ছবির মতোই সুন্দর ছিল আমার গ্রামটা...

বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচলের কোন উপায় থাকতোনা। যেন মহসড়কের পাশে বিচ্ছিন্ন ছোটএকটা দ্বীপ।

সমস্যা যত বড়ই হোক, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে

আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জের সব দর্শনীয় স্থানে

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলায়ই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। যা আমাদের দেশকে করেছে আরো সমৃদ্ধ। শত বছর ধরে লাখো পর্যটককে করেছে আকৃষ্ট।

মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম: ফাদার তেরেসা

অসহায়, দুস্থ মানুষের সহায়তাই তার ধ্যান-জ্ঞান।সহিংসতার বিপরীতে তিনি অসহায়ের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।তিনি পাকিস্তানের আবদুল সাত্তার ইদি।অসম্ভব মানবসেবার কারনে ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার দেশে ফাদার তেরেসা নামেই বেশি পরিচিত।

‘মানসিক প্রশান্তির জন্য সাইকেল’

যাত্রা পথে পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তা আর ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে বিকল্প হলো একটা বাই সাইকেল। তাছাড়া ইদানিং স্বাস্থ্যটার দিকেও মনে হচ্ছে একটু যত্ন নেয়া দরকার।

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০১৭

আরে ভাই, সাংবাদিকতায় কি এসব ভাবলে চলে??

সকাল থেকেই অাকাশের মন ভালো নেই। সেই সাথে আমার শরিরটাও। চিকুনগুনিয়ার প্রভাবে সুস্থ্য হওয়ার পরেও সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হয়।  মনে হয়, হাত-পা ও মেরুদন্ড কেমন রোবটিক হয়ে আছে।  তার উপর আবার গতরাতে সোয়া একটায় বাসায় ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে ৩ টা তাই সকালে ঘুম ভাঙলো ৯ টায়।
চিকুনগুনিয়ারর প্রভাবে যেন অলসতায় পেয়ে বসলো। তার উপর ফেসবুসে ঢুকে সহকর্মী উজ্জলের জাতীয় অলস দিবসেন স্ট্যাটাস দেখে দেহটা যেন আরো আস্কারা পেয়ে বসলো।

তাছাড়া সকালে কাজও নেই তেমন গুরুত্বপুর্ন, এসাইনমেন্ট যেটা আছে তা বিকাল ৩ টায়। কিন্তু এরপরেও আমলাদের ফলোয়াপ বলে কথা...কাজ না থাকলেও সেক্রেটারিয়েটের গাছতলায় গিয়ে বসে থাকতে হবে। এটাই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

ঘড়ির কাটা ১১ টা ছুই ছুই করছে...। নাহ আর বসে থাকা যায়না ৩০ মিনিটের মধ্যে সেক্রেটারিয়েটের  গাছতলায় পৌছুতে না পারলে কেলেংকারি হয়ে যেতে পারে। সব আলসেমি দুরে ঠেলে ফ্রেস হতে যাবো অমনি দেখি আকাশ মসাই প্রচন্ড গোস্বা করলেন। কথা বার্তা ছাড়াই শুরু করলেন কান্না। সে কি কান্না। তর্জন গর্জন দিয়ে কান্না। তখনই ভাবলাম এই সেরেছেরে..এত থামার কোন লক্ষন দেখছিনা।। এত কান্নায় নির্ঘাত বাসার সামনে হাটুপানি হয়ে যাবে।

এরই মধ্যে গোসল, নাস্তা সেরে দেখি মোবাইলের স্ক্রীনে ভাসছে চারটা মিসড কল। এর মধ্যে তিনটাই অফিসের নাম্বার থেকে। এতগুলো মিসড কলে বিচলিত হইনি, প্রত্যাশিতই ছিল।
এই মুহুর্তে উচিৎ কাজ হলো কল ব্যাক করা। কিন্তু এমন বৃষ্টিস্নাত সকাল সকাল কে বকা শুনতে চায়?নিশ্চয় ফোনে ভাইয়া যখন শুনবেন আমি এখনও বাসায়, তখন টেলিফোনের ওপারে চোখ কপালে তুলে তিনি রাজ্যের বিস্ময় প্রকাশ করবেন।

তারচে ভালো এমন বৃষ্টির কিছু দৃশ্য মোবাইলে ধারন করে বৃষ্টি বিলাশী কিছু বন্ধুর মনোরঞ্জন করি। করলামও..। কিন্তু তাতে আমারতো মনোরঞ্জন হচ্ছেনা। এসাইনমেন্টে যাওয়ার অস্থিরতাও  কমছেনা।  আর ওদিকে আকাশের কান্না থামারও কোন লক্ষন আপাতত দেখা যাচ্ছেনা।

তাই কূল না পেয়ে পাশের রুমের আরেক সংবাদ কামলা ভাইকে বললাম কী করা যায়? উনিও একই অস্থিরতায় ভুগছে। কারন প্রেসক্লাবে উনার চলছে গুরুত্বপুর্ন সেমিনার। মিস করলে লস। তাকে বললাম চলেন..উনি বলে এ্যাতো বৃষ্টিতে ক্যামনে যাই।
বল্লাম অারে ভাই, সাংবাদিকতায় এসব চলে? ঝড়, বৃষ্টি বা রোদ, কিংবা রাস্তায় হাটু পানি এসবকি আর বুঝবে রানডাউন! আপনি সুস্থ্য না অসুস্থ্য তা দিয়েত আর মিডিয়া চলবেনা। যথাসময়ে স্পটে উপস্থিত...। "আকতার আপনিকি শুনতে পাচ্ছেন?...হ্যা শুনতে পাচ্ছি। "  লাইভে অনএয়ার থেকে শুনতে পাওয়াটাই শেষ কথা।

যাইহোক বৃষ্টি দিনে ড্রেস কী হবে? কি পড়ে যাবো। বসের কড়া নির্দেশ লুথার মতো যাওয়া চলবেনা। আমারও একই মত, রাষ্ট্রের সবচে গুরুত্বপুর্ন ব্যাক্তিদের অনুষ্ঠানে কি আর সেন্ডেল পড়ে যাওয়া কি শোভা পায়? কিন্তু রাস্তায় যে হাটু সমান পানি।

আরে ভাই সাংবাদিকতায় কি এতো কিছু ভাবলে চলে। আসেন বের হই। বাধ্যছেলের মতো ভাগিনার ছোট ছাতাটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। ছোটদের ছোট এই ছাতায় দুই জনের মাথা সুরক্ষা হলেও প্যান্টসহ পুরো শরির ভিজেই গেলো। বাধ্যহয়ে ভাবলাম পায়েহাটার পথটুকু রিক্সায় যাই। রিক্সাঅলাও প্রত্যাশার বাইরে কোন আচরন করলো না। বিশ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা। খুবই ন্যায্য আবদার।
এরই মধ্যে রাজ্য জয়ের মতো অানন্দ নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের পরই মনে হলো আজকেত গাছতলায় বসা যাবেনা। বুদ্ধি করে ঢুকলাম ক্যানটিনে। কিন্তু কতক্ষন..?? বৃষ্টি যে থামার নাম নেই।  ক্যান্টিন বয় গুলোর ধৈর্য্যের বাধ যেন ভেঙ্গে গেলো। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই কাছে এসে বললো মামা কাস্টোমার বসতে পারছেনা..মানে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু আমাদেরও উপায় নেই। থাকতে হবে সাড়ে তিনটা অবধি। কেননা তখন কিছু একটা  নিউজ হয়তো পাওয়া যাবে।
ক্যান্টিন বয়ের আচরনে মনে হলো, গ্রামে কিছু চালাক দোকানদারদের কথা যারা টিভি দেখায় খদ্দের আটকে রাখে আবার কিছু না কিনলে উঠায় দেয়।

যাইহোক এখানে যেহেতু কিছু কিনতে পারলাম না তাই চেয়ারটা ছেড়েই দিতে হলো। ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে ফের দ্বিতীয়বার বৃষ্টি ধর্ষন হলাম।।

(( বি.দ্র. যারা এই লেখাকে নিছক ফাও প্যাচাল মনে করছেন তাদেরকে বলছি।। এছাড়া আর কী লিখবো বলেন? ৫৭ ধারার যাতা কলে যেভাবে সাংবাদিক নির্যাতন শুরু হইছে। তাই কী লিখে আবার কার আত্নসম্মানে অাঘাত দেই, পিছে মামলার ঝুঁকি। তারচে বরং নিজেকে নিয়ে খাজুরে গল্প লেখি তাতেও যদি হাতের চুলকানি কিছুটা কমে। ধন্যবাদ।।))

শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭

সংযমের মাসেও কি সংযত হবেননা ব্যবসায়ীরা

খুচরা বাজারে পন্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন এক ব্যাবসায়ী
শুরু হলো রহমত মাগফেরাত আর নাজাতের মাস মাহে রমজান। গতকাল তারাবি নামাজের মাধ্যমে মুসলমানরা সিয়াম সাধনা শুরু করেছেন। দুনিয়ার সমস্ত পাপাচার আর খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমত, ক্ষমা ও সন্তুষ্টি লাভই মুমিনের একমাত্র টার্গেট। আর তাই এই মাসের ব্যাপারে ইসলামেরর নির্দেশনা হলো দুনিয়াবি কাজ কর্ম বা ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়ে বেশি বেশি ইবাদাতে মশগুল থাকা। সারা বছরের উপার্জনের একটা অংশ রেখে দিয়ে রমজান মাসে খরচ করার জন্য এবং এই মাসে কম মুনাফা করার ব্যাপারে নির্দেশনা আছে। কিন্তু আমাদের সমাজের বাস্তবিক চিত্র যেন আল্লাহর সেই নির্দেশনার বিপরীত।

ব্যাবসায়িরা সারা বছর পন্যমজুদ করে বসে থাকেন এই রমজানের অপেক্ষায়। আর রমজান এলেই পন্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দেন। এমন ভাবেই ছেড়ে দেন যেন একে থামাবার বা নিয়ন্ত্রন করার শক্তি কারো নেই।

সারা পৃথিবীতে ন্যায়পরায়ন শাষকরা, ব্যাবসায়ীরা এই মাসে রোজাদারদের কষ্ট লাঘবে নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, ব্যাবসায়ীরা পন্যে ভেজাল দেয়া থেকে বিরত থাকেন, দামও মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে।
অথচ আমাদের দেশে এই পরিস্থিতি পুরো উল্টো, বাজারে নিত্য পন্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্বেও হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম।
নিউজ পোর্টাল অর্থসুচকের একটি প্রতিবেদনে  আজকের বাজার পরিস্থিতিতে দেখা যায়,
 " এদিকে আজ রোববার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। গত শুক্রবারের বাজারে কিছু পণ্যের দাম আরেক দফা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি রসুনের দাম ১০-৫০ টাকা এবং আদার দাম ১০ টাকা হারে বাড়ানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে কেজি প্রতি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া দেশি রসুন আজকের বাজারে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভারতীয় রসুনের দাম ২৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া চায়না আদা ১০ বেড়ে আজকের বাজারে ১২০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এভাবেই সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে চলেছে সব পণ্যের দাম। "


এই হলো আমাদের বাজার পরিস্থিতি। প্রতিবেদনটিতে পন্যবাজারের  অস্থিতিশীলতার কয়েকটি কারন তুলে ধরেছে। যেখানে বলা হয়েছে, কিছু আমদানিকারক ও পাইকাররা তাদের টার্গেট অনুযায়ী পণ্য গুদামজাতকরণের পরই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। আর কিছু অসাদু পাইকার ব্যবসায়ী রমজানের আগে প্রচুর পণ্য মজুদ করে রাখেন। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। আর দাম বাড়তে থাকে। প্রতি দফা দাম বাড়ার পর অল্প অল্প মাল বাজারে ছাড়েন তারা।"

দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির অভিযোগ বা কারনটা খুবই স্পষ্ট। এমনকি এই অভিযোগ নতুন কিছুও নয়, বছরের পর বছর একই অভিযোগ। তাহলে দায়টা কার।
সরকারের পক্ষ থেকে বার বার জোড় গলায় বলা হচ্ছে রমজানে পন্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে দামও বাড়বেনা। কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে এসব। তাহলেকি বলবো, সরকার মহাশয় এখানেও অসহায়?? দিন দিন তারা তাদের ব্যার্থতারই প্রমান দিচ্ছে?? যার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারন রোজাদারদের।


বাজার ব্যাবস্থাপনার এ চরম বিশৃংখল পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী হওয়া ছাড়া আমার মতো সাধারন নাগরিকের হয়তো কিছুই করার নেই। তবুও আমাদের এ কষ্টের কথা শোনার কি কেউ থাকবেনা? তিনি আল্লাহ একজন অবশ্যই আছেন। আমরা তার কাছেই অভিযোগ জানাই। হে আল্লাহ, সংযমের এ মাসে তুমি অসাধু, মুনাফাখোর ব্যাবসায়ী, ঘুষ খোর কর্মকর্তাদের  সংযত হওয়ার তৌফিক দাও। নয়তো তোমার ফয়সালাই তাদের দেখিয়ে দাও। যেমন ফয়সালা হয়েছিল, হযরত মুসা আলাইহিসালাম এর জাতির উপর।
যারা তোমার নির্দেশনা অমান্য করে রবিবারে  ইবাদতের জন্য আসা মাছ ধরে ধরতো।
সুতরাং সবক্ষেত্রে অাল্লাহর ফয়সালাই চুড়ান্ত। আমরা সবাই যেন তার গজব থেকে বেঁচে থাকতে পারি, এবং রমজানের পূর্ন সওয়াব অর্জন করতে পারি সে জন্য তৌফিক কামনা করি।
 আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, আমিন।
(২৮-০৫-২০১৭)

রবিবার, ১৪ মে, ২০১৭

আমার মা: জীবন সংগ্রামে হার না মানা এক মহিয়সী নারী

হাসপাতালের বারান্দায় আমি আর মা
'মা'। সম্ভবত পৃথীবির সবচে ছোট তবে সবচে বড় অনুভুতির একটি শব্দ। হাজার হাজার পৃষ্ঠা লিখেও মায়ের মর্ম সঠিকভাবে উত্থাপন সম্ভব নয়। আমাদের অনুভুতি, যাপিত জীবন সবকিছুর রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছেন মা। মা ছাড়া এই পৃথীবি নি:সন্দেহে অন্ধকার।
ব্যাক্তি জীবনে আমার মা- কে নিয়ে ব্যাখা করার মতো সঠিক কোন বাক্য খুঁজে পাইনা। হয়তো একটা বই ই লিখে ফেলতে পারব- 'আমার মা কে যেমন দেখেছি' এমন শিরোনামে। ছোট বেলা থেকে আমি মারাত্নক ডানপিটে থাকার কারনে অসম্ভব রকম জ্বালিয়েছি মা কে বাবাকে।
তবে জীবন জীবিকার তাগিদে বাবা প্রবাসী জীবন বেছে নেয়ার কারনে মা-ই হয়ে উঠেন আমাদের তিন ভাই বোনের একমাত্র অভিবাবক। লেখাপড়া, জীবনাচার, লেনদেন, লোক সমাজে চলাফেরা সব কিছুতেই মা আমাদের গাইড।
যদিও তিনি নিজে লেখা পড়ায় প্রাথমিকের গন্ডি পার হতে পারেননি, কিন্তু জ্ঞানে আমি  ইঞ্জিনিয়ারিং এ গ্রাজুয়েশন করেও তাকে টপকাতে পারিনি এখনো। আমার অন্য ভাই বোনরাত নয়ই। মা যখন প্রথম আমাদের বাড়িতে আসেন তখন তার বয়স ছিল তের কি চৌদ্দ। অথচ এই অল্প বয়সে, শিশুকালেই তিনি যে দক্ষতায় আমাদের সংসারের দায়িত্ব কাধে নিয়েছিলেন, আমরা ভাই বোনরা তারচে দ্বিগুন বয়সের হয়েও এখনও সেই দায়িত্বটা বুঝেই উঠতে পারিনি। সক্ষমতাতো দুরের কথা। 

 ক্যালেন্ডারের পাতাগুনে বয়স হয়তো হয়েঁছে ঠিকই ২৭ কিংবা ২৮। কিন্তু তার কাছে এখনো ৭/৮ বছরের শিশু থেকে বেশি বড় হতে পারিনি। দেশের কত প্রান্তে ঘুড়ে বেরিয়েছি, কত মানুষের সাথে চলাফেরা করেছি, করছি নিত্যদিন, কিন্তু মানুষ চেনায় এখনো তার কাছে আনাঢ়ি। অর্ধেকটাও প্রজ্ঞাবান হয়ে উঠতে পারিনি।
প্রতিদিন কত চ্যালেঞ্জিং কাজ করি, অথচ এখনো মায়ের মতো অতটা সাহসীই হয়ে উঠতে পারিনি। যখনই কোন কাজে বুকটা দুরু দুরু করে ভেঙ্গে পরি তখন মা সাহস যোগান।
একটা ঘটনা না বললেই নয়, সে বার আমি যখন চরম বিপদে পড়লাম। গুম হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলাম, তখন আমার ধারনা হয়েছিল আর কোন দিন হয়তো পৃথিবীর আলো দেখবোনা। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবো না। তখন পৃথীবির জন্য নয় শুধু আমার মায়ে মুখটা কল্পনা করেই কেঁদেছি দিন রাত। তবে সপ্তাহ দুই পর যখন জীবনে কিছুটা আশার আলো ঝলকানি দিল তখন ভেবেছিলাম মায়ের সাথে প্রথম সাক্ষাতে অামি খুব শক্ত থাকবো। কারন আমার দুরবস্থা জানলে মা হয়তো অনেক কষ্ট পাবে।   কিন্তু কিসের কী! মা কে দেখেই আমার হৃদয় ভেঙ্গে কান্না চলে এলো। আমি যখন হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলাম, তখন আমার মা আমাকে অবাক করে দিয়ে বীরের মতো, একজন সেনাপতির মতো আমাকে সাহস দিলো। বললো বাবা, কাঁদো কেন? তুমি না পুরুষ মানুষ। সেই দিন আমি তার চোখে এক ফোঁটা পানিও দেখিনি বরং তার চোখে দেখেছিলাম দৃঢ়তার ঝলকানি। তার সেই সাহসী ভুমিকা আমাকে প্রেরনা যুগিয়েছে শত কষ্টের মাঝেও দাত কেলিয়ে হাসার। এনে দিয়েছে দুনিয়াকে তুচ্ছ করার মানসিক শক্তি । যেটা আমার কল্পনাতেও ছিলনা। কঠিন বিপদে একজন দুর্বল মহিলা কীভাবে হারমানা সৈনিকের মনোবল ফিরিয়ে দিতে পারে তার উদাহরন আমার মা।
মায়ের যোগানো সেই সাহস আমাকে অারো অনেক দুর নিয়ে যাবে, পৃথিবীকে জয় করার শক্তি এনে দিবে এটাই আমার বিশ্বাস।

শুধুকি সাহস আর বুদ্ধিমত্তা! যাপিত জীবনে ফ্যাশন, লাইফস্টাইলেও মায়ের কাছে খ্যাত ছাড়া ভালো কোন পদবি পাইনি এখনো। 

মা কে ছাড়িয়ে যাওয়ার আমার এ ইচ্ছা সেই ক্লাস সেভেন কি এইট থেকেই। সেই থেকে অদ্যবধি একটাই চেষ্টা করে যাচ্ছি জীবনের সব ক্ষেত্রে মা-কে ছাড়িয়ে যাবার। কিন্তু আজও তার ধারে কাছে যেতে পারিনি। মাঝে সাঝে তাকে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করি কিন্তু পরক্ষনেই কুপোকাত। বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে হয় তার কাছেই, নত হয়ে বলতে হয় ভুল হয়ে গেছে। তবে এত কিছুর পরও মা চিরস্থায়ী রাগ করেন না। যদিও সাময়িক বকাঝকা করে, তবে বুঝতে পারি এটা তার রাগ না অভিমান। সবক্ষেত্রে তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারলে তিনিই হয়তো সবচে বেশি খুশি হবেন।

যাই হোক জীবন যুদ্ধে মা আমার এখন অনেকটাই ক্লান্ত। বয়সের ভারে না হলেও দায়িত্বের ভারে কাবু তিনি। বুঝতে পারি, তিনি এখন আর অাগের মতো অতটা চাপ সইতে পারেননা। তবুও তিনি এখনো অদম্য। তার এত সংগ্রামের পরেও আমরা ভাইবোনরা এখনো সু প্রতিষ্ঠিত না হতে পারায় তিনি আরো বেশি ভেঙ্গে পড়ছেন। প্রায় রাতেই দেখি ঘুমের ঘোরে আমার/আমার ভাইয়ের নাম ধরে কেঁদে উঠেন। গোঙ্গানি দিতে দিতে আবার ঘুমিয়ে পড়েন।  তখন কষ্টে বুকটা ভেঙ্গে যায়। রাগা রাগি করি, বলি এতটা চিন্তা করার কী আছে আমাদের নিয়ে। আল্লাহতো একটা ফয়সালা করেই রেখেঁছেন আমাদের জন্য। তবুও তিনি ভাবনাহীন হতে পারেন না।
মা কে ছাড়িয়ে যাবার এই খেলায় নেমে, এখন দেখছি আমার মায়ের আরেক উল্টো রূপ। তাকে যতটা সাহসী মনে করতাম, আমাদের ব্যার্থতায় তিনি ততটাই দুর্বল। আমরা একদিন আরো বড় হবো, আরো স্বাবলম্বি হবো, সবকিছু ঠিক ঠিক বুঝে নেব, এমন হাজারো আশার বানী তাকে আশ্বস্ত করতে পারেনা কিছুতেই।
জীবন যাপনের এতো এতো সমীকরনে যে কথাটি কখনোই মুখ ফুটে বলা হয়নি, আমরা তাকে কতটা ভালোবাসি, কতটা অনুভব করি। তাকে ছাড়াযে আমাদের জীবনটাই অন্ধকারে ঢেকে যাবে।

যাই হোক, পৃথীবির সব মায়েরাই সুন্দর। অনন্য তাদের ভালোবাসা, মমতা। জীবন সংগ্রামে হার না মানা এক মহিয়সী নারী মা। সন্তানের ভবিষ্যত ভবিষ্যত করে যে তার অতীত বর্তমান ভবিষ্যত সব হারিয়েছে। আজকের এ দিনটাতে পৃথীবির সব মা য়ের জন্যই রইল ভালোবাসা। 

রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৭

মাংস ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান হবে, ভোক্তাসমস্যার সমাধান হবেকি ?

মাংস ব্যবসায়ী সমিতির দাবি দাওয়া মেনে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ঢাকার দুই মেয়রের সঙ্গে কথা বলে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে। মাংশ ব্যাবসায়ীদের জন্য খবরটি অত্যান্ত আশাব্যাঞ্জক। কারন অনেকদিন ধরেই তারা তাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার রয়েছে। ঘাটে ঘাটে চাদাবাজি, আর ইজারাদারদের অব্যবস্থাপনাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই খাতটি। নির্দিষ্ট নীতিমালা হলে হয়তো তারা স্বস্তি পাবে। কিন্তু একজন সাধারণ ভোক্তা হিসেবে আমরাকি শংকামুক্ত হতে পারছি ?? আমরাকি স্বস্তি পাবো??

যে দিন থেকে বুঝতে শিখেছি, সেদিন থেকে দেখে আসছি কিভাবে বেড়ে চলেছে মাংশের দাম। সেই ৬০ টাকা থেকে শুরু..এখন ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। অথচ বাজারে সব ধরনের নিত্যপন্যের দামই বাড়ে আবার ক্ষনে ক্ষনে কমেও। সবকিছু মিলিয়ে দাম বাড়া-কমার একটা ব্যালান্সের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু বিপরীতে বাজারে মাংশের দাম কমেনি কখনো।

কিছুদিন আগেও গত ১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিনের কর্মবিরতি পালন করেছিলেন মাংস ব্যবসায়ীরা। তখন তারা জানিয়েছিল, তাদের দাবি দাওয়া বন্ধ হলে মাংশের দাম অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু সেদিনের কয়দিনের ধর্মঘটের পরে বাজারে মাংশের দাম আরো বেড়ে গেল। হয়তোবা তাদের দাবি মেনে নেয়া হয়নি।

ওই ঘটনার আড়াই মাস পর রোববার আবারও ব্যাবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব শামীম আহমেদ জানিয়েছেনসমস্যার সমাধান হলে গরুর মাংস ৩০০ টাকা কেজি আর ছাগলের মাংস ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা যাবে।
আমরা তার এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে চাই। কিন্তু মন্ত্রনালয়ে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর সংঙ্গে ব্যাবসায়ীদের যে বৈঠক হয়েছে, তাতেকি ভোক্তা সাধারনের স্বার্থ নিয়ে আলোচনা হয়েছে ?? নাকি আগামী রমজানে ব্যাবসায়ীদের কর্ম বিরতিতে যাওয়ার হুমকিতে ভীত হয়েই থাকবো।

তাই মাননীয়মন্ত্রী মহোদয়, মেয়র দ্বয় তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে ব্যাবসায়ীদের সাথে বৈঠকে ভোক্তাসাধারনের স্বার্থও যেন অক্ষুন্ন থাকে।   

রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৭

হাওরবাসীর দুর্দিন: জনসাধারনের ত্রাণ তৎপরতা কই?

প্রকৃতির বৈরিতায় নিঃস্ব হাওরের লাখো মানুষ। বৃষ্টির পানি আর উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭ জেলার ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা। নষ্ট হয়েছে কৃষকের প্রায় পেকে যাওয়া একমাত্র ফসল ধান। প্রকৃতির এই আচরণে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নিঃস্ব হাওরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ।



শুধু একমাত্র ফসল ধানই নয়, বিষাক্ত পানিতে মারা পড়ছে টনের পর টন মাছ। মারা যাচ্ছে হাস মুরগীর মতো গৃহপালিত পশুও। ফলে হাওরের এইসব কৃষিজীবি মানুষদের চোখেমুখে এখন শুধু অন্ধকার। 




একটি বেসরকারি টিভি প্রতিবেদনের দেখলাম, একজন বয়োবৃদ্ধ কৃষক  তার দু:খ কষ্টের কথা বলতে গিয়ে বলছেন, ‘ মনে কয়, পানিতে ঝাঁপ দিয়া মইরা যাই, পোলাপাইন লইয়্যা এখন কেমন চলমু, কী খাওয়ামু’  তার এমন দুর্দশার কথাশুনে  মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো। 



কৃষি নির্ভর আমাদের এই দেশে,দুর্ভিক্ষের  যে পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে, তা থেকে হয়তো বাঁচতে পারবোনা আমরাও। কারন সব সময়ই দেখে আসছি, কারনে অকারনে সময়ে অসময়ে কোন কারন ছাড়াই বাড়ে দ্রব্যমুল্য। আর ধান বা চালতো আমাদের নিত্য আহার। তাই ধানের সবচেয়ে বড় যোগান আসে যে এই হাওরাঞ্চল থেকে। মৌসুমের শেষ দিকে এসে প্রকৃতির এমন আকস্মমিকতায় যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে সাড়ে তিন লাখ মানুষের সে বিপর্যয় যে কিছু দিনের মধ্যেই ১৬ কোটি মানুষকেও গ্রাস করতে পারে, সে আশংকা অন্যায্য নয়।



এরই মধ্যে একটি আশা জাগানিয়া খবর পেলাম তা হলো,হাওরবাসীর এই দুর্দিনে এগিয়ে গেছে আমাদের সরকার। মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী জানিয়েছেন, হাওরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও ৫’শ টাকা অর্থ সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবং আগামী মৌসুম পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। জাতীয় এ দুর্যোগে সরকারের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসীয়।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সরকারের এই ত্রাণ কতটা পর্যাপ্ত। যারা ধারকর্জ করে ধান চাষ করেছিলেন,তাদের কী হবে? 



তবে,সরকারের একার পক্ষেত আর এত বৃহৎ জনগোষ্ঠির সব চাহিদা মেটানো কখনোই সম্ভব নয়।তবে আমাদের সবার অংশগ্রহনে ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা যায় তাহলে হয়তো সেই দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব হবে। 



এছাড়া অতীতে, শীত  মৌসুমে বা বড় দূর্যোগের সময়ও আমরা দেখতে পেয়েছি, আমাদের শহুরে মানুষদের অনেকেই যার যার সাধ্যমতো ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে যায়, কেউ কেউ হয়তো লোক দেখানো সহায়তা নিয়েও যায়। কিন্তু এবারের এই জাতীয় দূর্যোগে সেই চিত্র অনেকটাই কমই দেখতে পাচ্ছি।



তাই সবার প্রতি আহ্বান জানাবো, হাওরবাসীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এখনই আমাদের উচিৎ সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।  প্রয়োজনে শীতবস্ত্র সংগ্রহের মতো যৌথভাবে  ফান্ড সংগ্রহ করে, খাদ্য সামগ্রী ও অন্যান্য সহযোগিতা দুর্গতদের মাঝে পৌঁছে দেয়া যেতে পারে।



আর  যেসব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হারওরের কৃষকদের মাঝে বীজ, সার, কীটনাশক বিক্রি করে, তাদের প্রতিও আহ্বান জানাবো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূর্বেকার ঋণ মওকুফ করে, আগামী মৌসুমে ফ্রি-তে বীজ সার বিতরন করবেন।


- আকতার হাবিব
সাংবাদিক, রেডিও ধ্বনি,ঢাকা।

বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৭

এলেন বাড়ির বৈঠক কোন সমাধান নয়, চক্রান্তেরই অংশ

কার স্বার্থে চালু হলো সিটিং সার্ভিস ;
গত কয়দিন ধরে দেশে গণপরিবহন নিয়ে নাটক না, মহানাটকের মঞ্চায়ন চলছে। সিটিং নামের চিটিং বন্ধ হলো, কিন্তু পরিবহন মালিক শ্রমিকদের গুন্ডামি বন্ধ হলোনা। সিটিং বন্ধ করে গাদাগাদি করে লোক তুলল, কিন্তু ভাড়া কমালোনা, বরং উল্টো মাথার উপরের ফ্যানটা পর্যন্ত খুলে নিল বদমায়েশগুলো। তাদের রুটি রুজির একমাত্র নিয়ামক এই যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যাবহার করতে এতটুকু বিবেকে বাধলোনা। যাদের বিবেকে বাঁধা দিয়েছে তারা একডিগ্রী এগিয়ে বাস চলাচলই বন্ধ রাখলো। বাহ..কী সুন্দর নিরব প্রতিবাদ তাদের। 




গত ৪/৫ দিনে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে অনেকেই সিটিং সার্ভিস পুনরায় ফেরা নিয়ে মায়া কান্না দেখিয়েছেন। অবশ্য যারা এমনটি করছে চাহিদার জন্য না, বরং এটা তাদের অধৈর্যের বহিপ্রকাশ। 

যাই হোক- গতকয়েকদিনেরর মহা নাটকের আপাতত একটা রফা হয়েছে, বুধবারের এলেনবাড়ির বৈঠকে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ১৫ দিনের  জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মানে পিছু হটেছে সরকার। দোর্দণ্ড প্রতাপ দেখিয়েছে পরিবহন মালিকরা। তারা ভাড়া কমায়নি, সেবার মান বাড়ায়নি, জনগনের সাথে তাদের আচরন বদলায়নি উল্টো এনবিআর থেকে ট্যাক্স কমানোর ঘোষনা নিয়ে নিছেন। সিটিং চালুর বৈধতা নিয়ে নিছেন। আপাত দৃষ্টিতে এই বৈঠকে তাদেরই জয় হয়েছে, পরাজয় ঘটেছে সাধারন যাত্রী ও সরকারের। 

তাহলে এখন চোখ রাখা যাক গতকালের সেই বৈঠকে- এটাকে আমি বৈঠক বলবোনা। বলবো ষড়যন্ত্রের এক গোপন শলাপরামর্শ হয়েছে এলেন বাড়িতে। কারন জনগনের ভোগান্তি হলেও জনগনকে সম্পৃক্ত করা হয়নি ওই বৈঠকে। ছিলনা সরকার পক্ষের কর্তা ব্যাক্তিরাও। অথবা নিয়ম অনুযায়ি যাত্রী সাধারণকে নিয়ে গণশুনানীর আয়োজন করা যেত। 
অথচ বৈঠক করেছে ঘুষখোর আর দুর্ণীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত বিআরটিএর কতিপয় কর্মকর্তারা এবং এই নাটকের মুল খলনায়ক বাস মালিকরা। তাহলে কী আলোচনা হতে পারে সেই বৈঠকে?? তারা নিজেদের স্বার্থেই আলোচনায় বসেছিল সেখানে।


রাজধানীর ফার্মগেটের এলেনবাড়িতে বিআরটি এর কার্যালয়
আমরা ধারনা করতে পারি-(স্রেফ ধারনা) বৈঠকে বাস মালিকরা বিআরটিএর কর্মকর্তাদের শাষিয়েছে, মাসে মাসে এতটাকা ঘুষ দিচ্ছি সেই টাকা কোত্থেকে আসবে?? ঘুষখোর কর্মকর্তারা তাদের ধমকে চুপসে গেছে...অথবা কর্মকর্তারা বলেছে তোমরা মাসে মাসে যে ঘুষ দেও তাতে আর পোষাচ্ছেনা, বাজারে জিনিস পত্রের ম্যালা দাম বাড়ছে। বাস মালিকরাও তাদের উৎকোচের পরিমান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আর অমনি গনেশ উল্টে গেছে।`

ঘটনার একটা যৌক্তিক ও গ্রহনযোগ্য একটা সমাধান দিতে  এদের বাইরে ২ জনকে রাখা হলো তাদের একজন নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, উনি অবশ্য সরকারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসার প্রস্তাব করেছিল। তার যুক্তি হিসেবে তিনি বলেছেন অতীতে সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়ে মাঝপথে আটকে গেছে। পরে আর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এবার পিছু হটা উচিত হবে না। কিন্তু তার আপত্তি হাওয়ায় মিলে গেছে। 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান। শুনেছি তারই মস্তিস্ক থেকে নাকি সমাধানের এই মহান থিওরী প্রসব হয়েছে। যদিও তার  নৈতিকতা নিয়ে আমার ঘোর আপত্তি অাছে। উনি টকশোতে যখন কথা বলে তখন মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু বাজারে এ-ও রটনা আছে যে কোন বিষয় স্টাবলিশ করতে তাকে নাকি কন্টাক করে নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তি তর্ক দিয়ে বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এবং তিনি এই লাইনে অনন্য। আর গতকালও তিনি ঠিক কার স্বার্থে কথা বলতে সেই মিটিংএ হাজির ছিলেন তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। 
একটি জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো থেকেই কোট করছি গতকাল বৈঠকে তার ভূমিকা, ‌‌সিটিং সার্ভিস বন্ধের অভিযান ১৫ দিন স্থগিত রাখা এবং এটি আইনি কাঠামোতে এনে চালু করার পরামর্শটি সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানের কাছ থেকে এসেছে বলে বৈঠক সূত্র জানায়। একপর্যায়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান বৈঠক থেকে উঠে নিজ কক্ষে ঘুরে আসেন। এরপরই সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। 
এ সময় তিনি বলেন, ‘একটা উদ্দেশ্য নিয়েই মালিকেরা সিটিং সার্ভিস বন্ধ করেছিলেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাঁদের সে উদ্যোগে সহায়তা করেছি। তবে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ার পর নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অসুবিধার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে। এ জন্যই সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত ১৫ দিন স্থগিত করা হয়েছে।’`
আমার বক্তব্য হলো, ওই বৈঠকে বাস কর্তৃপক্ষরা নিজেদের স্বার্থে কথা বলেছে। দেশ বা জনগনের স্বার্থ নয়। 
কালকে কেন, কেউ জোড়ালো ভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত অমান্যকারি বাস মালিকদের কঠোর শাস্তির দাবি জানালোনা??  আইনে আছে কেউ কারন ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ রাখলে তাদের রুট পারমিট বাতিল করা হবে। সেই আইনের প্রয়োগ কেউ দেখালোনা কেন?  জনগনের প্রতিনিধি আমাদের দুই সাহসী মেয়র মহোদয়দের রাখা হলোনা কেন ওই বৈঠকে, মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ছিলনা কেন ঐ বৈঠকে। তাহলে দেখতাম বাস মালিকদের কতবড় বুকের পাটা ছিল গুন্ডামী করার। 
অতীতের কর্মকান্ডের জন্য জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার দুই মেয়র এবং মাননীয় সেতু মন্ত্রী সাহেবের প্রতি আমাদের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। এবং আমাদের বিশ্বাস তাদের সিদ্ধান্তেও জনগনের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটতো।
রাজধানীর ফার্মগেটের এলেনবাড়িতে বিআরটি এর কার্যালয়
যাই হোক এই কয়দিনের অবর্নীয় দুর্ভোগ আর অভিযোগের মুল বিষয় ছিল দুই টা। ১. সিটিং বন্ধ হলেও ভাড়া কমেনি। ২. পর্যাপ্ত বাস নামেনি।
অথচ এই দুই অভিযোগের কোন সুরাহা না করে বাস মালিকদের অনৈতিক দাবির কাছেই হার মেনেছে মেরুদন্ডহীন সরকারি কর্মকর্তারা। তাই আমার বিশ্বাস বুধবার বিকেলে এলেন বাড়ির ওই বৈঠকটি কোন বৈঠক ছিলনা, ছিল জনগনকে ঠকানোর এক গোপন ষড়যন্ত্র।

- আকতার হাবিব, সাংবাদিক, ঢাকা।
 - ২০ এপ্রিল সকাল ৬.৩০ 

রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৭

বন্ধ হলো সিটিং সার্ভিস: ভোগান্তি কমবে তো নগরবাসীর ?

বিআরটিএ এর ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে বন্ধ হয়েছে সিটিং সার্ভিস। এমন সিদ্ধান্তে আপাত হাফ ছেড়ে বেঁচেছে নগরবাসী। কিন্তু দুশ্চিন্তা যেন পিছু ছাড়ছেনা কারো। কারন আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা সুবিধা হলেও ভোগান্তি কমেনি এতটুকুও। নতুন এই নিয়মে বাসকর্তৃপক্ষের ভাড়া আদায়ে একতরফা রাহাজানি কিছুটা কমলেও ভাড়া কমেনি অনেক বাসেই। বরং উল্টো গাদাগাদি করে যাত্রী উঠানো ও অযথা সময়ক্ষেপনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে প্রবল।

গণপরিবহনের এই নৈরাজ্যের বিষয়টি উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরেও। ফলে্ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে বিপক্ষে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সিদ্ধান্তের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে অনেকেই বিশ্লেষন করছেন।

দৈনিক প্রথম আলোর এক সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, মৃন্ময় মিন্টু নামের এক যাত্রী অভিযোগ করেন, মিরপুর ১ থেকে শাহবাগের বাসভাড়া তালিকা অনুযায়ী ১৬ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু দিশারী পরিবহন এখনো ২৫ টাকা নিচ্ছে। এম আর আবির নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, মিরপুর-১ থেকে হেমায়েতপুরের ভাড়া ২০ টাকা। কিন্তু নিচ্ছে ৩৫ টাকা। তা-ও যাত্রীদের দাঁড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভোগান্তির আরো চিত্র ফুটে উঠেছে, জাগো নিউজ২৪ এর একটি প্রতিবেদনে, 

সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যে। বাসের কোনো টিকেট সিস্টেম নাই। যাত্রীদের সাথে অনেক সময় চরম পর্যায়ের খারাপ ব্যবহার করা হয়। অনেকে জানেনা গন্তব্য স্থলের ভাড়া কত। যার থেকে পারে ইচ্ছা মতো ভাড়া নেওয়া হয়। বাস এক জায়গায় অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিবাদ করতে গেলে খারাপ ব্যবহারের শিকার হতে হয়।  আরেকটা খারাপ দিক হলো কার আগে কে যেতে পারে। চলন্ত অবস্থায় যাত্রী উঠতে, নামাতে গিয়ে অনেকে সময় এক্সিডেন্টের ঘটনা ও ঘটে। বাস গুলো কে নির্দিষ্ট স্টপিস মেইনটেইন করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করা হলো।


প্রতিফলন যাই হোক, বাস কর্তৃপক্ষের একতরফা নৈরাজ্য ঠেকাতে এটাযে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় যে ভোগান্তির সৃষ্টি হবে, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কতটা প্রস্তুত সেটাই এখন ভাবার বিষয়। 

যদিও রাজধানীতে সিদ্ধান্ত কার্যকরে ৫ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে কিন্তু এটা কতদিন চলবে তা নিয়েও সন্দিহান সাধারন মানুষ।
একজন সাধারন ও সচেতন নাগরিক হিসেবে যোগাযোগ সরকার, বিআরটিএ, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও সিটি মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাবো- নগরীতে সিটিং সার্ভিস বন্ধের যে যুগান্তকারি পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার সফল বাস্তবায়নের লক্ষে আপনাদের আরো কার্যকরি ভুমিকা দরকার।

সাধারন যাত্রীকুলের ভোগান্তিহীন বাসযাত্রা নিশ্চিত করতে ওভার লোডিং বন্ধ ও সরকারি ভাড়া তালিকা কার্যকর করতে কর্তৃপক্ষ আরো উদ্যোগী হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।


-আকতার হাবিব, (16.04.17/ 18:21)

শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৭

প্রসঙ্গ ফেসবুক: যখন পড়বেনা মোড় পায়ের চিহ্ন এই বাটে...

 কিছুক্ষন আগে, অনেক চেষ্টা করে আমার পুরনো ফেসবুক আইডিতে ঢুকলাম। ১০-১২ বার চেষ্টা করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নানা শর্ত মেনে আইডিটা উদ্ধার করতে সমর্থ হলাম। ২০০৯ সালে সাইবার ক্যাফেতেতে গিয়ে ২৫ টাকা খরচ করে খোলা এই আইডিটি উদ্ধার করতে পেরে বরই উচ্ছসিত হয়েছি। টানা ৫ বছর ব্যাবহার করা আমার এই একাউন্টে ঢুকতেই কেমন নস্টালজিয়ায় পেয়ে বসলো। যেন পুরনো দিনের এ্যালবাম খুলে বসেছি।  একেকটি ছবি যেন একেকটি ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে। পুরনো কিছু বন্ধু, চেনা মানুষের ছবি ভেসে আসলো...মুহুর্তেই তাদের একাউন্টগুলোতে ঘুরে পরিবর্তনগুলো পরখ করলাম। ঘেটেঘুটে দেখলাম চ্যাংড়া ছেলেগুলো কিভাবে ব্যাটা ছাওয়ালে রূপান্তরিত হলো, সুন্দরী মেয়ে গুলো কীভাবে দিনবদলের হাওয়ায় ফুলে ফেপে ভাবি বা আন্টির রং ধারন করেছে।
এই একাউন্টে আমার ফ্রেন্ডের সংখ্যা খুবই কম সাড়ে ৩ শ'র কাছাকাছি। কিন্তু তাদের ৮০ শতাংশি রিয়েল লাইফ ফ্রেন্ড। অপরিচিত কাউকে নেয়া হয়না তেমন।  নতুন আইডিতে তাদের অনেকের সঙ্গেই যুক্ত হতে পারলেও অনেকেই রয়েগেঁছে আড়ালে। কেউকেউ বিদেশ বিভূঁইয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।।

সবকিছু মিলিয় ৫ মিনিটের জার্নি ঘন্টা ছাড়ালো কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলোনা।।
সবচে বেশি যে বিষয়টি মনে দাগ কেটে গেলো..তা হলো, মেসেঞ্জার বক্স।।  সেটা খুলতেই যেন খবরের ডালা খুলে দিল ফোসবুক। কুশলাদি বিনিময় করে কত কত আপনজন মেসেজ করে রেখেছে।
কেউ জরুরি অতি জরুরি খবর দিতে বা নিতে চেয়েছে, কেউবা শ্রেফ খোজ খবর জানতে চেয়েছে। নাম্বার চেয়েছে অনেকেই।
সবচে মজার বিষয় হলো, গেল সপ্তাহখানেক অাগে ২৬তম জন্মদিন গেলো।। আর এই আইডিতে ঢুকে দেখি...২০১৪/১৫ সালের পাঠানো জন্মদিনের শুভেচ্ছার জবাব দেয়া হয়নি। এমনকি দেখতেও পাইনি আমি...কেউ কেউ লিখেছে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করার কথা।.....।


পুরান আমার এই প্রোফাইল চেক করে মনে হলো..কোন মৃত মানুষের ফেসবুকে ঢুকেছি আমি। যেখানে হঠাৎ করেই ব্যাবহারকারির প্রস্থানের কারনে থমকে গেছে সব খবর। বন্ধ রয়েছে সব আপডেট। ভাবতেই মনটা বিষিয়ে উঠল। আসলেইকি মরে ছিলাম আমি এই কয় বছর?
কিছুদিন আগে কোন কোন অনলাইন পত্রিকায় নিউজ দেখেছিলাম, এপর্যন্ত কোটি খানেক ফেসবুক ইউজারের মৃত্যু হয়েছে। নিউজের সুত্র অবশ্য মৃতমানুষদের কোন জরিপনা, বরং ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ধারনা প্রসুত একটি সমীক্ষা দিয়েছে। কারন কেউ মারা গেলেত আর স্ট্যাটাস দিয়ে বা ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে যেতে পারেনা..যে জনাব, জাকারবার্গ আমি মরে যাচ্ছি।  তাই আমার একাউন্টটি স্থগিম করুন। সম্ভবত, যেসব ফেসবুক ইউজার দীর্ঘ দিন তার আইডিতে ঢোকেনা, তাদেরকেই মৃত সাব্যস্ত করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
তাহলেকি আমাকেও তারা মৃতদের তালিকায় ফেলেছিল??  এই প্রশ্নটিই বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে মনে।

আরও খারাপ লাগার যে বিষয়টি লক্ষ করলাম, তা হলো- এই কয় বছরে সত্যি সত্যি কিছু আইডির ফেসবুকিয় মৃত্যু ঘটেছে। ( মানে ডিএ্যাকটিভেট হয়েছে বা ব্লক করে দেয়া হয়েছে।) অনেকেই আবার সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে নাম বদলে ফেলেছেন, যার কারনে গভীর অনুসন্ধান ছাড়া তাদের খুজে বের করা মুশকিল।

যাইহোক, আজকের এই উপলব্ধির মুল কথা হলো, এই যে এখন সারাদিন ফেসবুকে লগইন থাকি। এত এত বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ দরকারি আলাপ..এত বিপ্লবী স্ট্যাটাস...দিন শেষে সত্যিকি এগুলোর মানে আছে? এত জরুরি আপডেটকি কখনোই আমাদের অগ্রগামি করেছে? নাকি সময়ের অতল গভীরেই হারিয়ে যাবে সব রাগ অনুরাগ। মিথ্যা প্রমানিত হবে সব আবেগ অনুভুতি।

- আকতার হাবিব
১৬.০৪.১৭ ইং (রাত ০২.০৩ মিনিট)

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬

মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম: ফাদার তেরেসা

অসহায়, দুস্থ মানুষের সহায়তাই তার ধ্যান-জ্ঞান।সহিংসতার বিপরীতে তিনি অসহায়ের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।তিনি পাকিস্তানের আবদুল সাত্তার ইদি।অসম্ভব মানবসেবার কারনে ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার দেশে ফাদার তেরেসা নামেই বেশি পরিচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম সহিংসতার শিক্ষা দেয় না,এটা ধর্মের অপব্যবহার।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে, তখন প্রাণ বাঁচাতে দেশটির পর্বতময় ওই অঞ্চল থেকে হাজার হাজার লোক পালাতে থাকে। ঠিক তখনই আবদুল সাত্তার ইদি সেই প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের দিকে ছুটলেন।

তিনি ঘোষণা দিলেন, আমি এখানে (পেশোয়ারে) এসেছি মানবসেবার মিশনে। যারা এখনো ভালো আছে তাদের জন্য খাবার, গরম পোশাক, কম্বল ইত্যাদির সংস্থান করা আর যারা মারা গেছে বা আহত হয়েছে,তাদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা আমার কাজ। তিনি বলেন, যুদ্ধে নির্দোষ ব্যক্তিরাই দুর্দশার শিকার হয়, আর হামলাকারী ও মুনাফাখোররা হয় লাভবান।

১৯৫০ সালে বন্দর নগরী করাচিতে একটি ডিসপেনসারি প্রতিষ্ঠার দিন থেকে তিনি দরিদ্র, দুস্থ, অনাথদের বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আর তার স্ত্রী বিলকিস মিলে ইদি ফাউন্ডেশন পরিচালনা করে আসছেন। এটিই এখন পাকিস্তানের মানবিক কার্যক্রম ও দাতব্য নেটওয়ার্কের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করছে। পরিত্যক্ত শিশুদের লালনপালন, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা,দুস্থ মহিলাদের সহায়তা, মানসিক ও শারীরিকভাবে অক্ষম লোকদের পরিচর্যা,প্রবীণদের আশ্রয়দানসহ নানা ধরনের কাজ করছেন ইদি দম্পতি।


আবদুল সাত্তার ইদি জানান,আমি যখন দারিদ্র্য আর অসহায়ত্ব দেখি, তখন আমি অন্তর থেকে সাহায্য করার অনুপ্রেরণা পাই। আমি পাকিস্তানিদের মধ্যে মানবসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করেছি। বিনিময়ে, তারা আমাকে শিশুর মতো ভালোবাসে।

কে এই ফাদার তেরেসা:
আবদুল সাত্তার ইদির জন্ম বর্তমান ভারতের গুজরাট রাজ্যে। ১৯৪৭ সালে তিনি তার পরিবারের সাথে নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানে পাড়ি জমান। যোগ্যতা দিয়ে তিনি অতি দ্রুত টেক্সটাইল এজেন্ট হিসেবে সফলতা লাভ করেন। কিন্তু মানবসেবার জন্য সেটা ছেড়ে দেন।


ধর্মীয় সহিংসতায় তবিত পাকিস্তানে তার প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে সবাইকে সহায়তা করে।  নিষ্ঠাবান মুসলমান ইদি জানান, আমার সাথে সহযোগিতাকারী ২০ বছর বয়সী এক খ্রিষ্টান তরুণীকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, তোমার ধর্ম কী? সে জবাব দিলো মানবসেবা। মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, সব কাজের ভিত্তি হওয়া উচিত মানবসেবা।আমি একজন ফকির। আমি কিছুই চাই না। আমি শুধু আমার কাজ করে যেতে চাই। আল্লাহ আমাদের সহায়তা করবেন। 
চলতি বছরের ৮ জুলাই হাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই মানবতাবাদী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৬

গোয়েবলসের প্রচারমন্ত্র ও নাৎসীবাদের শেষ পরিণতি

গোয়েবলসকে যতই গালি দেই, তার থিওরির উপর ভর দিয়েই দাঁড়িয়ে আছে এযুগের প্রচারণা কৌশল
রাজনৈতিক দল বা আদর্শের প্রতিযোগিতা বা ঢাল তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ – দুই জায়গাতেই প্রতিপক্ষকে কাবু করতে যে অস্ত্রটা সবচেয়ে মোক্ষম, তা হলো প্রচারণা। খুব পরিচিত একটা গল্প দিয়ে শুরু করি, অনেককাল আগে দূরের দেশে এক প্রতাপশালী রাজা ছিলেন। তার রাজ্য ছিলো, রাণী ছিলো, অগণিত প্রজা ছিলো, কিন্তু তবু তার মনে দুঃখ, তার কোনো সন্তান ছিলো না। যাহোক, বহুদিন নিঃসন্তান থাকার পর  সেই দুঃখের অবসান হলো, রাজার ঘর আলো করে এক পুত্র সন্তানের জন্ম হলো। সন্তান জন্মের খবর শুনে রাজা তো মহাখুশী। আদেশ দিলেন এই মহা সুখবর যেন ঢেরা পিটিয়ে পুরো রাজ্যে জানান দেয়া হয়। কিন্তু সন্তানের মুখ দেখতে এসে ঘটলো ভজঘট, পুত্রসন্তান হয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু তার গায়ের রঙ একটু কালো। তা দেখে রাজার মুখও কিছুটা কালো হলো। তবে অন্দরমহল থেকে বের হয়ে স্বাভাবিকভাবেই  রাজা আদেশ দিলেন এই খবরটা যেন সারা রাজ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়। উজির তো আগে থেকেই ঢেরা পেটানোর লোক এনে দাড় করিয়েছেন, তাদেরকে পাঠিয়ে দেয়া হলো।

এরপরই ঘটলো ঘটনা, প্রথম গ্রামে খবর রটলো রাজার ছেলে হয়েছে, গায়ের রঙ একটু কালো। পরের গ্রামের মানুষ শুনলো, রাজার ছেলে হয়েছে, কিন্তু তার গায়ের রঙ একেবারে কুচকুচে কালো। এরপরের গ্রামের লোক শুনলো, রাজার ছেলের গায়ের রঙ কাকের মতো কালো। তারপর পুরো রাজ্যে রটে গেলো, কোনো এক অজ্ঞাত অভিশাপে রাণীর পেটে একটি মৃত কাকের বাচ্চা জন্ম নিয়েছে।


প্রাচীনকালের রাজারা কানকথার এই মহা গুরুত্ব সম্পর্কে খুব একটা অবগত ছিলেন কিনা জানি না, তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই পরাশক্তিগুলো কানকথা বা প্রপাগান্ডার এই গুঢ রহস্যের কথা টের পেয়ে গিয়েছিলো। সাম্রাজ্যবাদের পতন তখনো শুরু হয়নি, কিন্তু সিংহাসনে আসীন রাজা বাদশারা ঠিকই টের পাচ্ছিলেন, সামনে এমন দিন আসছে যখন বন্দুকের নল দিয়ে মানুষকে শোষন করা যাবে না। তাদেরকে সকাল বিকাল আনুগত্যের বড়ি গিলিয়ে শান্ত রাখতে হবে।

তখন থেকেই ব্রিটেন সহ প্রভাবশালী শক্তিগুলো প্রচারযন্ত্রের নিয়ন্ত্রনের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করে। যখনকার কথা বলবো এখন সেটা তিরিশের দশকের ইউরোপে, ততদিনে অ্যাডলফ হিটলারের উত্থান হয়ে গেছে, তার নেতৃত্বে নাৎসী পার্টি বসেছে ক্ষমতায়। ধীরে ধীরে বহির্বিশ্বে প্রভাব খাটাতে শুরু করেছে জার্মানী। ঠিক এমন একটা সময়ে, ১৯৩৩ সালে প্রপাগান্ডা মন্ত্রী হিসেবে হিটলারের মন্ত্রীসভায় যোগ দেন জোসেফ গোয়েবলস।


এই প্রপাগান্ডা মন্ত্রীর দায়িত্ব ছিলো দুইটা,
দেশের ভেতরে হিটলারের কট্টর নাৎসীবাদের প্রতিষ্ঠা করা।
আর দেশের বাইরে এই নাৎসীবাদকে খুব মহান আদর্শের মোড়কে মুডিয়ে তা প্রচার করা।


দুইটা দায়িত্বই তিনি খুবই নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করেছিলেন। তবে প্রথম দায়িত্বটা, অর্থাৎ দেশের ভেতরে নাৎসীবাদের প্রসার করতে গিয়ে তিনি যে কৌশল অনুসরণ করেছিলেন, সেটা তাকে এতোটাই খ্যাতি এনে দিয়েছে যে, হিটলার কে জার্মানী কোথায় এসব না জানলেও, প্রপাগান্ডা চালানোর সময় এখনো সবাই গুরু মানে এই ‘গোয়েবলস’ কে।

যা বলছিলাম, যদিও হিটলারের নাৎসী পার্টি জনসমর্থন নিয়েই বসেছিলো ক্ষমতায়, কিন্তু তা ক্ষমতায় বসে থাকার মতো স্থায়ী কোনো ম্যান্ডেট ছিলো না।

আর বিরোধী পক্ষের অবস্থানও ছিলো বেশ পোক্ত, হিটলার বেশ ভালোই জানতেন এসব। আর পুরো ইউরোপ তার যে পরিকল্পনা সেটা বাস্তবায়ন করতে হলেও দেশের ভেতরের খুঁটি গুলোকে শক্ত করা চাই। মন্ত্রী হিসেবে সেই কাজটাই সুসম্পন্ন করেছিলেন গোয়েবলস।

প্রথমেই যেটা করা হলো, বন্ধ করে দেয়া হলো বিরোধী দলের  সকল প্রচার-প্রকাশনা। এরপর নাজিবাদী পত্রিকাগুলো রেখে একে একে বন্ধ করে দেয়া হয় বাদবাকী সমস্ত পত্রিকাও। পুড়িয়ে দেয়া হয় ইহুদী কবি-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সমস্ত অ-নাৎসীবাদী  বই আর শিল্পকর্ম। আর সেই খালি জায়গায় নাজিবাদে উদ্বুদ্ধ কবি সাহিত্যিকরা নতুন উদ্যমে লিখতে শুরু করে কবিতা গান, গল্প উপন্যাস। এমনকি বাচ্চাদের জন্যে মজার মজার কমিকও ছাপা হতে শুরু করে সেই প্রেস থেকে। (আরবি হরফে বাংলা লেখা আর তাবেদার সাহিত্যিকদের দিয়ে হিন্দুয়ানী প্রভাব থেকে বাংলা সাহিত্যকে মুক্ত করার এই চেষ্টা আমাদের দেশেও হয়েছিলো পাকিস্তানী আমলে)

সাহিত্যের জগত তো উদ্ধার হয়ে গেলো, এবার শুরু হলো রাজনীতি। নীতিটা খুবই সিম্পল — দেশের জনগণের খুব বড় যে অংশটা, তারা কিন্তু রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামায় না, তারা পত্রপত্রিকা পড়ে, রাজনীতি নিয়ে হালকা আলাপ আলোচনা করে, আর ভোটের সময় আসলে ভোট দিয়ে যায়।  সেই বড় অংশটাকে যদি বিপক্ষে রাজনীতি করা সচেতন ক্ষুদ্র অংশ থেকে আলাদা করা যায়, তাহলে তাদেরকে ধরতে খুব একটা বেগ পাওয়ার কথা না।

ঠিক সেই কাজটাই করা হলো। গোস্টেপো নামের এক পুলিশ বাহিনী গঠন করা হলো যাদের কাজ ছিলো এইসব সক্রিয় নাৎসীবিরোধী অংশকে খুজে বের করা।

কিন্তু যে বড় অংশের কথা বললাম, আমজনতা, তাদেরকে কি দিয়ে ঠান্ডা করা হলো?

এটা দিয়ে,



না, কোনো বোমাটোমা গোছের কিছু না এটা, সাধারন একটা রেডিও।

তখনকার সময়ে তো আর ফেসবুক-ব্লগ ছিলো না, যে একটা পেইজে হাবিজাবি লিখে জুকারবার্গের হাতে দশ ডলার ধরিয়ে দিলেই দেশজুড়ে বড়সড় দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়া যাবে। আবার টেলিভিশন ছিলো না, তাই ছিলো না মাঝ রাতের টকশো, ব্রেকিং নিউজ। (আহ! কি শান্তির জীবন ছিলো সে যুগের মানুষের!) যোগাযোগের বেশ বড়সড় মাধ্যম বলতে ছিলো শুধু রেডিও। একই সাথে দূরে বসে অন্য দেশের বাতাসে খবর পৌছে দেয়ার জন্যে ওই রেড়িওই ছিলো একমাত্র ভরসা।

যে কথা সেই কাজ, শুরু হয়ে গেলো রেডিও নিয়ে গবেষনা। জার্মানীর নয়নের মণি ‘ফুয়েরার’ নিয়মিত হাজির হতে শুরু করলেন  (এখন জিজ্ঞেস কইরেন না যে এই ফুয়েরার টা আবার কে। জার্মানীর লোকজন হিটলারকে আদর করে ফুয়েরার বলে ডাকতো) পার্টির সবাই তো খুব খুশি, কিন্তু খালি গোয়েবলস এর মুখে হাসি নাই। তার মনের মধ্যে খচখচ, প্রচার হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সবার কাছে তো পৌছানো যাচ্ছে না! গোটা দেশে রেডিওর সংখ্যা তো হাতেগোণা, তখনো রেডিওর দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আসেনি।

জোড়াতালি মার্কা একটা সমাধান দেয়া হলো, রাস্তার মোড়ে মোড়ে রেডিও ফিট করা হবে, আর থাকবে সব রেস্টুরেন্ট,বার আর পাবলিক প্লেসে। ফুয়েরারের ভাষণের সময় সেগুলো চালিয়ে দেয়া হবে। তাহলে তো সবাই শুনতে পারবে। প্রস্তাব মন্দ না, গোয়েবলস মাথা নাড়লেন। আর গোয়েবলস মাথা নাড়ার মানেই হলো কাজটা ততক্ষণে হয়ে গেছে।



কিন্তু ওই যে বললাম, গোয়েবলস এর চিন্তা ভাবনাই সম্পুর্ণ আলাদা। জার্মানির বড় রেডিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর বিজ্ঞানীদের সাথে ঘন্টাখানেক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে তিনি ঘোষনা দিলেন সম্পূর্ণ নতুন এক রেডিও নির্মান করতে যাচ্ছে জার্মানি। সেটা হবে এমন দামের যেন সবাই কিনতে পারে, আর তার নাম হলো, “Peoples Receiver”। (খটমটে জার্মান ভাষাতে এই রেডিওর কি জানি একটা নাম দিয়েছিলো তারা, সেটা আর বললাম না।)

তো..যেই বলা সেই কাজ, ১৯৩৩ সালের শেষদিকেই বাজারে চলে আসলো সেই অবাক বস্তু। দাম ছিলো ৪০ মার্কের মতো। (আরও ৪০ মার্ক গুনলে ঝকঝকে তকতকে একটা মডেল পাওয়া যেতো, তবে জিনিষ তো একই) এই রেডিওর মডেল নাম্বার দেয়া ছিলো ৩০১, অর্থাৎ ৩০শে জানুয়ারি নাৎসী পার্টির ক্ষমতায় আসীন হওয়ার দিন।



এটা সেই রেডিওর একটা পোস্টার। (লেখা আছে, পিপলস রিসিভার দিয়ে জার্মানীর মানুষ ফুয়েরারকে শুনছে।)

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ ছবিটার কথা মনে আছে?  ওই যে, টিভি দেখলে গুনাহ হয় বলে চেয়ারম্যান তার গ্রামে টিভি আমদানী নিষিদ্ধ করলো, এরপর চেয়ারম্যানের এক সহচর ‘হালাল টেলিভিশন’ নামক এক আজব বস্তু উদ্ভাবন করে??

এবার আসি সবচেয়ে মজার বিষয়ে, সেটা হলো, এই রেডিও দিয়ে শুধু নাজি চ্যানেলই ধরা যেতো। আর কিছু না। অবশ্য সেটা মানুষের জন্যে খুব বড়সড় একটা সমস্যা ছিলো না। কারণ একই সাথে আইন করে বিদেশি চ্যানেল শোনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষনা করে দেয়া হয়েছিলো। কে দুই মিনিট বিদেশি রেডিও শুনতে গিয়ে নিজের মুন্ডুখানা হারাবে! (সশ্রম কারাদন্ড থেকে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত শাস্তি দেয়া হতো, আর সেটা বেশ দ্রুতই হতো। নাজিদের কাছে আপনি নিশ্চই দয়া মায়া বা আপিল-রিভিশনের সুযোগ আশা করবেন না।)

অন্য সাধারণ রেডিওগুলোতে যেমন লংওয়েভ/শর্টওয়েভ ধরার ব্যাবস্থা থাকে, এই পিপলস রিসিভারে তা ছিলো না। শুধু লংওয়েভ ধরার নব ছিলো। আর ডায়ালে জার্মানির স্টেশনগুলো মার্ক করা ছিলো। (পাশের ছবিতে সেসময়ের দুই নব-ওয়ালা একটি সাধারন রেডিও দেখা যাচ্ছে। )

তারপরও অতি উৎসাহী কোনো জার্মান যদি কেরামতি দেখিয়ে এই সস্তা পিপলস রিসিভার দিয়ে বিদেশি স্টেশন ধরার চেষ্টা করে??

রেডিও কেনার সময় ডায়ালে এই ট্যাগ লাগানো থাকতো। খুবই ঠান্ডা ভাষার সতর্কবাণী। ইংরেজিতে অনুবাদ করলে কথাটা দাঁড়ায়,

“Think about this: Listening to foreign broadcasts is a crime against the national security of our people.  It is a Fuehrer Order punishable by prison at hard labor.”

অল্প সময়ের মধ্যেই এই রেডিও জার্মানীকে গ্রাস করে ফেললো। বাইরের জগত সুস্থ স্বাভাবিক চিন্তাধারা, মুক্তচিন্তা, সঙ্গীত এসবকিছু বাদ দিয়ে মানুষ বাধ্য হলো শুধু ফুয়েরারের ভাষণ শুনতে। চোখ-কান নিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক দেহে জন্ম নেয়া জার্মানীর নাগরিকরা পরিনত হতে থাকলো অন্ধ-বোবা-কালা জাতিতে। আর তার পেছনে মূল ভূমিকা যতটা না হিটলারের নাৎসীবাদ, তার চেয়ে বেশী গোয়েবলসের প্রচার কৌশল, Peoples Reciever নামের এই মিথ্যাযন্ত্র।

জার্মানীর ব্যাপারে সেসময় একটি কবিতা খুব জনপ্রিয় হয়েছিলো। তার অনুবাদ অনেকটা এরকম,

“Dear God Make me mute and dumb,
that to Dachau, I don’t come.
Dear God stuff up both my ears,
So neither one a clear word hears.
Dear God Make me deaf and blind
stop up my nose, befog my mind
In every way just let me show
Our world is wonderful, I know
Unseeing, deaf and mute and mild,
I am my Adolf’s dearest child.”

অল্পকথায় এই ছিলো মহান ‘ফুয়েরার’ অ্যাডলফ হিটলার আর তার তুখোড় মন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলস এর নাৎসী বিপ্লবের বাতাস ধরে রাখার থিওরি। একটা মিথ্যাকে দশবার বলা হলে সেটা সত্যের মতো শোনায়। আর জার্মানীর মানুষ সেই মিথ্যাই দিনে সহস্রবার করে শুনতো এই আজব বাক্স দিয়ে। এই বিষয়ে এক বক্তৃতায় গোবেবলস বলেছিলেন, “It is no exaggeration to say that the German revolution in the form it took, would have been impossible without the airplane and the radio..”

বেশ অনেক বছর পরে, ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে যখন এই সবের বিচার হচ্ছে, তখন হিটলারের মন্ত্রীসভার আর একজন মন্ত্রী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে হেন কোনো পদ্ধতি নাই, হেন কোনো প্রযুক্তি নাই – যেটা হিটলার তার জনগনের উপর প্রয়োগ করেননি।
তবুও তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। কিভাবে হবে? তথ্যের মুক্ত প্রবাহ বন্ধ করে মানুষকে শোষন করে কেউই রক্ষা পায়নি কখনো। আজ পৃথিবীতে নাৎসীবাদ বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু অবশেষ হিসেবে রয়ে গেছে গোয়েবলসের অনুসারিত প্রপাগান্ডা নীতি আর সেসময়ের কিছু বিকল ‘মিথ্যাযন্ত্র’।


(গোয়েবলসের পরিনতি না বলে শেষ করলে  মনে হয় পোস্টটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে,  মিত্রবাহিনীর হাতে জার্মানীর পতন যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, হিটলার অবরুদ্ধ অবস্থায় আত্বহত্যা করার আগে গোয়েবলসের হাতে ক্ষমতা অর্পন করে ছিলেন। নির্দেশ দিয়েছিলেন পিছু হটে আবার আক্রমন করার। গোয়েবলস দায়িত্ব পেয়ে বলেছিলেন, ফুয়েরারের নির্দেশ তার জীবদ্দশায় আমি কখনো অমান্য করিনি, কিন্তু আজ করছি, যা হবার হবে,আমরা পিছু হটবো না। একটা সময় তিনিও সপরিবারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অবশেষে, আত্বসমর্পনের আহবান ফিরিয়ে দিয়ে ছয় সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষপ্রয়োগ করে নেতার মতোই আত্বহননের পথ বেছে নেন নাৎসী সরকারের এই কুখ্যাত মন্ত্রী।)
কৃতজ্ঞতা: ফিলোসফ ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডটকম