ছবির মতোই সুন্দর ছিল আমার গ্রামটা...

বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচলের কোন উপায় থাকতোনা। যেন মহসড়কের পাশে বিচ্ছিন্ন ছোটএকটা দ্বীপ।

সমস্যা যত বড়ই হোক, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে

আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জের সব দর্শনীয় স্থানে

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলায়ই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। যা আমাদের দেশকে করেছে আরো সমৃদ্ধ। শত বছর ধরে লাখো পর্যটককে করেছে আকৃষ্ট।

মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম: ফাদার তেরেসা

অসহায়, দুস্থ মানুষের সহায়তাই তার ধ্যান-জ্ঞান।সহিংসতার বিপরীতে তিনি অসহায়ের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।তিনি পাকিস্তানের আবদুল সাত্তার ইদি।অসম্ভব মানবসেবার কারনে ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার দেশে ফাদার তেরেসা নামেই বেশি পরিচিত।

‘মানসিক প্রশান্তির জন্য সাইকেল’

যাত্রা পথে পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তা আর ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে বিকল্প হলো একটা বাই সাইকেল। তাছাড়া ইদানিং স্বাস্থ্যটার দিকেও মনে হচ্ছে একটু যত্ন নেয়া দরকার।

বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৭

এলেন বাড়ির বৈঠক কোন সমাধান নয়, চক্রান্তেরই অংশ

কার স্বার্থে চালু হলো সিটিং সার্ভিস ;
গত কয়দিন ধরে দেশে গণপরিবহন নিয়ে নাটক না, মহানাটকের মঞ্চায়ন চলছে। সিটিং নামের চিটিং বন্ধ হলো, কিন্তু পরিবহন মালিক শ্রমিকদের গুন্ডামি বন্ধ হলোনা। সিটিং বন্ধ করে গাদাগাদি করে লোক তুলল, কিন্তু ভাড়া কমালোনা, বরং উল্টো মাথার উপরের ফ্যানটা পর্যন্ত খুলে নিল বদমায়েশগুলো। তাদের রুটি রুজির একমাত্র নিয়ামক এই যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যাবহার করতে এতটুকু বিবেকে বাধলোনা। যাদের বিবেকে বাঁধা দিয়েছে তারা একডিগ্রী এগিয়ে বাস চলাচলই বন্ধ রাখলো। বাহ..কী সুন্দর নিরব প্রতিবাদ তাদের। 




গত ৪/৫ দিনে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে অনেকেই সিটিং সার্ভিস পুনরায় ফেরা নিয়ে মায়া কান্না দেখিয়েছেন। অবশ্য যারা এমনটি করছে চাহিদার জন্য না, বরং এটা তাদের অধৈর্যের বহিপ্রকাশ। 

যাই হোক- গতকয়েকদিনেরর মহা নাটকের আপাতত একটা রফা হয়েছে, বুধবারের এলেনবাড়ির বৈঠকে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ১৫ দিনের  জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মানে পিছু হটেছে সরকার। দোর্দণ্ড প্রতাপ দেখিয়েছে পরিবহন মালিকরা। তারা ভাড়া কমায়নি, সেবার মান বাড়ায়নি, জনগনের সাথে তাদের আচরন বদলায়নি উল্টো এনবিআর থেকে ট্যাক্স কমানোর ঘোষনা নিয়ে নিছেন। সিটিং চালুর বৈধতা নিয়ে নিছেন। আপাত দৃষ্টিতে এই বৈঠকে তাদেরই জয় হয়েছে, পরাজয় ঘটেছে সাধারন যাত্রী ও সরকারের। 

তাহলে এখন চোখ রাখা যাক গতকালের সেই বৈঠকে- এটাকে আমি বৈঠক বলবোনা। বলবো ষড়যন্ত্রের এক গোপন শলাপরামর্শ হয়েছে এলেন বাড়িতে। কারন জনগনের ভোগান্তি হলেও জনগনকে সম্পৃক্ত করা হয়নি ওই বৈঠকে। ছিলনা সরকার পক্ষের কর্তা ব্যাক্তিরাও। অথবা নিয়ম অনুযায়ি যাত্রী সাধারণকে নিয়ে গণশুনানীর আয়োজন করা যেত। 
অথচ বৈঠক করেছে ঘুষখোর আর দুর্ণীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত বিআরটিএর কতিপয় কর্মকর্তারা এবং এই নাটকের মুল খলনায়ক বাস মালিকরা। তাহলে কী আলোচনা হতে পারে সেই বৈঠকে?? তারা নিজেদের স্বার্থেই আলোচনায় বসেছিল সেখানে।


রাজধানীর ফার্মগেটের এলেনবাড়িতে বিআরটি এর কার্যালয়
আমরা ধারনা করতে পারি-(স্রেফ ধারনা) বৈঠকে বাস মালিকরা বিআরটিএর কর্মকর্তাদের শাষিয়েছে, মাসে মাসে এতটাকা ঘুষ দিচ্ছি সেই টাকা কোত্থেকে আসবে?? ঘুষখোর কর্মকর্তারা তাদের ধমকে চুপসে গেছে...অথবা কর্মকর্তারা বলেছে তোমরা মাসে মাসে যে ঘুষ দেও তাতে আর পোষাচ্ছেনা, বাজারে জিনিস পত্রের ম্যালা দাম বাড়ছে। বাস মালিকরাও তাদের উৎকোচের পরিমান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আর অমনি গনেশ উল্টে গেছে।`

ঘটনার একটা যৌক্তিক ও গ্রহনযোগ্য একটা সমাধান দিতে  এদের বাইরে ২ জনকে রাখা হলো তাদের একজন নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, উনি অবশ্য সরকারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসার প্রস্তাব করেছিল। তার যুক্তি হিসেবে তিনি বলেছেন অতীতে সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়ে মাঝপথে আটকে গেছে। পরে আর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এবার পিছু হটা উচিত হবে না। কিন্তু তার আপত্তি হাওয়ায় মিলে গেছে। 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান। শুনেছি তারই মস্তিস্ক থেকে নাকি সমাধানের এই মহান থিওরী প্রসব হয়েছে। যদিও তার  নৈতিকতা নিয়ে আমার ঘোর আপত্তি অাছে। উনি টকশোতে যখন কথা বলে তখন মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু বাজারে এ-ও রটনা আছে যে কোন বিষয় স্টাবলিশ করতে তাকে নাকি কন্টাক করে নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তি তর্ক দিয়ে বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এবং তিনি এই লাইনে অনন্য। আর গতকালও তিনি ঠিক কার স্বার্থে কথা বলতে সেই মিটিংএ হাজির ছিলেন তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। 
একটি জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো থেকেই কোট করছি গতকাল বৈঠকে তার ভূমিকা, ‌‌সিটিং সার্ভিস বন্ধের অভিযান ১৫ দিন স্থগিত রাখা এবং এটি আইনি কাঠামোতে এনে চালু করার পরামর্শটি সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানের কাছ থেকে এসেছে বলে বৈঠক সূত্র জানায়। একপর্যায়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান বৈঠক থেকে উঠে নিজ কক্ষে ঘুরে আসেন। এরপরই সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। 
এ সময় তিনি বলেন, ‘একটা উদ্দেশ্য নিয়েই মালিকেরা সিটিং সার্ভিস বন্ধ করেছিলেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাঁদের সে উদ্যোগে সহায়তা করেছি। তবে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ার পর নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অসুবিধার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে। এ জন্যই সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত ১৫ দিন স্থগিত করা হয়েছে।’`
আমার বক্তব্য হলো, ওই বৈঠকে বাস কর্তৃপক্ষরা নিজেদের স্বার্থে কথা বলেছে। দেশ বা জনগনের স্বার্থ নয়। 
কালকে কেন, কেউ জোড়ালো ভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত অমান্যকারি বাস মালিকদের কঠোর শাস্তির দাবি জানালোনা??  আইনে আছে কেউ কারন ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ রাখলে তাদের রুট পারমিট বাতিল করা হবে। সেই আইনের প্রয়োগ কেউ দেখালোনা কেন?  জনগনের প্রতিনিধি আমাদের দুই সাহসী মেয়র মহোদয়দের রাখা হলোনা কেন ওই বৈঠকে, মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ছিলনা কেন ঐ বৈঠকে। তাহলে দেখতাম বাস মালিকদের কতবড় বুকের পাটা ছিল গুন্ডামী করার। 
অতীতের কর্মকান্ডের জন্য জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার দুই মেয়র এবং মাননীয় সেতু মন্ত্রী সাহেবের প্রতি আমাদের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। এবং আমাদের বিশ্বাস তাদের সিদ্ধান্তেও জনগনের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটতো।
রাজধানীর ফার্মগেটের এলেনবাড়িতে বিআরটি এর কার্যালয়
যাই হোক এই কয়দিনের অবর্নীয় দুর্ভোগ আর অভিযোগের মুল বিষয় ছিল দুই টা। ১. সিটিং বন্ধ হলেও ভাড়া কমেনি। ২. পর্যাপ্ত বাস নামেনি।
অথচ এই দুই অভিযোগের কোন সুরাহা না করে বাস মালিকদের অনৈতিক দাবির কাছেই হার মেনেছে মেরুদন্ডহীন সরকারি কর্মকর্তারা। তাই আমার বিশ্বাস বুধবার বিকেলে এলেন বাড়ির ওই বৈঠকটি কোন বৈঠক ছিলনা, ছিল জনগনকে ঠকানোর এক গোপন ষড়যন্ত্র।

- আকতার হাবিব, সাংবাদিক, ঢাকা।
 - ২০ এপ্রিল সকাল ৬.৩০ 

রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৭

বন্ধ হলো সিটিং সার্ভিস: ভোগান্তি কমবে তো নগরবাসীর ?

বিআরটিএ এর ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে বন্ধ হয়েছে সিটিং সার্ভিস। এমন সিদ্ধান্তে আপাত হাফ ছেড়ে বেঁচেছে নগরবাসী। কিন্তু দুশ্চিন্তা যেন পিছু ছাড়ছেনা কারো। কারন আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা সুবিধা হলেও ভোগান্তি কমেনি এতটুকুও। নতুন এই নিয়মে বাসকর্তৃপক্ষের ভাড়া আদায়ে একতরফা রাহাজানি কিছুটা কমলেও ভাড়া কমেনি অনেক বাসেই। বরং উল্টো গাদাগাদি করে যাত্রী উঠানো ও অযথা সময়ক্ষেপনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে প্রবল।

গণপরিবহনের এই নৈরাজ্যের বিষয়টি উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরেও। ফলে্ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে বিপক্ষে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সিদ্ধান্তের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে অনেকেই বিশ্লেষন করছেন।

দৈনিক প্রথম আলোর এক সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, মৃন্ময় মিন্টু নামের এক যাত্রী অভিযোগ করেন, মিরপুর ১ থেকে শাহবাগের বাসভাড়া তালিকা অনুযায়ী ১৬ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু দিশারী পরিবহন এখনো ২৫ টাকা নিচ্ছে। এম আর আবির নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, মিরপুর-১ থেকে হেমায়েতপুরের ভাড়া ২০ টাকা। কিন্তু নিচ্ছে ৩৫ টাকা। তা-ও যাত্রীদের দাঁড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভোগান্তির আরো চিত্র ফুটে উঠেছে, জাগো নিউজ২৪ এর একটি প্রতিবেদনে, 

সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যে। বাসের কোনো টিকেট সিস্টেম নাই। যাত্রীদের সাথে অনেক সময় চরম পর্যায়ের খারাপ ব্যবহার করা হয়। অনেকে জানেনা গন্তব্য স্থলের ভাড়া কত। যার থেকে পারে ইচ্ছা মতো ভাড়া নেওয়া হয়। বাস এক জায়গায় অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিবাদ করতে গেলে খারাপ ব্যবহারের শিকার হতে হয়।  আরেকটা খারাপ দিক হলো কার আগে কে যেতে পারে। চলন্ত অবস্থায় যাত্রী উঠতে, নামাতে গিয়ে অনেকে সময় এক্সিডেন্টের ঘটনা ও ঘটে। বাস গুলো কে নির্দিষ্ট স্টপিস মেইনটেইন করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হলো।


প্রতিফলন যাই হোক, বাস কর্তৃপক্ষের একতরফা নৈরাজ্য ঠেকাতে এটাযে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় যে ভোগান্তির সৃষ্টি হবে, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত সেটাই এখন ভাবার বিষয়। 

যদিও রাজধানীতে সিদ্ধান্ত কার্যকরে ৫ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে কিন্তু এটা কতদিন চলবে তা নিয়েও সন্দিহান সাধারন মানুষ।
একজন সাধারন ও সচেতন নাগরিক হিসেবে যোগাযোগ সরকার, বিআরটিএ, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও সিটি মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাবো- নগরীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধের যে যুগান্তকারি পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার সফল বাস্তবায়নের লক্ষে আপনাদের আরো কার্যকরি ভুমিকা দরকার।

সাধারন যাত্রীকুলের ভোগান্তিহীন বাসযাত্রা নিশ্চিত করতে ওভার লোডিং বন্ধ ও সরকারি ভাড়া তালিকা কার্যকর করতে কর্তৃপক্ষ আরো উদ্যোগী হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।


-আকতার হাবিব, (16.04.17/ 18:21)

শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৭

প্রসঙ্গ ফেসবুক: যখন পড়বেনা মোড় পায়ের চিহ্ন এই বাটে...

 কিছুক্ষন আগে, অনেক চেষ্টা করে আমার পুরনো ফেসবুক আইডিতে ঢুকলাম। ১০-১২ বার চেষ্টা করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নানা শর্ত মেনে আইডিটা উদ্ধার করতে সমর্থ হলাম। ২০০৯ সালে সাইবার ক্যাফেতেতে গিয়ে ২৫ টাকা খরচ করে খোলা এই আইডিটি উদ্ধার করতে পেরে বরই উচ্ছসিত হয়েছি। টানা ৫ বছর ব্যাবহার করা আমার এই একাউন্টে ঢুকতেই কেমন নস্টালজিয়ায় পেয়ে বসলো। যেন পুরনো দিনের এ্যালবাম খুলে বসেছি।  একেকটি ছবি যেন একেকটি ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে। পুরনো কিছু বন্ধু, চেনা মানুষের ছবি ভেসে আসলো...মুহুর্তেই তাদের একাউন্টগুলোতে ঘুরে পরিবর্তনগুলো পরখ করলাম। ঘেটেঘুটে দেখলাম চ্যাংড়া ছেলেগুলো কিভাবে ব্যাটা ছাওয়ালে রূপান্তরিত হলো, সুন্দরী মেয়ে গুলো কীভাবে দিনবদলের হাওয়ায় ফুলে ফেপে ভাবি বা আন্টির রং ধারন করেছে।
এই একাউন্টে আমার ফ্রেন্ডের সংখ্যা খুবই কম সাড়ে ৩ শ'র কাছাকাছি। কিন্তু তাদের ৮০ শতাংশি রিয়েল লাইফ ফ্রেন্ড। অপরিচিত কাউকে নেয়া হয়না তেমন।  নতুন আইডিতে তাদের অনেকের সঙ্গেই যুক্ত হতে পারলেও অনেকেই রয়েগেঁছে আড়ালে। কেউকেউ বিদেশ বিভূঁইয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।।

সবকিছু মিলিয় ৫ মিনিটের জার্নি ঘন্টা ছাড়ালো কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলোনা।।
সবচে বেশি যে বিষয়টি মনে দাগ কেটে গেলো..তা হলো, মেসেঞ্জার বক্স।।  সেটা খুলতেই যেন খবরের ডালা খুলে দিল ফোসবুক। কুশলাদি বিনিময় করে কত কত আপনজন মেসেজ করে রেখেছে।
কেউ জরুরি অতি জরুরি খবর দিতে বা নিতে চেয়েছে, কেউবা শ্রেফ খোজ খবর জানতে চেয়েছে। নাম্বার চেয়েছে অনেকেই।
সবচে মজার বিষয় হলো, গেল সপ্তাহখানেক অাগে ২৬তম জন্মদিন গেলো।। আর এই আইডিতে ঢুকে দেখি...২০১৪/১৫ সালের পাঠানো জন্মদিনের শুভেচ্ছার জবাব দেয়া হয়নি। এমনকি দেখতেও পাইনি আমি...কেউ কেউ লিখেছে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করার কথা।.....।


পুরান আমার এই প্রোফাইল চেক করে মনে হলো..কোন মৃত মানুষের ফেসবুকে ঢুকেছি আমি। যেখানে হঠাৎ করেই ব্যাবহারকারির প্রস্থানের কারনে থমকে গেছে সব খবর। বন্ধ রয়েছে সব আপডেট। ভাবতেই মনটা বিষিয়ে উঠল। আসলেইকি মরে ছিলাম আমি এই কয় বছর?
কিছুদিন আগে কোন কোন অনলাইন পত্রিকায় নিউজ দেখেছিলাম, এপর্যন্ত কোটি খানেক ফেসবুক ইউজারের মৃত্যু হয়েছে। নিউজের সুত্র অবশ্য মৃতমানুষদের কোন জরিপনা, বরং ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ধারনা প্রসুত একটি সমীক্ষা দিয়েছে। কারন কেউ মারা গেলেত আর স্ট্যাটাস দিয়ে বা ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে যেতে পারেনা..যে জনাব, জাকারবার্গ আমি মরে যাচ্ছি।  তাই আমার একাউন্টটি স্থগিম করুন। সম্ভবত, যেসব ফেসবুক ইউজার দীর্ঘ দিন তার আইডিতে ঢোকেনা, তাদেরকেই মৃত সাব্যস্ত করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
তাহলেকি আমাকেও তারা মৃতদের তালিকায় ফেলেছিল??  এই প্রশ্নটিই বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে মনে।

আরও খারাপ লাগার যে বিষয়টি লক্ষ করলাম, তা হলো- এই কয় বছরে সত্যি সত্যি কিছু আইডির ফেসবুকিয় মৃত্যু ঘটেছে। ( মানে ডিএ্যাকটিভেট হয়েছে বা ব্লক করে দেয়া হয়েছে।) অনেকেই আবার সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে নাম বদলে ফেলেছেন, যার কারনে গভীর অনুসন্ধান ছাড়া তাদের খুজে বের করা মুশকিল।

যাইহোক, আজকের এই উপলব্ধির মুল কথা হলো, এই যে এখন সারাদিন ফেসবুকে লগইন থাকি। এত এত বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ দরকারি আলাপ..এত বিপ্লবী স্ট্যাটাস...দিন শেষে সত্যিকি এগুলোর মানে আছে? এত জরুরি আপডেটকি কখনোই আমাদের অগ্রগামি করেছে? নাকি সময়ের অতল গভীরেই হারিয়ে যাবে সব রাগ অনুরাগ। মিথ্যা প্রমানিত হবে সব আবেগ অনুভুতি।

- আকতার হাবিব
১৬.০৪.১৭ ইং (রাত ০২.০৩ মিনিট)

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬

মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম: ফাদার তেরেসা

অসহায়, দুস্থ মানুষের সহায়তাই তার ধ্যান-জ্ঞান।সহিংসতার বিপরীতে তিনি অসহায়ের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।তিনি পাকিস্তানের আবদুল সাত্তার ইদি।অসম্ভব মানবসেবার কারনে ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার দেশে ফাদার তেরেসা নামেই বেশি পরিচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম সহিংসতার শিক্ষা দেয় না,এটা ধর্মের অপব্যবহার।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে, তখন প্রাণ বাঁচাতে দেশটির পর্বতময় ওই অঞ্চল থেকে হাজার হাজার লোক পালাতে থাকে। ঠিক তখনই আবদুল সাত্তার ইদি সেই প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের দিকে ছুটলেন।

তিনি ঘোষণা দিলেন, আমি এখানে (পেশোয়ারে) এসেছি মানবসেবার মিশনে। যারা এখনো ভালো আছে তাদের জন্য খাবার, গরম পোশাক, কম্বল ইত্যাদির সংস্থান করা আর যারা মারা গেছে বা আহত হয়েছে,তাদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা আমার কাজ। তিনি বলেন, যুদ্ধে নির্দোষ ব্যক্তিরাই দুর্দশার শিকার হয়, আর হামলাকারী ও মুনাফাখোররা হয় লাভবান।

১৯৫০ সালে বন্দর নগরী করাচিতে একটি ডিসপেনসারি প্রতিষ্ঠার দিন থেকে তিনি দরিদ্র, দুস্থ, অনাথদের বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আর তার স্ত্রী বিলকিস মিলে ইদি ফাউন্ডেশন পরিচালনা করে আসছেন। এটিই এখন পাকিস্তানের মানবিক কার্যক্রম ও দাতব্য নেটওয়ার্কের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করছে। পরিত্যক্ত শিশুদের লালনপালন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা,দুস্থ মহিলাদের সহায়তা, মানসিক ও শারীরিকভাবে অক্ষম লোকদের পরিচর্যা,প্রবীণদের আশ্রয়দানসহ নানা ধরনের কাজ করছেন ইদি দম্পতি।


আবদুল সাত্তার ইদি জানান,আমি যখন দারিদ্র্য আর অসহায়ত্ব দেখি, তখন আমি অন্তর থেকে সাহায্য করার অনুপ্রেরণা পাই। আমি পাকিস্তানিদের মধ্যে মানবসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেছি। বিনিময়ে, তারা আমাকে শিশুর মতো ভালোবাসে।

কে এই ফাদার তেরেসা:
আবদুল সাত্তার ইদির জন্ম বর্তমান ভারতের গুজরাট রাজ্যে। ১৯৪৭ সালে তিনি তার পরিবারের সাথে নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানে পাড়ি জমান। যোগ্যতা দিয়ে তিনি অতি দ্রুত টেক্সটাইল এজেন্ট হিসেবে সফলতা লাভ করেন। কিন্তু মানবসেবার জন্য সেটা ছেড়ে দেন।


ধর্মীয় সহিংসতায় তবিত পাকিস্তানে তার প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে সবাইকে সহায়তা করে।  নিষ্ঠাবান মুসলমান ইদি জানান, আমার সাথে সহযোগিতাকারী ২০ বছর বয়সী এক খ্রিষ্টান তরুণীকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, তোমার ধর্ম কী? সে জবাব দিলো মানবসেবা। মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, সব কাজের ভিত্তি হওয়া উচিত মানবসেবা।আমি একজন ফকির। আমি কিছুই চাই না। আমি শুধু আমার কাজ করে যেতে চাই। আল্লাহ আমাদের সহায়তা করবেন। 
চলতি বছরের ৮ জুলাই হাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই মানবতাবাদী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৬

গোয়েবলসের প্রচারমন্ত্র ও নাৎসীবাদের শেষ পরিণতি

গোয়েবলসকে যতই গালি দেই, তার থিওরির উপর ভর দিয়েই দাঁড়িয়ে আছে এযুগের প্রচারণা কৌশল
রাজনৈতিক দল বা আদর্শের প্রতিযোগিতা বা ঢাল তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ – দুই জায়গাতেই প্রতিপক্ষকে কাবু করতে যে অস্ত্রটা সবচেয়ে মোক্ষম, তা হলো প্রচারণা। খুব পরিচিত একটা গল্প দিয়ে শুরু করি, অনেককাল আগে দূরের দেশে এক প্রতাপশালী রাজা ছিলেন। তার রাজ্য ছিলো, রাণী ছিলো, অগণিত প্রজা ছিলো, কিন্তু তবু তার মনে দুঃখ, তার কোনো সন্তান ছিলো না। যাহোক, বহুদিন নিঃসন্তান থাকার পর  সেই দুঃখের অবসান হলো, রাজার ঘর আলো করে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হলো। সন্তান জন্মের খবর শুনে রাজা তো মহাখুশী। আদেশ দিলেন এই মহা সুখবর যেন ঢেরা পিটিয়ে পুরো রাজ্যে জানান দেয়া হয়। কিন্তু সন্তানের মুখ দেখতে এসে ঘটলো ভজঘট, পুত্রসন্তান হয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু তার গায়ের রঙ একটু কালো। তা দেখে রাজার মুখও কিছুটা কালো হলো। তবে অন্দরমহল থেকে বের হয়ে স্বাভাবিকভাবেই  রাজা আদেশ দিলেন এই খবরটা যেন সারা রাজ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়। উজির তো আগে থেকেই ঢেরা পেটানোর লোক এনে দাড় করিয়েছেন, তাদেরকে পাঠিয়ে দেয়া হলো।

এরপরই ঘটলো ঘটনা, প্রথম গ্রামে খবর রটলো রাজার ছেলে হয়েছে, গায়ের রঙ একটু কালো। পরের গ্রামের মানুষ শুনলো, রাজার ছেলে হয়েছে, কিন্তু তার গায়ের রঙ একেবারে কুচকুচে কালো। এরপরের গ্রামের লোক শুনলো, রাজার ছেলের গায়ের রঙ কাকের মতো কালো। তারপর পুরো রাজ্যে রটে গেলো, কোনো এক অজ্ঞাত অভিশাপে রাণীর পেটে একটি মৃত কাকের বাচ্চা জন্ম নিয়েছে।


প্রাচীনকালের রাজারা কানকথার এই মহা গুরুত্ব সম্পর্কে খুব একটা অবগত ছিলেন কিনা জানি না, তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই পরাশক্তিগুলো কানকথা বা প্রপাগান্ডার এই গুঢ রহস্যের কথা টের পেয়ে গিয়েছিলো। সাম্রাজ্যবাদের পতন তখনো শুরু হয়নি, কিন্তু সিংহাসনে আসীন রাজা বাদশারা ঠিকই টের পাচ্ছিলেন, সামনে এমন দিন আসছে যখন বন্দুকের নল দিয়ে মানুষকে শোষন করা যাবে না। তাদেরকে সকাল বিকাল আনুগত্যের বড়ি গিলিয়ে শান্ত রাখতে হবে।

তখন থেকেই ব্রিটেন সহ প্রভাবশালী শক্তিগুলো প্রচারযন্ত্রের নিয়ন্ত্রনের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করে। যখনকার কথা বলবো এখন সেটা তিরিশের দশকের ইউরোপে, ততদিনে অ্যাডলফ হিটলারের উত্থান হয়ে গেছে, তার নেতৃত্বে নাৎসী পার্টি বসেছে ক্ষমতায়। ধীরে ধীরে বহির্বিশ্বে প্রভাব খাটাতে শুরু করেছে জার্মানী। ঠিক এমন একটা সময়ে, ১৯৩৩ সালে প্রপাগান্ডা মন্ত্রী হিসেবে হিটলারের মন্ত্রীসভায় যোগ দেন জোসেফ গোয়েবলস।


এই প্রপাগান্ডা মন্ত্রীর দায়িত্ব ছিলো দুইটা,
দেশের ভেতরে হিটলারের কট্টর নাৎসীবাদের প্রতিষ্ঠা করা।
আর দেশের বাইরে এই নাৎসীবাদকে খুব মহান আদর্শের মোড়কে মুডিয়ে তা প্রচার করা।


দুইটা দায়িত্বই তিনি খুবই নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করেছিলেন। তবে প্রথম দায়িত্বটা, অর্থাৎ দেশের ভেতরে নাৎসীবাদের প্রসার করতে গিয়ে তিনি যে কৌশল অনুসরণ করেছিলেন, সেটা তাকে এতোটাই খ্যাতি এনে দিয়েছে যে, হিটলার কে জার্মানী কোথায় এসব না জানলেও, প্রপাগান্ডা চালানোর সময় এখনো সবাই গুরু মানে এই ‘গোয়েবলস’ কে।

যা বলছিলাম, যদিও হিটলারের নাৎসী পার্টি জনসমর্থন নিয়েই বসেছিলো ক্ষমতায়, কিন্তু তা ক্ষমতায় বসে থাকার মতো স্থায়ী কোনো ম্যান্ডেট ছিলো না।

আর বিরোধী পক্ষের অবস্থানও ছিলো বেশ পোক্ত, হিটলার বেশ ভালোই জানতেন এসব। আর পুরো ইউরোপ তার যে পরিকল্পনা সেটা বাস্তবায়ন করতে হলেও দেশের ভেতরের খুঁটি গুলোকে শক্ত করা চাই। মন্ত্রী হিসেবে সেই কাজটাই সুসম্পন্ন করেছিলেন গোয়েবলস।

প্রথমেই যেটা করা হলো, বন্ধ করে দেয়া হলো বিরোধী দলের  সকল প্রচার-প্রকাশনা। এরপর নাজিবাদী পত্রিকাগুলো রেখে একে একে বন্ধ করে দেয়া হয় বাদবাকী সমস্ত পত্রিকাও। পুড়িয়ে দেয়া হয় ইহুদী কবি-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সমস্ত অ-নাৎসীবাদী  বই আর শিল্পকর্ম। আর সেই খালি জায়গায় নাজিবাদে উদ্বুদ্ধ কবি সাহিত্যিকরা নতুন উদ্যমে লিখতে শুরু করে কবিতা গান, গল্প উপন্যাস। এমনকি বাচ্চাদের জন্যে মজার মজার কমিকও ছাপা হতে শুরু করে সেই প্রেস থেকে। (আরবি হরফে বাংলা লেখা আর তাবেদার সাহিত্যিকদের দিয়ে হিন্দুয়ানী প্রভাব থেকে বাংলা সাহিত্যকে মুক্ত করার এই চেষ্টা আমাদের দেশেও হয়েছিলো পাকিস্তানী আমলে)

সাহিত্যের জগত তো উদ্ধার হয়ে গেলো, এবার শুরু হলো রাজনীতি। নীতিটা খুবই সিম্পল — দেশের জনগণের খুব বড় যে অংশটা, তারা কিন্তু রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামায় না, তারা পত্রপত্রিকা পড়ে, রাজনীতি নিয়ে হালকা আলাপ আলোচনা করে, আর ভোটের সময় আসলে ভোট দিয়ে যায়।  সেই বড় অংশটাকে যদি বিপক্ষে রাজনীতি করা সচেতন ক্ষুদ্র অংশ থেকে আলাদা করা যায়, তাহলে তাদেরকে ধরতে খুব একটা বেগ পাওয়ার কথা না।

ঠিক সেই কাজটাই করা হলো। গোস্টেপো নামের এক পুলিশ বাহিনী গঠন করা হলো যাদের কাজ ছিলো এইসব সক্রিয় নাৎসীবিরোধী অংশকে খুজে বের করা।

কিন্তু যে বড় অংশের কথা বললাম, আমজনতা, তাদেরকে কি দিয়ে ঠান্ডা করা হলো?

এটা দিয়ে,



না, কোনো বোমাটোমা গোছের কিছু না এটা, সাধারন একটা রেডিও।

তখনকার সময়ে তো আর ফেসবুক-ব্লগ ছিলো না, যে একটা পেইজে হাবিজাবি লিখে জুকারবার্গের হাতে দশ ডলার ধরিয়ে দিলেই দেশজুড়ে বড়সড় দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়া যাবে। আবার টেলিভিশন ছিলো না, তাই ছিলো না মাঝ রাতের টকশো, ব্রেকিং নিউজ। (আহ! কি শান্তির জীবন ছিলো সে যুগের মানুষের!) যোগাযোগের বেশ বড়সড় মাধ্যম বলতে ছিলো শুধু রেডিও। একই সাথে দূরে বসে অন্য দেশের বাতাসে খবর পৌছে দেয়ার জন্যে ওই রেড়িওই ছিলো একমাত্র ভরসা।

যে কথা সেই কাজ, শুরু হয়ে গেলো রেডিও নিয়ে গবেষনা। জার্মানীর নয়নের মণি ‘ফুয়েরার’ নিয়মিত হাজির হতে শুরু করলেন  (এখন জিজ্ঞেস কইরেন না যে এই ফুয়েরার টা আবার কে। জার্মানীর লোকজন হিটলারকে আদর করে ফুয়েরার বলে ডাকতো) পার্টির সবাই তো খুব খুশি, কিন্তু খালি গোয়েবলস এর মুখে হাসি নাই। তার মনের মধ্যে খচখচ, প্রচার হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সবার কাছে তো পৌছানো যাচ্ছে না! গোটা দেশে রেডিওর সংখ্যা তো হাতেগোণা, তখনো রেডিওর দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আসেনি।

জোড়াতালি মার্কা একটা সমাধান দেয়া হলো, রাস্তার মোড়ে মোড়ে রেডিও ফিট করা হবে, আর থাকবে সব রেস্টুরেন্ট,বার আর পাবলিক প্লেসে। ফুয়েরারের ভাষণের সময় সেগুলো চালিয়ে দেয়া হবে। তাহলে তো সবাই শুনতে পারবে। প্রস্তাব মন্দ না, গোয়েবলস মাথা নাড়লেন। আর গোয়েবলস মাথা নাড়ার মানেই হলো কাজটা ততক্ষণে হয়ে গেছে।



কিন্তু ওই যে বললাম, গোয়েবলস এর চিন্তা ভাবনাই সম্পুর্ণ আলাদা। জার্মানির বড় রেডিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর বিজ্ঞানীদের সাথে ঘন্টাখানেক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে তিনি ঘোষনা দিলেন সম্পূর্ণ নতুন এক রেডিও নির্মান করতে যাচ্ছে জার্মানি। সেটা হবে এমন দামের যেন সবাই কিনতে পারে, আর তার নাম হলো, “Peoples Receiver”। (খটমটে জার্মান ভাষাতে এই রেডিওর কি জানি একটা নাম দিয়েছিলো তারা, সেটা আর বললাম না।)

তো..যেই বলা সেই কাজ, ১৯৩৩ সালের শেষদিকেই বাজারে চলে আসলো সেই অবাক বস্তু। দাম ছিলো ৪০ মার্কের মতো। (আরও ৪০ মার্ক গুনলে ঝকঝকে তকতকে একটা মডেল পাওয়া যেতো, তবে জিনিষ তো একই) এই রেডিওর মডেল নাম্বার দেয়া ছিলো ৩০১, অর্থাৎ ৩০শে জানুয়ারি নাৎসী পার্টির ক্ষমতায় আসীন হওয়ার দিন।



এটা সেই রেডিওর একটা পোস্টার। (লেখা আছে, পিপলস রিসিভার দিয়ে জার্মানীর মানুষ ফুয়েরারকে শুনছে।)

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ ছবিটার কথা মনে আছে?  ওই যে, টিভি দেখলে গুনাহ হয় বলে চেয়ারম্যান তার গ্রামে টিভি আমদানী নিষিদ্ধ করলো, এরপর চেয়ারম্যানের এক সহচর ‘হালাল টেলিভিশন’ নামক এক আজব বস্তু উদ্ভাবন করে??

এবার আসি সবচেয়ে মজার বিষয়ে, সেটা হলো, এই রেডিও দিয়ে শুধু নাজি চ্যানেলই ধরা যেতো। আর কিছু না। অবশ্য সেটা মানুষের জন্যে খুব বড়সড় একটা সমস্যা ছিলো না। কারণ একই সাথে আইন করে বিদেশি চ্যানেল শোনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষনা করে দেয়া হয়েছিলো। কে দুই মিনিট বিদেশি রেডিও শুনতে গিয়ে নিজের মুন্ডুখানা হারাবে! (সশ্রম কারাদন্ড থেকে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত শাস্তি দেয়া হতো, আর সেটা বেশ দ্রুতই হতো। নাজিদের কাছে আপনি নিশ্চই দয়া মায়া বা আপিল-রিভিশনের সুযোগ আশা করবেন না।)

অন্য সাধারণ রেডিওগুলোতে যেমন লংওয়েভ/শর্টওয়েভ ধরার ব্যাবস্থা থাকে, এই পিপলস রিসিভারে তা ছিলো না। শুধু লংওয়েভ ধরার নব ছিলো। আর ডায়ালে জার্মানির স্টেশনগুলো মার্ক করা ছিলো। (পাশের ছবিতে সেসময়ের দুই নব-ওয়ালা একটি সাধারন রেডিও দেখা যাচ্ছে। )

তারপরও অতি উৎসাহী কোনো জার্মান যদি কেরামতি দেখিয়ে এই সস্তা পিপলস রিসিভার দিয়ে বিদেশি স্টেশন ধরার চেষ্টা করে??

রেডিও কেনার সময় ডায়ালে এই ট্যাগ লাগানো থাকতো। খুবই ঠান্ডা ভাষার সতর্কবাণী। ইংরেজিতে অনুবাদ করলে কথাটা দাঁড়ায়,

“Think about this: Listening to foreign broadcasts is a crime against the national security of our people.  It is a Fuehrer Order punishable by prison at hard labor.”

অল্প সময়ের মধ্যেই এই রেডিও জার্মানীকে গ্রাস করে ফেললো। বাইরের জগত সুস্থ স্বাভাবিক চিন্তাধারা, মুক্তচিন্তা, সঙ্গীত এসবকিছু বাদ দিয়ে মানুষ বাধ্য হলো শুধু ফুয়েরারের ভাষণ শুনতে। চোখ-কান নিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক দেহে জন্ম নেয়া জার্মানীর নাগরিকরা পরিনত হতে থাকলো অন্ধ-বোবা-কালা জাতিতে। আর তার পেছনে মূল ভূমিকা যতটা না হিটলারের নাৎসীবাদ, তার চেয়ে বেশী গোয়েবলসের প্রচার কৌশল, Peoples Reciever নামের এই মিথ্যাযন্ত্র।

জার্মানীর ব্যাপারে সেসময় একটি কবিতা খুব জনপ্রিয় হয়েছিলো। তার অনুবাদ অনেকটা এরকম,

“Dear God Make me mute and dumb,
that to Dachau, I don’t come.
Dear God stuff up both my ears,
So neither one a clear word hears.
Dear God Make me deaf and blind
stop up my nose, befog my mind
In every way just let me show
Our world is wonderful, I know
Unseeing, deaf and mute and mild,
I am my Adolf’s dearest child.”

অল্পকথায় এই ছিলো মহান ‘ফুয়েরার’ অ্যাডলফ হিটলার আর তার তুখোড় মন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলস এর নাৎসী বিপ্লবের বাতাস ধরে রাখার থিওরি। একটা মিথ্যাকে দশবার বলা হলে সেটা সত্যের মতো শোনায়। আর জার্মানীর মানুষ সেই মিথ্যাই দিনে সহস্রবার করে শুনতো এই আজব বাক্স দিয়ে। এই বিষয়ে এক বক্তৃতায় গোবেবলস বলেছিলেন, “It is no exaggeration to say that the German revolution in the form it took, would have been impossible without the airplane and the radio..”

বেশ অনেক বছর পরে, ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে যখন এই সবের বিচার হচ্ছে, তখন হিটলারের মন্ত্রীসভার আর একজন মন্ত্রী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে হেন কোনো পদ্ধতি নাই, হেন কোনো প্রযুক্তি নাই – যেটা হিটলার তার জনগনের উপর প্রয়োগ করেননি।
তবুও তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। কিভাবে হবে? তথ্যের মুক্ত প্রবাহ বন্ধ করে মানুষকে শোষন করে কেউই রক্ষা পায়নি কখনো। আজ পৃথিবীতে নাৎসীবাদ বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু অবশেষ হিসেবে রয়ে গেছে গোয়েবলসের অনুসারিত প্রপাগান্ডা নীতি আর সেসময়ের কিছু বিকল ‘মিথ্যাযন্ত্র’।


(গোয়েবলসের পরিনতি না বলে শেষ করলে  মনে হয় পোস্টটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে,  মিত্রবাহিনীর হাতে জার্মানীর পতন যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, হিটলার অবরুদ্ধ অবস্থায় আত্বহত্যা করার আগে গোয়েবলসের হাতে ক্ষমতা অর্পন করে ছিলেন। নির্দেশ দিয়েছিলেন পিছু হটে আবার আক্রমন করার। গোয়েবলস দায়িত্ব পেয়ে বলেছিলেন, ফুয়েরারের নির্দেশ তার জীবদ্দশায় আমি কখনো অমান্য করিনি, কিন্তু আজ করছি, যা হবার হবে,আমরা পিছু হটবো না। একটা সময় তিনিও সপরিবারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবশেষে, আত্বসমর্পনের আহবান ফিরিয়ে দিয়ে ছয় সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষপ্রয়োগ করে নেতার মতোই আত্বহননের পথ বেছে নেন নাৎসী সরকারের এই কুখ্যাত মন্ত্রী।)
কৃতজ্ঞতা: ফিলোসফ ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডটকম

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

সৌরবিদ্যুত বদলে দিচ্ছে কুষ্টিয়ার কৃষকদের ভাগ্য

সোলার প্লান্টে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে সৌরশক্তিনির্ভর কৃষি প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে কৃষকের ভাগ্য বিদ্যুতের লোডশেডিং, বাড়তি বিলের বোঝাসহ লো-ভোল্টেজের ভয়ে এখন ভীত নয় কৃষক আর সেচপাম্প চালাতেও দরকার পড়ছে না ডিজেলের সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজন মতো জমিতে সেচ দিচ্ছে
সনাতন পদ্ধতিকে পেছনে ফেলে সৌর শক্তি নির্ভর সেচ প্রযুক্তির দিকে ছুঁটছে এখন প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক সৌরবিদ্যুত চালিত সেচ পাম্পের সফলতায় আশার আলো খুঁজে পেয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃষকরা সুইচ টিপেই পানি পেয়ে তারা নিজেরাও বেজায় খুশি
জানা যায়, কৃষকদের সেচ কাজের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে রহিম আফরোজ ফাউন্ডেশন আরডিএফ সোলার ইরিগ্রেশন পাম্পিং সিস্টেমের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে সৌরবিদ্যুত চালিত ডিপ সেচ পাম্প পদ্ধতি
আগে মিরপুর উপজেলার নওদাআজমপুর বুরাপাড়া এলাকার মানুষের সেচ কাজের জন্য বৈদ্যুতিক মোটর শ্যালো ইঞ্জিন চালিত সেচ পাম্প ব্যবহার করতো এর ফলে কৃষকের আবাদ খরচ বৃদ্ধি পেত অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত সেচের অভাবে অনেক জমি অনাবাদী থাকতো
কৃষকদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নওদাআজমপুর বুরাপাড়া মাঠে স্থাপন করা হয় ২টি সৌরবিদ্যুত চালিত সেচ পাম্প অঞ্চলে এখন প্রায় ৫০০ একর ফসলী জমিতে পানি সরবরাহ করছে এই সেচ পাম্প ফলে ভুক্তভোগী কৃষকরা এখন কোনো প্রকার বিপত্তি ছাড়াই তাদের জমিতে সেচ কাজ চালিয়ে উপকৃত হচ্ছে
নওদাআজমপুর এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান জানান, এবার তিনি বোরো চাষ করেছেন সৌর বিদ্যুতের সহায়তায় এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং প্রায় নিত্য দিনের লো-ভোল্টেজ এর কারণে মোটর চালানো যেতো না তারপর ঘন ঘন লোডশেডিং এর ফলে নষ্ট হয়ে যেতো পাম্প এদিকে বিদ্যুতের মূলও প্রায় আকাশ ছোঁয়া এখন সৌরবিদ্যুৎ পাম্পের ফলে প্রয়োজন মতো জমিতে সেচ দেওয়া যায় সেচের মূল্যও বেশি না আর সময় মতো সেচ দেওয়ার সু-ব্যবস্থা থাকায় যে জমিতে বছরে একবার ফসল চাষ হতো সে জমিতে বছরে তিনবার ফসল চাষ করা যাচ্ছে
শুধু নওদাআজমপুর মাঠেই নয় উপজেলার চিথলিয়া মাঠে চালু হয়েছে ৩টি, নওয়াপাড়া মাঠে ১টি সৌরবিদ্যুৎ সেচ প্রকল্প এতে একদিকে যেমন বিঘা প্রতি সেচ খরচ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা কমে এসেছে অন্যদিকে সময়মত পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ফসলের উৎপাদনও বেড়েছে
মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, রহিম আফরোজ ফাউন্ডেশন আরডিএফ সোলার ইরিগ্রেশন পাম্পিং সিস্টেমে ধরনের সৌর বিদ্যুৎ সেচ প্রকল্প চালু করেছে সেচ প্রকল্পে খরচ অনেক কম সারা বছরই সেচ কাজ চালানো যায় এবং এটা পরিবেশ বান্ধব বিএডিসি (সেচ) এর সহকারী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সেচ পাম্প চালাতে হলে প্রয়োজন নেই তেল কিংবা বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই এনার্জি রিজারর্ভার হিসেবে ব্যাটারি শুধু প্রয়োজন সূর্যের আলো সৌরশক্তিকে সরাসরি ব্যবহার করে কৃষক তার জমির সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবে
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, মাঠে মাঠে ধরনের সৌর বিদ্যুৎ পাম্পের ফলে কৃষকদের কৃষি সেচ কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে তারা বর্তমানে আর বিদ্যুতের উপর নির্ভর করছে না এতে খরচও তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে

মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন জানান, বর্তমান সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী সরকার দেশের কৃষি খাতকে আরো উন্নত এবং কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ধরনের নানা মুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আর সৌর বিদ্যুৎ সেচ পাম্পের ফলে কৃষকরা প্রয়োজন মতো সেচ সুবিধা পাচ্ছে অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের ওপরও চাপ কমছে

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৫

ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচীনতম কুরআনের পান্ডুলিপি ও ইংরেজ কর্তৃক মুসলিম স্থাপত্য লুটের ইতিহাস

ব্রিটেনের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পাওয়া গেছে পৃথিবীর প্রাচীনতম কুরআন শরীফের পান্ডুলিপির একাংশ।পান্ডুলিপির চারটি পৃষ্ঠার মধ্যে প্রথম দুই পৃষ্ঠায় কুরআন শরীফের ১৯ নম্বর সূরা মারইয়ামের ৯১-৯৮ নম্বর আয়াত ও ২০ নম্বর সূরা ত্বা-হার ১-৪০ নম্বর আয়াত। অন্য দুই পৃষ্ঠায় রয়েছে ১৮ নম্বর সূরা কাহাফের ১৭ থেকে ৩১ নম্বর আয়াত। ২০১১ সালে সন্ধান পাওয়া পান্ডুলিপির পাতা কয়েকটি রেডিও কার্বন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করে এ বছর বলা হচ্ছে এটি কমপক্ষে ১৩৭০ বছর আগে ৬৪৫ সালে লেখা হয়েছে। এই হিসাবে পান্ডুলিপিটি নবীজীর (সা.) ওফাতের ১৩ বছরের ও তৃতীয় খলিফা হযরত উসমানের (রা.) খেলাফতের দ্বিতীয় বছরের মধ্যে লেখা হয়েছে।

বৃটিশ গবেষকরা কুরআনের এই প্রাচীনতম পান্ডুলিপির হদিশ পেয়ে দারুণ উচ্ছসিত। তারা বলছেন, যেই ব্যক্তি এটি লিখেছেন তার সাথে নবীজীর (সা.) সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল। সহজ কথায় একজন সাহাবী (রা.) পান্ডুলিপিটি লিখেছেন।

কুরআনের প্রাচীনতম পান্ডুলিপিটি নিজেদের কাছে থাকায় এবং এটি দেখতে বিশ্বের মুসলমানরা বেশ আগ্রহী হবেন ভেবে বৃটিশরা বেশ খুশি। কোনো এক সাহাবীর (রা.) হাতে লেখা কুরআনের পান্ডুলিপির হদিশ জানতে পেরে সারা বিশ্বের মসুলমানদের মধ্যেও বেশ খুশি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মক্কা বা মদীনায় লিখিত কুরআনের পান্ডুলিপি ব্রিটেনে যাওয়া নিয়ে এরই মধ্যে বহু মুসলমানের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জনপ্রিয় আমেরিকান মুসলিম পন্ডিত আবু আম্মার ইয়াসির কাজী জানিয়েছেন তিনিও কুরআনের প্রাচীনতম পান্ডুলিপির ব্রিটেনে উদ্ধারের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হয়েছেন।
ইয়াসির কাজী বলছেন, অনেক মুসলমানই আমার কাছে জানতে চেয়েছেন কিভাবে প্রাচীন আমলের বহু ইসলামী দলিল-পান্ডুলিপি অমুসলিম দেশ ও লাইব্রেরিতে গেল। জবাবে আমি বলেছি, সহজ কারণ হল ঔপনিবেশিকতা ও পয়সার জোর। কিছু পান্ডুলিপি স্রেফ দখল করা হয়েছে, তবে ঐতিহাসিক মূল্যের কথা বিবেচনা করে ইউরোপীয় পর্যটকরা বেশির ভাগ পান্ডুলিপিই ব্যক্তিগত মালিকদের কাছ থেকে বা কালোবাজার থেকে অর্থের বিনিময়ে খরিদ করেছেন।

ইয়াসির কাজীর কথার সূত্র ধরে কুরআনের প্রাচীনতম পান্ডুলিপি খুঁজে পাওয়ার তথ্যানুসন্ধান করে জানা গেছে, মুসলিশ বিশ্বে পশ্চিমা শক্তিগুলোর দখলদারি, উপনিবেশ স্থাপন ও প্রত্নসম্পদ লুণ্ঠনের ঐতিহাসিক কালো অধ্যায় সম্পর্কে।

যেভাবে বৃটেনে গেল প্রাচীনতম কুরআন
১৭৫৭ সালে সুবে বাংলাকে পরাধীন করার মধ্য দিয়ে মুসলিম শাসনাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয়। আর ১৮৮৮ সালে মিশর দখল করা হয়। মুসলমানদের দুই সাম্রাজ্যের মাঝখানে থাকা উসমানীয়া সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তুরস্কে সেক্যুলার জাতীয়তাবাদ ও আরব জনপদে আরব জাতীয়বাদ তৈরি করে ব্রিটিশরা।

বৃটিশদের সাথে সাথে আরব জনপদে উপনিবেশ ও দখলদারিতে লিপ্ত ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, অস্ট্রিয়াসহ পশ্চিমা দেশগুলো। তবে উসমানীয়া সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে আরব বিশ্বকে উপনিবেশে পরিণত করার মূল কুচক্রী ছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্স।

মিশর দখলের ২৬ বছর পর ১৯১৪ সালে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, যা ১৯১৮ সালে শেষ হয়। এই যুদ্ধের দ্বিতীয় বছর ১৯১৫ সালে বৃটেনের স্যার মার্ক সাইকস ও ফ্রান্সের ফ্রান্সিস জর্জেস পিকোট উসমানীয়া খেলাফতকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়ার গোপন চুক্তি করে।
সাইকস-পিকোট চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটেন জর্ডান, ইরাক ও  কুয়েত এবং ফ্রান্স সিরিয়া, লেবানন ও দক্ষিন তুরস্ক ভাগ করে নেয়ার প্রস্তাব করে।

যদিও এ সময় আরবদের সাথে ব্রিটিশরা চুক্তি করেছিল যে তুরস্ক কেন্দ্রিক উসমানীয়া খেলাফত থেকে আরব জাতি স্বাধীনতা পাবে। আরেকটি চুক্তি হয়েছিল ইউরোপে থাকা ইহুদিদের ফিলিস্তিনে থাকার জন্য বসতি নির্মাণের সুযোগ দেবে ব্রিটিশরা।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা গেল আরবদের সাথে করা চুক্তি না মেনে নিজেদের মধ্যে আরব বিশ্বকে ভাগ করে নেয়া আর ইহুদিদের ফিলিস্তিনে পুনর্বাসনের চুক্তি ব্রিটেন-ফ্রান্স ঠিকই মেনে নিয়েছে।
ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গঠিত জাতিপুঞ্জ বা লিগ অব নেশনস অনেকটা সাইকস-পিকোট চুক্তির রূপরেখা অনুযায়ী উসমানীয়া খেলাফতকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে বন্টন করে দেয়।



আর ব্রিটেন-ফ্রান্স আরব দেশগুলোতে নিজেদের বশংবদ আরব গোত্রপতিদের রাজা-শাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ সময় ব্রিটেনের ভাগে আসা ইরাককে রাজা হিসেবে বসানো হয় হাশেমী বংশের কুখ্যাত দালাল ফয়সালকে।
ফয়সালের সময়ে ইরাকের প্রাচীন জমানার ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ ও প্রত্নসম্পদসমূহ লুট হতে শুরু করে। পশ্চিমারা যেমন দুহাতে লুট করে, তেমনি পয়সার লোভ দেখিয়ে স্থানীয় লুটেরাদের দিয়েও ঐতিহাসিক সম্পদ হাতাতে থাকে পশ্চিমারা। এ সময় সিরিয়-মিশরসহ আরবের সকল প্রাচীন জনপদই এই লুণ্ঠনের শিকার হয়।
আর ফয়সালের সময়কালেই ১৯২০ এর দশকে আরব বিশ্বের তিন হাজারেরও বেশি দলিল-দস্তাবেজ ব্রিটেনের বার্মিংহামে নিয়ে যান ইরাকের কলদিয় খ্রিস্টান পাদ্রী আলফন্স মিনগানা।

দলিলগুলো ইরাক থেকে ব্রিটেনে নিয়ে যেতে মিনগানাকে অ্যাডওয়ার্ড ক্যাডবারি অর্থের যোগান দেন। আর এই দলিলগুলোর মধ্যেই প্রাচীনতম কুরআনের পান্ডুলিপির অংশ ছিল বলে দাবি করেছে ব্রিটেন ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি।বিবিসির এ দাবির সূত্র ধরে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অ্যাডওয়ার্ড ব্রিটেনের বার্মিংহামের বিখ্যাত চকলেট প্রস্তুত প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাডবারির প্রতিষ্ঠাতা জন ক্যাডবারির নাতি। তিনি পারিবারিক চকলেট ব্যবসায় জড়িত থাকলেও কলেজ প্রতিষ্ঠা, মিডিয়া ব্যবসা ও ব্যাবসা বিষয়ক তাত্ত্বিক ছিলেন।

আর পাদ্রী মিনগানা তুরস্কের সীমান্ত সংলগ্ন ইরাকের মুসলের জাখো জেলার আসিরিয়ান গ্রাম শারানিসে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি ১৯১৩ সালে বার্মিংহামের সেলি অক এলাকার খ্রিস্টান ধর্মীয় গোষ্ঠী কোয়্যাক এর আমন্ত্রণে দুই বছরের জন্য ব্রিটেনে যান। কিন্তু ১৯১৫ সালে তিনি নরওয়েজিয়ান ছাত্রী এমা সোফি ফ্লোরকে বিয়ে করে ব্রিটেনে থেকে যান এবং ম্যানচেস্টারের জন রিল্যান্ড লাইব্রেরিতে আরবী পান্ডুলিপি বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন, এখানে তিনি ১৯৩২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।এর মধ্যেই ১৯২০ এর দশকে জন রিল্যান্ড লাইব্রেরি ও অ্যাডওয়ার্ড ক্যাডবারির কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিন দফা ইরাক সফর করেন পাদ্রী মিনগানা।
১৯২৪ সালের বসন্তে প্রথম সফরে লেবানন, সিরিয়া ও ইরাকে যান মিনগানা। সেখান থেকে তিনি জন রিল্যান্ড লাইব্রেরির জন্য ২২টি আরবী ও সিরীয় ভাষায় লিখিত কিছু প্রাচীন পান্ডুলিপি নিয়ে ব্রিটেনে ফেরেন। এ সময় ক্যাডবারির জন্যও কিছু সিরীয় পান্ডুলিপি আনেন তিনি।

পরের বছর শরৎকালে অ্যাডওয়ার্ড ক্যাডবারির একক অর্থায়নে সিরিয়া, ইরাক ও দক্ষিণ কুর্দিস্তান সফরে গিয়ে বেশ কিছু সিরীয় পান্ডুলিপির সঙ্গে কিছু আরবী পান্ডুলিপিও সংগ্রহ করে ব্রিটেনে ফেরেন মিনগানা।
সর্বশেষ ১৯২৯ সালে সিনাই উপত্যকা ও মিশরের নীল নদের দুই তীরবর্তী এলাকা সফর করে বেশ কিছু আরবী পান্ডুলিপি সংগ্রহ করেন, এর মধ্যে কয়েকটি পান্ডুলিপি ছিল মিশরের কপ্টিক এবং গ্রিক ভাষায় লিখিত। ১৯৩২ সালে মিনগানা ব্রিটেনে ফেরার পর প্রথম দু বছর আরব থেকে আনা দলিলের ক্যাটালগ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে ১৯৩৪ সালে তিনি সেলি অক কলেজসমূহের লাইব্রেরির কিউরেটর হিসেবে যোগ দেন। সেলি অক কলেজগুলো ছিল মূলতঃ প্রটেস্টান্ট খৃস্টান সম্প্রদায়ের বিশেষ গোষ্ঠী কোয়েকার এর সদস্যদের নিয়ে গঠিত ধর্মীয় বন্ধু সমাজ প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন কলেজের ফেডারেশন। কোয়েকার বন্ধু সমাজের অন্যতম সংগঠক ছিলেন অ্যাডওয়ার্ড ক্যাডবারি। পরবর্তীতে অন্য প্রটেস্টান্টরাও সেলি অকের বিভিন্ন কলেজ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন।

সেলি অক কলেজগুলোতে ধর্মতত্ত্ব ও সমাজকর্ম বিষয়ে পড়ানো হত এবং শিক্ষক প্রশিক্ষন দেয়া হত। এগুলো পরবর্তীতে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ওয়েস্টহিল কলেজ ২০০১ সালে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একীভূত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে উডব্রুক কলেজ ও ফারক্রফ্ট কলেজ ছাড়া সব কলেজই বন্ধ হয়ে গেছে।

সেলি অক কলেজ ফেডারেশনের লাইব্রেরির কিউরেটরের দায়িত্ব নেয়ার পর আলফন্স মিনগানা মাত্র তিন বছর বেঁচে ছিলেন। তবে শেষ বেলাতেও প্রাচীন পান্ডুলিপি ও দলিল-দস্তাবেজ সংগ্রহ করে লাইব্রেরিটি সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন তিনি।এর অংশ হিসেবে মিনগানা ১৯৩৪ সালের মে মাসে এবং ১৯৩৬ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সুইজারল্যান্ডের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ব্যবসায়ী তরুণ এরিক ভন শেরলিংয়ের কাছ থেকে আরব থেকে আনা বেশ কিছু দলিল দস্তাবেজ কেনেন।
এরিক ভন ছিলেন একজন সুইডিশ কূটনীতিকের ছোট ছেলে, তিনি বাবার কর্মস্থল নেদারল্যান্ডের রটারডামে ১৯০৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলের পাঠ চুটিয়ে লেইডেনের প্রাচীন বইয়ের বিক্রেতা জেকব গিন্সবার্গের সাথে কাজ শুরু করে এরিক আরবদেশের প্রাচীন পান্ডুলিপি, আরবী ও ল্যাটিন ভাষার উপর বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে দক্ষতা অজর্ন করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ওই সময়ে আরব বিশ্বের প্রত্নসম্পদ, প্রাচীন পান্ডুলিপি ও দলিল-দস্তাবেজ এতই হরিলুট হচ্ছিল যে মাত্র ২১ বছর বয়সেই এরিক ভন ওই সবের একজন আন্তর্জাতিক কারবারিতে পরিণত হন।

ভাষা বিজ্ঞানী অস্ট্রেরিয়ান অ্যাডল্ফ গ্রোম্যানকে প্যাপিরাস গাছের বাকল দিয়ে তৈরি কাগজের উপর লিখিত মিশরের কিছু প্রাচীন পান্ডুলিপি (প্যাপিরি) দেখিয়েছিলেন এরিক ভন। গ্রোম্যান আরব, মিশর ও সেমিটিক তত্ত্ববিদ ছিলেন। তিনি এরিকের সংগ্রহগুলো দেখে এসব কিনতে জার্মানির কিছু লাইব্রেরিকে সুপারিশ করেন। কিন্তু ৩০ এর দশকে জার্মানি থেকে বাইরের কারো কাছে মূল্য পরিশোধ করা সুযোগ ছিল না। ফলে জার্মানির বদলে ব্রিটেনে মিনগানার কাছে ওই প্যাপিরি এবং কুরআনের প্রাচীন পান্ডুলিপির ভগ্নাংশ বিক্রি করে দেন এরিক ভন।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, এরিক ভনের কাছ থেকে ১৯৩৬ সালে আলফন্স মিনগানার কেনা দলিল-দস্তাবেজের মধ্যে চামড়া ও প্যাপিরাসের উপর লিখিত কুরআনের সাতটি প্রথম যুগের পান্ডুলিপি ছিল।
প্রসঙ্গত, সেলি অক কলেজ ফেডারেশন লাইব্রেরিটি পরবর্তীতে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্গীভূত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাডওয়ার্ড ক্যাডবারি ও আলফন্স মিনগানার সংগ্রহ নিয়ে ‘‘অ্যাডওয়ার্ড ক্যাডবারি গবেষণা লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছে।এই লাইব্রেরিতে বিশেষ সংগ্রহ হিসেবে মজুদ রয়েছে মিনগানার সংগ্রহগুলো। যা মিনগানা সংগ্রহ হিসেবে পরিচিত। মিনগানার সংগ্রহগুলোর উপর ১৯৩৩ সালে ৬০৬টি সিরীয় পান্ডুলিপির ক্যাটালগ, ১৯৩৬ সালে ১২০টি খ্রিস্টান আরবী পান্ডুলিপি ও ১৬টি সিরীয় পান্ডুলিপি এবং ১৯৩৭ সালে মিনগানার মৃত্যুর দুবছর পর ১৫২টি খ্রিস্টান আরবী পান্ডুলিপি ও ৪০ টি সিরীয় পান্ডুলিপির ক্যাটালগ প্রকাশিত হয়।

যেভাবে পাওয়া গেল প্রাচীনতম কুরআনের হদিশ
আলবা ফেদেলি কুরআনের প্রথম জমানার পান্ডুলিপি, সেসবের হরফ এবং বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সংগ্রহ বিভাগে থাকা আলফন্স মিনগানার দলিল বিষয়ক পিএইচডি গবেষণা করেন। আলবা প্রায় চার বছর ধরে পরিচালিত গবেষণার উপর লেখা থিসিস পেপার গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর জমা দেন। পরে গত ১০ জুলাই তাকে পিএইচডি ডিগ্রী দেয়া হয়। আলবা ফেদেলি গবেষণা করতে গিয়ে ২০১১ সালে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডওয়ার্ড ক্যাডবারি গবেষণা লাইব্রেরিতে কুরআন শরীফের প্রাচীনতম পান্ডুলিপির সন্ধান পান। কুরআনের প্রাচীন পান্ডুলিপি নিয়ে গবেষণা ও প্রাচীনতম পান্ডুলিপিটি খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে ২০১৩ সালেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান আলবা ফেদেলি।
তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে আমার দিকনির্দেশক শিক্ষক ইটালির প্রয়াত অধ্যাপক সার্গিও নোজা নসেদা আমাকে ইহুদি ভাষাবিদ জর্জীয় লেভি ডেইয়া ভিদার ১৯৪৭ শীর্ষক সংগ্রহের প্রদর্শনীর ক্যাটালগে প্রকাশিত পশুর চামাড়ার উপর লেখা কুরআনের কিছু প্রাচীন পান্ডুলিপি দেখান।ক্যাটালগের এই ছবিগুলো দেখিয়েই গিওভানি গালবিয়াতি তরুণ পন্ডিত নসেদাকে কুরআনের পান্ডুলিপি নিয়ে অধ্যয়ন করতে পরামর্শ দেন।
ড. আলবা বলেন, নসেদার অধ্যয়নের এই কাহিনী শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই কুরআনের পান্ডুলিপি নিয়ে আমার অধ্যয়ন শুরু করি। আর কুরআনের একটার পর একটা পান্ডুলিপির তালাশের সূত্র ধরেই আমি ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালেয়ে এসে পৌঁছাই।আলবা জানান, তিনি বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডবারি গবেষণা লাইব্রেরির মিনগানা সংগ্রহ হিসেবে থাকা কুরআনের প্রাচীনতম পান্ডুলিপি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।
বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর টেক্সচুয়াল স্কলারশিপ অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক এডিটিং (আইটিএসইই) এর অ্যাডওয়ার্ড ক্যাডবারি অধ্যাপক ডেডিড পার্কারের তত্ত্বাবধানে ও ব্রিটেনের আর্টস অ্যান্ড হিউমিনিটিজ রিসার্চ কাউন্সিল অর্থায়নে গবেষণা শুরু করেন আলবা ফেদেলি।
তিনি জানান, বার্মিংহাম বিশ্বিবদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে থাকা কুরআনের প্রাথমিক যুগের চারটি পান্ডুলিপি ছিল তার গবেষণার ক্ষেত্র।
পান্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রথমটি হল মিনগানা ইসলামিক অ্যারাবিক ১৫৭২, যা পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি নয়টি কাগজে লেখা। এর দুটি অংশ ছিল। যার একাংশের সাথে  পিটার্সবুর্গের মার্সেল ১৭ ও দোহার ইসলামী আর্ট যাদুঘরের এমআইএ ৬৭ সংগ্রহের মিল রয়েছে।
দ্বিতীয় পান্ডুলিপিটি হল মিনগানা ইসলামিক অ্যারাবিক ১৫৬৩, যা মূলতঃ পশুর চামড়া দিয়ে তৈরি ৩৯টি কাগজে লেখা প্রাচীন কুরআনের পান্ডুলিপি।
তৃতীয় পান্ডুলিপিটি হল এরিক ভন শেরলিংয়ের কাছ থেকে কেনা প্যাপিরির সাথে থাকা কুরআনের পান্ডুলিপির ক্ষুদ্রাংশ। চতুর্থ পান্ডুলিপিটি নিয়েই এখন সারা দুনিয়া তোলপাড় হচ্ছে। এই পান্ডুলিপিটি ক্যাডবারি গবেষণা লাইব্রেরিতে মিনগানা ক্রিশ্চিয়ান অ্যারাবিক অ্যাডিশনাল ১৫০) নামে অতিরিক্ত সংগ্রহ হিসেবে ছিল।
ড. আলবা বলেন, ঘঁষামাজা করে মূল লেখার উপর লেখায় পান্ডুলিপিটি বিকৃত (প্যালিম্পসেস্ট) এবং খ্রিস্টান ধর্মের অপরিচিত লিখিত দলিল হিসেবে ভুল ক্যাটালগ করায় পান্ডুলিপিটির হদিশ বহু বছর ধরেই গোপন ছিল। গবেষণা করতে গিয়ে আমি দেখতে পাই যে, এর মূল লেখাগুলো কুরআনের অংশ, যার সাথে হুবহু মিল আছে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে থাকা লুইস-মিনগানা প্যালিম্পসেস্ট (ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি ওরিয়েন্টাল ১২৮৭) নামে পরিচিত কুরআনের বিখ্যাত পান্ডুলিপির।
আলবা জানান, আলফন্স মিনগানার মৃত্যুর দু বছর পর ১৯৩৯ সালে ভুল ক্যাটালগ করার পর কুরআনের এই প্রাচীনতম পান্ডুলিপিটি ২০১১ সাল পর্যন্ত অযত্ন-অবহেলার শিকার হয়েছে।
এর জন্য মিনগানাকে কিছু দায়ীই মনে করেন আলবা ফেদেলি। তার মতে, এটা খুবই সম্ভব যে প্যালিম্পসেস্টেড হয়ে যাওয়া কুরআনের এই পান্ডুলিপির মূল লেখার সম্পর্কে মিনগানা জানতেন। কারণ ১৯৩৭ সালে অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করে পান্ডুলিপিটির কয়েকটি ছবি তুলে তিনি কিছু পরীক্ষী-নিরীক্ষা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।পরবর্তীতে আলবা ফেদেলি কুরআনের এই পান্ডুলিপিটি কত প্রাচীন জানতে রেডিওকার্বন পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন।অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওকার্বন অ্যাক্সেলেরেটর ইউনিট ওই পাণ্ডুলিপি পরীক্ষা করার পর জানায়, পাণ্ডুলিপিটি ছাগলের বা ভেড়ার চামড়ার ওপর ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে কোন এক সময় লেখা হয়েছিল। এটি কোরআন শরিফের সবচেয়ে পুরোনো পাণ্ডুলিপি।
বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সংগ্রহবিষয়ক পরিচালক সুসান ওরাল বলেন, আমরা জানতাম এটি বেশ পুরোনো। তবে গবেষকরা কখনোই আশা করেননি এটি মহানবীর (সা.) জীবিত অবস্থায় লেখা হতে পারে।বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্রিষ্ট ও ইসলামতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড টমাসের মতে, খোঁজ পাওয়া পাণ্ডুলিপির অংশবিশেষ যিনি লিখেছেন, তিনি সম্ভবত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় বেঁচে ছিলেন। হয়তো তিনি মহানবী (সা.)-কে চিনতেন। হয়তো মহানবী (সা.)-এর বাণী তিনি সরাসরি শুনেছেন।
টমাস বলেন, ওই পাণ্ডুলিপি আমাদের ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রকৃত সময়ের কাছাকাছি বছরগুলোতে নিয়ে যায়।
ব্রিটিশ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইসা ওয়ালি বলেন, সুন্দর ও স্পষ্টভাবে হিজাজি লিপিতে (মক্কা-মদীনাসহ হিজাজ অঞ্চলে এ লিপিতেই আরবী লেখা হত) লেখা ওই দুটি পৃষ্ঠা ইসলামের প্রথম তিন খলিফার সময়ের।

প্রাচীনতম কুরআন কি নিজ দেশে ফিরবে?

ঔপনিবেশিক দখলদারির সময়ে লুণ্ঠিত হয়ে আরব বিশ্ব থেকে ব্রিটেনে গিয়েছে অজানা এক সাহাবী লিখিত কুরআনের প্রাচীনতম পান্ডুলিপি। তাও আবার প্রায় ৮০ বছর ধরে অযত্নে-অবেহলায় পড়েছিল সংগ্রহশালার অবিন্যস্ত বাড়তি দলিল হিসেবে। এখন প্রশ্ন হল, কুরআনের প্রাচীনতম দলিলটির সন্ধান জানার পর এটি কি ইরাক, সিরিয়া, মিশর বা সৌদি আরবে ফেরত পাঠানো হবে? সম্ভবত উত্তরটি না।
কারণ ঔপনিবেশিক দখলদারি, শোষণ ও লুণ্ঠন সম্পর্কে সংবদেনশীল মুসলমানদের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রশ্ন থাকলেও মুসলিম দেশগুলোর শাসকদের এমন প্রশ্নও যেমন নাই, তেমিন ঐতিহ্যের উপর নিজেদের উত্তরাধিকারের দাবি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক দরবার করতেও তাদের আগ্রহ নেই।
অবশ্য এরই মধ্যে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কুরাআনের প্রাচীন পান্ডুলিপির দখলিসত্ত্ব নিয়ে  অবস্থান পষ্ট করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সংগ্রহবিষয়ক পরিচালক সুসান ওরাল বলেন, এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, পৃথিবীর প্রাচীনতম কুরআনের একটি অংশ আমাদের কাছে আছে। এটি নিয়ে আমরা গর্বিত।

আর বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় একথাও জানিয়েছে, আসছে অক্টোবরের ২-২৫ তারিখ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বারবার ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টস কুরআনের প্রাচীনতম পান্ডুলিপি উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। 
(অনলাইন বাংলার সৌজন্যে)