ছবির মতোই সুন্দর ছিল আমার গ্রামটা...

বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচলের কোন উপায় থাকতোনা। যেন মহসড়কের পাশে বিচ্ছিন্ন ছোটএকটা দ্বীপ।

সমস্যা যত বড়ই হোক, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে

আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জের সব দর্শনীয় স্থানে

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলায়ই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। যা আমাদের দেশকে করেছে আরো সমৃদ্ধ। শত বছর ধরে লাখো পর্যটককে করেছে আকৃষ্ট।

মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম: ফাদার তেরেসা

অসহায়, দুস্থ মানুষের সহায়তাই তার ধ্যান-জ্ঞান।সহিংসতার বিপরীতে তিনি অসহায়ের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।তিনি পাকিস্তানের আবদুল সাত্তার ইদি।অসম্ভব মানবসেবার কারনে ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার দেশে ফাদার তেরেসা নামেই বেশি পরিচিত।

‘মানসিক প্রশান্তির জন্য সাইকেল’

যাত্রা পথে পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তা আর ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে বিকল্প হলো একটা বাই সাইকেল। তাছাড়া ইদানিং স্বাস্থ্যটার দিকেও মনে হচ্ছে একটু যত্ন নেয়া দরকার।

পরিবেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পরিবেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০১৭

আরে ভাই, সাংবাদিকতায় কি এসব ভাবলে চলে??

সকাল থেকেই অাকাশের মন ভালো নেই। সেই সাথে আমার শরিরটাও। চিকুনগুনিয়ার প্রভাবে সুস্থ্য হওয়ার পরেও সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হয়।  মনে হয়, হাত-পা ও মেরুদন্ড কেমন রোবটিক হয়ে আছে।  তার উপর আবার গতরাতে সোয়া একটায় বাসায় ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে ৩ টা তাই সকালে ঘুম ভাঙলো ৯ টায়।
চিকুনগুনিয়ারর প্রভাবে যেন অলসতায় পেয়ে বসলো। তার উপর ফেসবুসে ঢুকে সহকর্মী উজ্জলের জাতীয় অলস দিবসেন স্ট্যাটাস দেখে দেহটা যেন আরো আস্কারা পেয়ে বসলো।

তাছাড়া সকালে কাজও নেই তেমন গুরুত্বপুর্ন, এসাইনমেন্ট যেটা আছে তা বিকাল ৩ টায়। কিন্তু এরপরেও আমলাদের ফলোয়াপ বলে কথা...কাজ না থাকলেও সেক্রেটারিয়েটের গাছতলায় গিয়ে বসে থাকতে হবে। এটাই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

ঘড়ির কাটা ১১ টা ছুই ছুই করছে...। নাহ আর বসে থাকা যায়না ৩০ মিনিটের মধ্যে সেক্রেটারিয়েটের  গাছতলায় পৌছুতে না পারলে কেলেংকারি হয়ে যেতে পারে। সব আলসেমি দুরে ঠেলে ফ্রেস হতে যাবো অমনি দেখি আকাশ মসাই প্রচন্ড গোস্বা করলেন। কথা বার্তা ছাড়াই শুরু করলেন কান্না। সে কি কান্না। তর্জন গর্জন দিয়ে কান্না। তখনই ভাবলাম এই সেরেছেরে..এত থামার কোন লক্ষন দেখছিনা।। এত কান্নায় নির্ঘাত বাসার সামনে হাটুপানি হয়ে যাবে।

এরই মধ্যে গোসল, নাস্তা সেরে দেখি মোবাইলের স্ক্রীনে ভাসছে চারটা মিসড কল। এর মধ্যে তিনটাই অফিসের নাম্বার থেকে। এতগুলো মিসড কলে বিচলিত হইনি, প্রত্যাশিতই ছিল।
এই মুহুর্তে উচিৎ কাজ হলো কল ব্যাক করা। কিন্তু এমন বৃষ্টিস্নাত সকাল সকাল কে বকা শুনতে চায়?নিশ্চয় ফোনে ভাইয়া যখন শুনবেন আমি এখনও বাসায়, তখন টেলিফোনের ওপারে চোখ কপালে তুলে তিনি রাজ্যের বিস্ময় প্রকাশ করবেন।

তারচে ভালো এমন বৃষ্টির কিছু দৃশ্য মোবাইলে ধারন করে বৃষ্টি বিলাশী কিছু বন্ধুর মনোরঞ্জন করি। করলামও..। কিন্তু তাতে আমারতো মনোরঞ্জন হচ্ছেনা। এসাইনমেন্টে যাওয়ার অস্থিরতাও  কমছেনা।  আর ওদিকে আকাশের কান্না থামারও কোন লক্ষন আপাতত দেখা যাচ্ছেনা।

তাই কূল না পেয়ে পাশের রুমের আরেক সংবাদ কামলা ভাইকে বললাম কী করা যায়? উনিও একই অস্থিরতায় ভুগছে। কারন প্রেসক্লাবে উনার চলছে গুরুত্বপুর্ন সেমিনার। মিস করলে লস। তাকে বললাম চলেন..উনি বলে এ্যাতো বৃষ্টিতে ক্যামনে যাই।
বল্লাম অারে ভাই, সাংবাদিকতায় এসব চলে? ঝড়, বৃষ্টি বা রোদ, কিংবা রাস্তায় হাটু পানি এসবকি আর বুঝবে রানডাউন! আপনি সুস্থ্য না অসুস্থ্য তা দিয়েত আর মিডিয়া চলবেনা। যথাসময়ে স্পটে উপস্থিত...। "আকতার আপনিকি শুনতে পাচ্ছেন?...হ্যা শুনতে পাচ্ছি। "  লাইভে অনএয়ার থেকে শুনতে পাওয়াটাই শেষ কথা।

যাইহোক বৃষ্টি দিনে ড্রেস কী হবে? কি পড়ে যাবো। বসের কড়া নির্দেশ লুথার মতো যাওয়া চলবেনা। আমারও একই মত, রাষ্ট্রের সবচে গুরুত্বপুর্ন ব্যাক্তিদের অনুষ্ঠানে কি আর সেন্ডেল পড়ে যাওয়া কি শোভা পায়? কিন্তু রাস্তায় যে হাটু সমান পানি।

আরে ভাই সাংবাদিকতায় কি এতো কিছু ভাবলে চলে। আসেন বের হই। বাধ্যছেলের মতো ভাগিনার ছোট ছাতাটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। ছোটদের ছোট এই ছাতায় দুই জনের মাথা সুরক্ষা হলেও প্যান্টসহ পুরো শরির ভিজেই গেলো। বাধ্যহয়ে ভাবলাম পায়েহাটার পথটুকু রিক্সায় যাই। রিক্সাঅলাও প্রত্যাশার বাইরে কোন আচরন করলো না। বিশ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা। খুবই ন্যায্য আবদার।
এরই মধ্যে রাজ্য জয়ের মতো অানন্দ নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের পরই মনে হলো আজকেত গাছতলায় বসা যাবেনা। বুদ্ধি করে ঢুকলাম ক্যানটিনে। কিন্তু কতক্ষন..?? বৃষ্টি যে থামার নাম নেই।  ক্যান্টিন বয় গুলোর ধৈর্য্যের বাধ যেন ভেঙ্গে গেলো। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই কাছে এসে বললো মামা কাস্টোমার বসতে পারছেনা..মানে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু আমাদেরও উপায় নেই। থাকতে হবে সাড়ে তিনটা অবধি। কেননা তখন কিছু একটা  নিউজ হয়তো পাওয়া যাবে।
ক্যান্টিন বয়ের আচরনে মনে হলো, গ্রামে কিছু চালাক দোকানদারদের কথা যারা টিভি দেখায় খদ্দের আটকে রাখে আবার কিছু না কিনলে উঠায় দেয়।

যাইহোক এখানে যেহেতু কিছু কিনতে পারলাম না তাই চেয়ারটা ছেড়েই দিতে হলো। ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে ফের দ্বিতীয়বার বৃষ্টি ধর্ষন হলাম।।

(( বি.দ্র. যারা এই লেখাকে নিছক ফাও প্যাচাল মনে করছেন তাদেরকে বলছি।। এছাড়া আর কী লিখবো বলেন? ৫৭ ধারার যাতা কলে যেভাবে সাংবাদিক নির্যাতন শুরু হইছে। তাই কী লিখে আবার কার আত্নসম্মানে অাঘাত দেই, পিছে মামলার ঝুঁকি। তারচে বরং নিজেকে নিয়ে খাজুরে গল্প লেখি তাতেও যদি হাতের চুলকানি কিছুটা কমে। ধন্যবাদ।।))

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৭

হাওরবাসীর দুর্দিন: জনসাধারনের ত্রাণ তৎপরতা কই?

প্রকৃতির বৈরিতায় নিঃস্ব হাওরের লাখো মানুষ। বৃষ্টির পানি আর উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭ জেলার ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা। নষ্ট হয়েছে কৃষকের প্রায় পেকে যাওয়া একমাত্র ফসল ধান। প্রকৃতির এই আচরণে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব হাওরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ।



শুধু একমাত্র ফসল ধানই নয়, বিষাক্ত পানিতে মারা পড়ছে টনের পর টন মাছ। মারা যাচ্ছে হাস মুরগীর মতো গৃহপালিত পশুও। ফলে হাওরের এইসব কৃষিজীবি মানুষদের চোখেমুখে এখন শুধু অন্ধকার। 




একটি বেসরকারি টিভি প্রতিবেদনের দেখলাম, একজন বয়োবৃদ্ধ কৃষক  তার দু:খ কষ্টের কথা বলতে গিয়ে বলছেন, ‘ মনে কয়, পানিতে ঝাঁপ দিয়া মইরা যাই, পোলাপাইন লইয়্যা এখন কেমন চলমু, কী খাওয়ামু’  তার এমন দুর্দশার কথাশুনে  মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো। 



কৃষি নির্ভর আমাদের এই দেশে,দুর্ভিক্ষের  যে পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে, তা থেকে হয়তো বাঁচতে পারবোনা আমরাও। কারন সব সময়ই দেখে আসছি, কারনে অকারনে সময়ে অসময়ে কোন কারন ছাড়াই বাড়ে দ্রব্যমুল্য। আর ধান বা চালতো আমাদের নিত্য আহার। তাই ধানের সবচেয়ে বড় যোগান আসে যে এই হাওরাঞ্চল থেকে। মৌসুমের শেষ দিকে এসে প্রকৃতির এমন আকস্মমিকতায় যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে সাড়ে তিন লাখ মানুষের সে বিপর্যয় যে কিছু দিনের মধ্যেই ১৬ কোটি মানুষকেও গ্রাস করতে পারে, সে আশংকা অন্যায্য নয়।



এরই মধ্যে একটি আশা জাগানিয়া খবর পেলাম তা হলো,হাওরবাসীর এই দুর্দিনে এগিয়ে গেছে আমাদের সরকার। মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী জানিয়েছেন, হাওরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও ৫’শ টাকা অর্থ সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবং আগামী মৌসুম পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। জাতীয় এ দুর্যোগে সরকারের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসীয়।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সরকারের এই ত্রাণ কতটা পর্যাপ্ত। যারা ধারকর্জ করে ধান চাষ করেছিলেন,তাদের কী হবে? 



তবে,সরকারের একার পক্ষেত আর এত বৃহৎ জনগোষ্ঠির সব চাহিদা মেটানো কখনোই সম্ভব নয়।তবে আমাদের সবার অংশগ্রহনে ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা যায় তাহলে হয়তো সেই দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব হবে। 



এছাড়া অতীতে, শীত  মৌসুমে বা বড় দূর্যোগের সময়ও আমরা দেখতে পেয়েছি, আমাদের শহুরে মানুষদের অনেকেই যার যার সাধ্যমতো ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে যায়, কেউ কেউ হয়তো লোক দেখানো সহায়তা নিয়েও যায়। কিন্তু এবারের এই জাতীয় দূর্যোগে সেই চিত্র অনেকটাই কমই দেখতে পাচ্ছি।



তাই সবার প্রতি আহ্বান জানাবো, হাওরবাসীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এখনই আমাদের উচিৎ সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।  প্রয়োজনে শীতবস্ত্র সংগ্রহের মতো যৌথভাবে  ফান্ড সংগ্রহ করে, খাদ্য সামগ্রী ও অন্যান্য সহযোগিতা দুর্গতদের মাঝে পৌঁছে দেয়া যেতে পারে।



আর  যেসব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হারওরের কৃষকদের মাঝে বীজ, সার, কীটনাশক বিক্রি করে, তাদের প্রতিও আহ্বান জানাবো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূর্বেকার ঋণ মওকুফ করে, আগামী মৌসুমে ফ্রি-তে বীজ সার বিতরন করবেন।


- আকতার হাবিব
সাংবাদিক, রেডিও ধ্বনি,ঢাকা।

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৫

সৃষ্টিকর্তার বিচিত্র সৃষ্টি গঙ্গাফড়িং

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এক অনুসঙ্গ গঙ্গাফড়িং। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার অপরূপ সৃষ্টি।
গঙ্গাফড়িং (Dragonfly)  Odonatla বর্গের Anisoptera উপবর্গের দিবাচর, বড় আকারের এক দল পতঙ্গ।

গঙ্গাফড়িং দেখতে অনেক সুন্দর। এদের চারটি বড়, বহুশিরাযুক্ত, পাতলা ডানা বসে থাকার সময় আনুভূমিক ও শরীরের দৈর্ঘ্য বরাবর সমকোণে থাকে। দেহ লম্বা, সরু এবং অনেক সময় লাল, সবুজ, নীল বা কালো দাগে চিত্রবিচিত্র। এর দেহের রং হালকা সবুজ, মুখটা ত্রিভুজের মতো, এটাকে সে খুশিমতো এদিক- ওদিকে ঘোরাতে পারে। মাথার বেশির ভাগ জুড়ে থাকে বিশাল দু পুঞ্জাক্ষি। গঙ্গাফড়িংয়ের চোখ দুটো বেশ বড় এবং দুটো ডানাও আছে। গায়ের রং সবুজ হওয়ার ফলে ঘাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে তার সুবিধা হয়।

গঙ্গাফড়িং গাছের পাতার আড়ালে লুকিয়ে থেকে শিকার ধরে। গঙ্গাফড়িং একদৃষ্টিতে শিকারের দিকে তাকিয়ে থেকে তাকে কাবু করে ফেলে, তারপর সামনের হাত দুটো দিয়ে তাকে ঘায়েল করে গোগ্রাসে গিলে ফেলে। সামনের হাতে করাতের দাঁতের মত কাঁটা থাকায় শিকার কোনমতেই পালিয়ে যেতে পারে না।

গঙ্গাফড়িং প্রায় দুই মিটার দূরের বস্তু এবং ৪-১৩ মিটার দূরত্বের চলমান বস্তু দেখতে পায়। পা কাঁটাযুক্ত, ডালপালায় বসার উপযোগী, কিন্তু হাঁটাচলার জন্য নয়। উড়ার সময় এ পতঙ্গের গুটানো পাগুলি ঝুড়ির মতো দেখায় এবং তাতে শিকার ধরে রাখে।

এদের যৌনসঙ্গম অস্বাভাবিক ধরনের। স্ত্রী ও পুরুষ ফড়িং প্রায়ই একসঙ্গে ওড়ে এবং উড়ন্ত অবস্থায়ই মিলন সম্পন্ন করে।
স্ত্রী গঙ্গাফড়িং একসঙ্গে অনেকগুলো ডিম পাড়ে। তারপর শরীর থেকে আঠার মতো একধরনের জিনিস বের করে সেটা দিয়ে প্রত্যেকটা ডিমকে ঢেকে দেয়। এর ফলে ঐ আঠার ক্যাপসুলের ভিতর ডিমটি বেশ নিরাপদে থাকতে পারে। ডিম পানিতে বা পানির আগাছার উপর লাগিয়ে দেয়। একটি স্ত্রী পতঙ্গ ৮০০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ডিম ফোটে ১-৩ সপ্তাহের মধ্যে। বাচ্চাদের অপূর্ণ রূপান্তর ঘটে। পানিতে ১-৫ বছর কাটায়।

এরা জলজ ক্ষুদে প্রাণী খায়, বিশেষত মেফ্লাই ও মশার লার্ভা। বড় জাতের গঙ্গাফড়িং -এর লার্ভা মাছের ছোট পোনাও খেতে পারে। বড় হতে হতে এরা প্রায় ১২ বার খোলস পালটায়।

পাখি, টিকটিকি, গিরগিটি– এরা হচ্ছে গঙ্গাফড়িংয়ের প্রধান শত্রু। তাই সাবধানে সে তাদের এড়িয়ে চলে।

গঙ্গাফড়িংকে নিয়ে অনেক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। অনেকের মনে এও বিশ্বাস রয়েছে যে, ভুল করে এই পোকার মুখের রস চোখে গেলে মানুষ অন্ধ  হয়ে  যায়। কেউ কেউ মনে করে গরু-বাছুর ঘাস খাওয়ার সময় যদি কোনক্রমে গঙ্গাফড়িং খেয়ে ফেলে, তবে সে নিশ্চিত মারা পড়বে। আমাদের দেশে অনেকে মনে করে, ছোট ছেলে হারিয়ে গেলে যদি গঙ্গাফড়িংকে দেখতে পায়, তবে সে হাত তুলে কোন্ পথে যেতে হবে তা বলে দেয়।

বাংলাদেশের প্রধান গঙ্গাফড়িং প্রজাতিগুলি Aeshnidae, Gomphidae Cordulogastridae Libellulidae গোত্রভুক্ত। তবে আজ পর্যন্ত জানা প্রায় ৩০টি প্রজাতির অধিকাংশই Libellulidae I Aeshnidae গোত্রের।

- বাংলা পিডিয়া অবলম্বনে আকতারের ক্যানভাস

সোমবার, ২৩ জুন, ২০১৪

শকুন নাই, তাই পশুর অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্ক রোগ বাড়ছে!

শকুন একটি উপকারি পাখি। কিন্তু আমাদের অবহেলা আর অজ্ঞতার কারনে বাংলাদেশ থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে উপকারি এই প্রাণীটি। বাংলাদেশ থেকে শকুন বিলুপ্তির ফলে ‘অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্ক, যক্ষা, খুরা রোগসহ বিভিন্ন জুনোটিক’ (পশু হতে সংক্রমিত) রোগের হার বেড়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

তারা জানান, শকুনের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে প্রতিবেশী দেশ গুলতে অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্কের মত পশুর প্রাণঘাতি রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। শকুন কমে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশেও এসব রোগের প্রভাব বাড়ছে। এছাড়া শকুন বিলুপ্তির ফলে শুধু পশুই নয়, বাংলাদেশের মানুষও দিন দিন মারাত্বক রোগের ঝুঁকিতে পড়ছে।

সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আই ইউ সি এন বাংলাদেশের আয়োজনে ‘পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর আসন্ন শকুন বিলুপ্তির প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল অনুষ্ঠানে বক্তরা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে প্রায় ৫০ হাজার শকুন ছিল। এখন আছে মাত্র এক
হাজার। দেশে ৭ প্রজাতির শকুন থাকলেও স্থায়ীভাবে বাস করছে মাত্র দুই প্রজাতির শকুন। রাজ-শকুন ও সরুছুঁটি-শকুন সম্প্রতি বিলুপ্ত হয়েছে। সবশেষে এখন বাংলা-শকুনও বিলুপ্ত হতে চলেছে।


শকুন মারা যাওয়ার কারণ হিসেবে গবেষকরা জানান, পশু চিকিৎসায় বিষাক্ত ওষুধ ‘ডাইক্লোফেনাফ’ ও ‘কিটোপ্রোফেন’ ব্যবহার করার কারণেই শকুন মারা যাচ্ছে। কারণ এসব ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে এমন গরু ছাগলের মৃতদেহ খেলে শকুনের কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। আর ‘ডাইক্লোফেনাফ’ ও ‘কিটোপ্রোফেন’ ওষুধ এতই মারাত্বক যে, এর মাত্র ৩০ মিলিলিটার দিয়ে ৫০০ শকুন মারা সম্ভব।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে  ও আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে পশু চিকিৎসায় ‘ডাইক্লোফেনাফ’ নিষিদ্ধ হয়েছে কিন্তু ‘কিটোপ্রোফেন’ এখনও নিষিদ্ধ করা হয়নি। এটি নিষিদ্ধ করা জরুরী। কারণ এগুলো বিষাক্ত ওষুধ বলেই ২০০৬ সালে পাকিস্তানে এবং ২০০৯ সালে নেপালে ডাইক্লোফেনের পরিবর্তে মেলোক্সিক্যামসহ অন্যান্য বিকল্প ওষুধ ব্যবহার করছেন তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ মান্নান বলেন, শকুন কোনো জীবিত প্রাণী খায় না। এরা পরিবেশেরও ক্ষতি করে না। বিভিন্ন প্রাণীর মৃত দেহ খেয়ে নানা রকম মারাত্বক রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষ ও পরিবেশকে রক্ষা করে। তাই এই প্রজাতিটি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্তি অর্থ সচিব জামাল আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, পরিবেশ ও বন বিভাগ যদি শকুন রক্ষায় কোনো প্রকল্প গ্রহণ করে। তাহলে সেক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সহায়তা করবে।

সভায় আই ইউ সি এন-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইশতিয়াক উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, ক্রিস বাউডেন, ইনাম আল হক, ড. মনিরুল খান, ড. তপন দে প্রমুখ।