কৃষিতে ভর্তুকি দেয়া হবে।

ছাত্র ও যুবকদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, তোমাদেরকে জাগতে হবে। রক্ত দিয়ে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। ক্যাম্পাসে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ নাই। সেখানে নকলের রাজত্ব চলছে। আর ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মানুষ মারছে। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে তরুণ ও যুবকদের জন্য কর্মসংস্থ্যানের ব্যবস্থা করব। যাতে তাদের ছাত্রলীগ যুবলীগের মতো সন্ত্রাস ও খুনোখুনি করতে না হয়।

দেশে মানুষের জান মালের কোন নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, পুরো দেশেটাকে কারাগার বানানো হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা করা হচ্ছে। দেশে চলছে গ্রেফতারের বাণিজ্য। দেশে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মানুষ নির্ভয়ে চলতে পারছে না। ঘর থেকে ধরে নিয়ে গুম করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকে আমাদের মা বোনরা পর্যন্ত নিরাপদে নেই। আমরা দেখেছি কিভাবে যৌথ বাহিনী তা-ব চালিয়েছে। মানুষকে নির্যাতন করে ঘরবাড়ি লুট করেছে। আমাদের কাছে সব নির্যাতনের তালিকা আছে। সময় মতো তা প্রকাশ করা হবে। তারা যদি জনগণের সরকার হতো তাহলে এভাবে নির্যাতন চালাতে পারতো না।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন  বলেন, সংসদে কেবল গালিগালাজ হচ্ছে। তথাকথিত সংসদে কোন বিরোধী দল নেই। এখানে শুধু বসে বসে জনগণের টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনদাবি মেনে নিতে হবে। জনপ্রিয়তা থাকলে তা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন।

সরকারের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন উপজেলা নির্বাচনে কিভাবে সরকারি বাহিনী তা-ব চালিয়েছে। কিভাবে তারা ভোট কারচুপি করেছে। তবুও বিএনপি প্রার্থীরাই এগিয়ে আছে। আর নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে যে এদের কী হতো তা আল্লাহই ভালো জানেন।

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের চরিত্র বড়ই খারাপ। জনগণ নির্বাচন পত্যাখ্যান করেছে। বিশ্বও এ নির্বাচন গ্রহণ করেনি। ঠিক তখনি তারা সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এসময় ঝিনাইদহের নির্যাতিত কৃষ্ণ গোপালের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোন জায়গা নেই উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এদেশে জঙ্গির স্থান নেই। কোন জেএমবি, আল-কায়েদার স্থান এ দেশে হবে না। দেশে জঙ্গিরা কিভাবে পালায় তার জবাব স্ব-ঘোষিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই দিতে হবে। অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই সরকার এসব করে যাচ্ছে।

সমাবেশে বাধা দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার মানুষকে এ সমাবেশে আসতে বাধা দিয়েছে। সমাবেশে আসতে পথে আটকে দিয়েছে। দেরিতে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার দেখাতে চেয়েছিলো বিএনপির সমাবেশে মানুষের সমাগম কম। কিন্তু আপনারা সে বাধা উপেক্ষা করে তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছেন।

দলগুছিয়ে সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, শীঘ্রই দল গুছিয়ে আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। আপনাদেরকে এ জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এবাররের আন্দোলনে এই অবৈধ সরকারকে বিদায় নিতে হবে। আমাদের আন্দোলন সফল হবে ইনশাআল্লাহ।

(জাস্ট নিউজ/ এ এইচ/এমকেএম/১৭০০ঘ.)