ছবির মতোই সুন্দর ছিল আমার গ্রামটা...

বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া চলাচলের কোন উপায় থাকতোনা। যেন মহসড়কের পাশে বিচ্ছিন্ন ছোটএকটা দ্বীপ।

সমস্যা যত বড়ই হোক, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে

আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জের সব দর্শনীয় স্থানে

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর আমাদের বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি জেলায়ই রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। যা আমাদের দেশকে করেছে আরো সমৃদ্ধ। শত বছর ধরে লাখো পর্যটককে করেছে আকৃষ্ট।

মানবসেবাই সর্বোত্তম ধর্ম: ফাদার তেরেসা

অসহায়, দুস্থ মানুষের সহায়তাই তার ধ্যান-জ্ঞান।সহিংসতার বিপরীতে তিনি অসহায়ের ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন।তিনি পাকিস্তানের আবদুল সাত্তার ইদি।অসম্ভব মানবসেবার কারনে ৮৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তার দেশে ফাদার তেরেসা নামেই বেশি পরিচিত।

‘মানসিক প্রশান্তির জন্য সাইকেল’

যাত্রা পথে পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তা আর ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে বিকল্প হলো একটা বাই সাইকেল। তাছাড়া ইদানিং স্বাস্থ্যটার দিকেও মনে হচ্ছে একটু যত্ন নেয়া দরকার।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৮

স্বামী হিসেবে সাংবাদিকরা সবচেয়ে পঁচা


আমাদের দেশে একটা কথা বেশ প্রচলিত আছে ‘সাংবাদিকের কপালে গরম বউ আর ঠান্ডা ভাত’ অর্থাৎ পেশাগত কারনেই বেশিরভাগ সময় অনেক রাত করে ঘরে ফিরতে হয় সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত কর্মীদের। তাই অত রাতে হাড়ির ভাত ঠান্ডা হয়ে গেলেও বউয়ের মেজাজ ঠিকই গরম থাকে। পেশায় যেহেতু মহান সেহেতু ঠান্ডা ভাত খেয়েই গরম মেজাজ হজম করতে হয় রোজ। 

সম্প্রতি অনলাইনে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি স্যাটায়ার ধর্মী আর্টিক্যাল তা হলো ‘প্রেমিক হিসেবে নাকি সাংবাদিকরাই সেরা।’ প্র্যাকটিক্যালি ওই লেখার সাথে আমার কোন দ্বিমত নেই। তবে এর পরের স্টেপে যত গণ্ডগোল। 

লেখকের নিজস্ব গবেষণা ও জরিপ বলছে, প্রেমিক হিসেবে সেরা হলেও স্বামী হিসেবে কিন্তু সাংবাদিকরা খুবই পঁচা। সাংবাদিক ও তাদের স্ত্রীদের উপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে ৯০ শতাংশেরই এই পেশার প্রতি রয়েছে চরম অসন্তোষ।

বিশেষ করে পেশাগত অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক টানাপোরেন, হাউজ পলিটিক্স এবং হয়রানির কারনেই বেশিরভাগ সাংবাদিক পেশার প্রতি বিরক্ত। তবে নানা সংকটেও পেশার প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং দায়বোধ থেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্যকোথাও যেতে চাননা ৮০ শতাংশ সাংবাদিক। বাকী ২০ ভাগ মনে করেন পেশা পরিবর্তনের মোক্ষম সুযোগ না থাকা, সরকারি চাকরির বষয় শেষ হওয়ার কারনে এ পেশায় রয়ে গেছেন তারা।

অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ কারনে সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুদ্ধ তাদের স্ত্রীরা।  

১. সাংবাদিকদের স্ত্রীদের প্রধাণতম অভিযোগটি হলো সময় না দেয়া। প্রায় ৭০ শতাংশ সাংবাদিকের স্ত্রীরাই মনে করেন তাদের স্বামীরা পর্যাপ্ত সময় দেন না পরিবারে। পেশাগত কাজ নিয়েই দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন তারা। বিশেষত চাকরীজীবি স্ত্রীরা সাংবাদিক স্বামীকে কাছে পান খুবই কম।

২. অর্থনৈতিক টানাপোরেন। সামান্য যে বেতন পান তা দিয়ে সংসারের নিয়মিত খরচ মেটাতেই হিমসিম খেতে হয় সাংবাদিকদের। তাছাড়া অনিয়মিত বেতন এবং পেশাগত অনিশ্চয়তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় থাকেন স্ত্রীরা। 
৩. ছুটির দিনেও কোথাও বেড়াতে যান না।অন্যপেশার লোকজন বিশেষ দিবসগুলোতে ছুটি পেলেও সাংবাদিকরা কোন ছুটি পাননা। এছাড়া সাধারন সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও নানা কারনে ব্যস্ত থাকেন তারা। পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনেও সহসা অংশ নিতে পারেননা এই বিশেষ পেশায় নিয়োজিতরা। 

৪. পেশাগত দায়বোধের দোহাই দিয়ে প্রায়ই নানা উটকো ঝামেলায় জড়িয়ে থাকেন সাংবাদিকরা। এ নিয়ে প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকতে হয় স্ত্রীদের ।
৫. পেশাগত কারনে সাংবাদিকরা জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। তাবৎ দুনিয়ার সমস্ত খবর তাদের ব্রেনের আগায় থাকলেও সংসারের খুটিনাটি ছোট বিষয়গুলোও  তাদের মাথায় থাকেনা। 

৬. বেশিরভাগ সাংবাদিকদের স্ত্রীরাই মনে করেন, স্ত্রীদের প্রয়োজন মাথায় না থাকলেও অন্যের সমস্যা ঠিকই নিজের মাথায় বয়ে বেড়ান সাংবাদিকরা। 
৭. অনেকেরই অভিযোগ, সাংবাদিকরা নাকি একটু বেশিই প্রশ্ন করেন। যেটা সবার পছন্দ নয়। 

৮. কারো কারো অভিযোগ সাংবাদিকদের নাকি আত্নসম্মান বোধ কম। কারন ভালো মন্দ, যে কোন শ্রেনী পেশা বা চরিত্রের লোকদের সাথেই তাদের সমান সম্পর্ক। 
৯. অনেকে মনে করেন, এই পেশার লোকজন জীবন যাপনে যথেষ্ট ডিসিপ্লিন মেনে চলেন না। খাওয়া-দাওয়াসহ প্রাত্যাহিক কাজে চরম অনিয়ম করেন।ফলে শেষ জীবনে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় পরিবারের অন্য সদস্যদের। 

১০.  অনেকেই মনে করেন, অযাচিত মন্তব্য বেশি করেন সাংবাদিকরা। জীবন জগতের সব কিছু নিয়েই তারা বিশেষজ্ঞ জ্ঞান জাহির করেন। যেই সাবজেক্ট নিজের সেটা নিয়ে যেমন কথা বলেন, তেমনি যে বিষয় আওতার বাইরে সে বিষয়েও পাণ্ডিত্য ফলাতে বেশ পটু সাংবাদিকরা। 

এসব কারনেই অনেক স্ত্রী’রাই মনে করেন প্রেমিক বা বন্ধু হিসেবে সাংবাদিকরা আস্থাভাজন হলেও স্বামী হিসেবে একদম বিপরীত। 

বি.দ্র: এই লেখাটি লেখকের অযাচিত পাণ্ডিত্য। বাস্তব বিষয়ে লেখকের কোন অভিজ্ঞতাই নেই। সবই গবেষণালব্ধ জ্ঞান। তাই লেখা থেকে কারও দু:খিত হওয়ার  বা কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যুক্তিকতা নেই। 

বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১৮

‘মানসিক প্রশান্তির জন্য সাইকেল’


 অফিস শেষে ক্লান্ত শরীরে বের হলাম। গন্তব্য শাহবাগ। কিন্তু রাস্তায় বেরুতেই যেন চোখ কপালে..পুরা রাস্তায় গাড়িতে ঠাসা। তীব্র যানজটে গন্তব্যে যাওয়ার কোন গাড়ি নেই। উপায় না দেখে আড়াইশো টাকার বিনিময়ে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের দ্বারস্ত হওয়া গেলো কিন্তু তীব্র যানজটে  সেই সার্ভিসেও ভরসা রাখা বৃথা। 

আবার কখনো কখনো কোথাও যাওয়ার জন্য তাড়াও থাকে। কিন্তু ঢাকার ট্রাফিকের কাছে হাসফাঁস করা ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই আমাদের। সকালেও একই রকম অস্বস্তি নিয়ে বাসা থেকে বের হতে হয়। হাতে যত সময় নিয়েই বের হোন না কেন সঠিক সময়ে অফিস পৌঁছার কোন গ্যারান্টি নাই। 

যাওয়া এবং আসার পথে আমাদের এই দুশ্চিন্তা আর ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে একটি বিকল্প পদ্ধতি মাথায় আসলো। সেটা হলো একটা বাই সাইকেল। তাছাড়া ইদানিং স্বাস্থ্যটার দিকেও মনে হচ্ছে একটু যত্ন নেয়া দরকার। কিন্তু অলসতা আর উদ্যোগের অভাবে ব্যায়াম করা হয়না। সবকিছু বিবেচনায় মাত্র ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বন্ধুর ১৪ হাজার টাকায় কেনা সাইকেইলটাই কিনে ফেললাম। কিন্তু কেনাত হলো বাট চালাবো কিভাবে ? কারন ঢাকার রাস্তায় রিক্সা, গাড়ি ও মানুষের যে চাপ তাতে ফুটপাতে হাটাই দুস্কর। আর সড়কে বেপরোয়া গাড়ি চলাচলে বুক দুরু দুরু করে। কিন্তু কিইবা করার প্রতিদিনের ভোগান্তি বিরম্বনা থেকে মুক্তি পেতে অনেকটা রিস্ক নিয়েই শুরু ঢাকার রাস্তায় সাইক্লিং। তবে দুচারদিন চলার পর মনের ভয়টা যেন আস্তে আস্তে কমে গেলো। 


কমার আরেকটা বড় কারন হলো চলার স্বাধীনতা। ১১ বছরের ঢাকা জীবনে হঠাতই যেন ব্যাপক স্বাধীনতা পেয়ে গেলাম। অর্থাৎ অফিস ছাড়াও যখন যেখানে খুশি যাওয়ার প্ল্যানিং করা যায়। ১ ঘন্টার রাস্তা ১০ মিনিটেই চলে যাওয়া। সবচে মজার বিষয় হলো তীব্র জ্যামে যখন মোটর সাইকেলগুলোও অসহায় তখনও সচল সাইকেলের চাকা। দিন শেষে অফিসের ক্লান্তি নিয়ে বের হলেও বাসায় যেতে যেতে সাইক্লিং সেই ক্লান্তি দূর করে শরীরে আনে চাঙ্গা ভাব। আর টাকার হিসাবটা নাইবা দিলাম। 

ইদানিং রাস্তায় বের হলে প্রচুর মানুষকে দেখা যায় সাইক্লিং করছে। ছাত্র-পেশাজীবী থেকে শুরু করে সব শ্রেনী পেশার মানুষ সাইক্লিং করছে। তবে ইদানিং বাস চাপা সহ বেপরোয়া এক্সিডেন্টের কারনে সাইক্লিং এ শংকামুক্ত থাকা যাচ্ছেনা। ঢাকার রাস্তাগুলো সাইক্লিংএর উপযোগী নয়। সরকারের একটু নজর থাকলে আরো নিরাপদ হবে আমাদের পথ চলা। 
পাঠক আসুন জেনে নেই, সাইক্লিং এর উপর কিছু গবেষণা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কী বলে ?
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কর্মক্ষেত্রে সাইকেল চালিয়ে যাওয়া-আসা করেন তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা ৩৯ শতাংশ। 
বিবিসি জানায়, ৫ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো’র বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, যেসব মানুষ নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে সাইকেল চালিয়ে যান তাদের ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়। প্রায় আড়াই লাখ মানুষের ওপর গবেষণা করে গবেষকরা দেখেন, যারা নিয়মিত সাইকেল চালান তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ কমে যায়, আর হৃদরোগের ঝুঁকি কমে  ৪৬ শতাংশ। তাছাড়া, এ অভ্যাসের কারণে মানুষের যেকোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে অসময়ে মৃত্যুর ঝুঁকিও কমে ৪১ শতাংশ।

অপরদিকে যারা গাড়িতে যাওয়া-আসা করেন তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা ৬১ শতাংশ। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে নিয়মিত সাইকেল চালানো পেশিশক্তি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং ঊরু, কাফ ও নিতম্ব সুগঠিত হয়।


সাইকেল চালালে শরীর প্রচুর ঘামে। এই ঘামের সঙ্গে শরীরের বর্জ্য বের হয়ে ত্বক পরিষ্কার হয়, শরীর ও মন ফুরফুরে থাকে। নিয়মিত সাইকেল চালালে শরীরের বাড়তি ওজন কমে আসে। শরীর সুঠাম থাকে। তাছাড়াও সাইকেল চালানোর কারণে মুক্ত বাতাসে মনে প্রশান্তি আসে। মানসিক দুশ্চিন্তা কমে। অতএব সাইকেল হোক আমাদের প্রিয় পরিবেশবান্ধব বাহন।


সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১৮

কুকুর সমাচার: জেনে নিন কুকুরের কিছু অজানা তথ্য

কুকুর নামটি সাথে আমাদের পরিচয় সেই  শৈসব থেকেই। সম্ভবত প্রাণীকুলের মধ্যে  বহুল প্রচারিত নামটিই কুকুর। কুকুরের অসাধারণ স্বভাবগুনে বা মানুষের খারাপ চরিত্রের বহি:প্রকাশে কুকুরের নামটি আলোচনায় চলে এসেছে যুগ যুগ ধরে।
সাধারণত প্রভু ভক্তির কারনে কুকুরের খ্যাতি রয়েছে বিস্তর। অনেকেই শখ করে এই প্রাণীটিকে পুষে থাকেন, কেউ আবার ঘৃণাভরেও দেখেন। সেই আলাপে না যাই, কুকুর প্রেমী বা কুকুর বিদ্বেষী। কুকুর নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে তাদের জন্যই আজকের এই লেখা।

প্রায় ১৫ হাজার বছর ধরে মানুষের সাথে কুকুরের ঘণিষ্ঠতা।তবে কারও কারো মতে কুকুর মানুষের এই সম্পর্কের সুত্রপাত ১ লক্ষ বছর আগের। মুলত শিকারের জন্যই মানুষ কুকুরের সহযোগীতা নিতো সেই থেকে এই সম্পর্কের সুত্রপাত।
যাইহোক, আসুন জেনে নিই কুকুর সম্পর্কে আরো কিছু চমকপ্রদ তথ্য।

মহাকাশে ভ্রমণ করা পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণীটি কুকুর। নভোযানের পরীক্ষামুলক উৎক্ষেপনে ১৯৫৭ সালে লাইকা নামের একটি রাশিয়ান কুকুরকে  প্রথম মহাকাশে পাঠানো হয়। সম্ভবত সেই মারা গিয়েছিল। যাই হোক সেই সুত্রে বলা যায় মানুষের প্রগতির উৎকর্ষতার পেছনে কুকুরের অবদান রয়েছে।
বিশ্বস্ত প্রাণী বা মানুষের বন্ধু হিসেবে কুকুরের খ্যাতি রয়েছে। যদি কোনো কারণে  মালিকের মন খারাপ থাকে, পোষা কুকুরটি কিন্তু গন্ধ শুকে ঠিকই বুঝতে পারে। এবং মন ভালো করার জন্য কসরৎও চালায়।
কুকুরের ঘ্রাণশক্তি অতুলনীয়। গন্ধের সাহায্যে অপরাধীদেরও শনাক্ত করতে পারে। গবেষকদের দাবি কুকুর গন্ধের সাহায্যে ক্যানসারসহ মানুষের বেশ কিছু রোগের উপস্থিতি বুঝতে পারে।
পুলিশের কাজে কুকুরে সহযোগিতা সর্বজনবিদিত।
মানুষের চেয়ে কুকুরের শ্রবণশক্তি চারগুণ বেশি। তারা বাদুড়ের মতো কিছু বিশেষ শব্দ শুনতে পায়, যা মানুষের পক্ষে শোনা সম্ভব না। এসব কাজে লাগিয়েই তারা সঠিকভাবে দিক নির্ণয় করতে পারে।
তারা অতিবেগুনি রশ্মি দেখতে পায়, একইসঙ্গে পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড অনুভব করতে পারে। দিক নির্ণয় করতে কুকুরের কোনো কম্পাস দরকার হয় না।
কুকুররা খুবই বুদ্ধিমান। কুকুর ২৫০ রকমের শব্দ মনে রাখতে পারে, গুনতে পারে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত।তারা মানুষের অঙ্গভঙ্গি বুঝতে সক্ষম। গবেষকদের মতে পূর্ণবয়স্ক কুকুরের বুদ্ধিমত্তা একটি দুই বছর বয়সী শিশুর সমান।
কুকরের আছে বিস্তীর্ণ নেটওয়ার্ক, অনেক দূর হতেও এরা তার শিকারের অবস্থান বুঝতে পারে। যদিও কুকুরকে দিনের বেলা চলাচল করতে দেখা যায়, কিন্তু রাতের বেলা এরা অধিক সচল থাকে।
একটি কুকুরের গড় আয়ু ১০ থেকে ১৪ বছর। কুকুররা খুব অল্প বয়সেই পরিণত হয়ে ওঠে। মানুষ সাধারণত ১৫ বছর বয়সে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে পূর্ণতা লাভ করে। আর একটি কুকুর পূর্ণতা লাভ করে ২ বছরে।
পৃথিবীতে প্রায় ৪০ কোটি কুকুর রয়েছে। কুকুরের প্রজাতির সংখ্যা একশটিরও বেশি।
সভ্যতার ইতিহাসে মানুষের জন্য সবচেয়ে বন্ধুবৎসল এবং কর্মঠ প্রাণী কুকুর। একটা কথা হয়ত অনেকে জানেনইনা- কুকুর কিন্তু ঘুমাতে খুব ভালোবাসে৷কুকুর মানেই ঘেউ ঘেউ করবে। এটাই কুকুরের সহজাত প্রবণতা। কিন্তু এই ডাকেই আবার রাতে ঘুম ভেঙে যায় মনিবের। প্রতিবেশী অভিযোগ করেন সকালে। কিন্তু তথ্য হলো জনপ্রিয় কুকুর মোটেও ঘেউ ঘেউ করে না।

কুকুর কি নিকৃষ্ট প্রানী?
পবিত্র কোরআন ও হাদিসেও কুকুর সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। কোরআনের কিছু কিছু স্থানে| আল্লাহ পাক কিছু মানুষ সর্ম্পকে কুরআনে বলেছেন "এরা হলো চস্তুপদ জানোয়ারের চেয়েও নিকৃষ্ট" আবার কুরআনে বর্ণিত আসহাবে কাহাফের ঘটনাতে দেখা কাফের দাকিয়ানুস বাদশাহর সময় যায় আল্লাহ কিছু প্রিয় বান্দাদের একটি কুকুর সাহায্য করেছিলেন।
আর হাদিসে বলা আছে প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে শিকার করা জায়েজ।  বিনা অপরাধে কুকুর কে হত্যা অথবা প্রহার করা যানে ।  কারণ রাসুল(সাঃ) বলেছেন সকল প্রাণী/সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে |

মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

সহজ প্রশ্নের কঠিন উত্তর...‘নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন’

নিজের সম্পর্কে বলতে বলা হলে আপনি কী বলবেন? চাকরির ইন্টারভিউয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন হওয়া উচিৎ ছিল এটি কিন্তু এই প্রশ্নটিই সবাইকে বিপদে ফেলে দেয় প্রশ্নটি কী?

প্রশ্নটি হলো নিজের সম্পর্কে বলুন এই প্রশ্নটিকে সবাই এত কঠিন মনে করেন কেন সে ব্যাপারে সম্ভবত অনেক সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যা রয়েছে আসুন দেখি কীভাবে এই প্রশ্ন মোকাবিলা করতে হবে এবং কীভাবে এর উত্তর দিতে হবে

  • ·      প্রশ্নকারী আসলে কী জানতে চাইছে তা আগে বুঝুন

আপনি গাড়ি চালাতে না বাইক চালাতে পছন্দ করেন অথবা আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর নাম কী এগুলি প্রশ্নকারী কখনোই জানতে চান না আপনি কোন স্কুলে পড়েছেন বা কোথায় কাজ করতেন এগুলিও তিনি জানতে চান না এই প্রশ্নের উত্তর আপনার বায়োডাটা থেকেই তিনি পাবেন তিনি জানতে চান আপনি আসলে নিজেকে কীভাবে দেখেন আপনি বেশি সাহসী? অনিরাপত্তায় ভোগেন? নাকি আপনি সবকিছুর ব্যাপারেই আত্মবিশ্বাসী

শুধু মনে রাখবেন প্রশ্নকারী যা জানতে চান তা হলো, আপনার নিজের সামর্থ্যের ব্যাপারে আপনার বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি আছে কিনা এবং সেটাকে আপনি অহংকার না বানিয়ে আত্মবিশ্বাসে পরিণত করতে পারেন কিনা


  • প্রশ্নটির উত্তরকে তিনভাগে ভাগ করুন
বর্তমানে আপনি কে, কীভাবে আপনি এখনকার আপনি হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে কী হতে চানপ্রশ্নটির উত্তরকে এই তিন ভাগে ভাগ করুন

  • বর্তমানে আপনি কে ?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আপনি এখন কে কারণ বর্তমানের এই আপনি’-কেই চাকরিদাতাদের নিয়োগের জন্য বিবেচনা করতে হবে প্রথমে নিজের সাথে এই কাজের সম্পর্ক স্থাপন দিয়ে শুরু করুন যেমনআমি একজন আর্কিটেক্ট, আমি একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার অথবা আমি একজন মার্কেটিং ম্যানেজার এই ধরনের পরিচয় আপনার নিয়োগদাতাদের আপনাকে বেছে নেয়ার জন্য সাইকোলজিক্যালি কাজ করবে

পরবর্তীতে যদি সম্ভব হয়, তাহলে সেই চাকরির নিয়োগ বর্ণনায় যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন বিবেকবান, বিবেচনাশীল, ক্রিয়েটিভ ইত্যাদি নিজেকে সেইসব আকর্ষণীয় শব্দ দ্বারা উপস্থাপন করুন আর তা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে এই চাকরিতে ভবিষ্যতে সফল প্রমাণ করতে পারবেনএই জাতীয় কথা বলার চেষ্টা করুন

  • এখনকার আপনি কীভাবে এই আপনি হয়েছেন
ইন্টারভিউয়ে আপনার রিজুমেতে উল্লেখ করা কথাগুলিই হুবহু বলে যাবেন না আপনার পড়াশোনা বা আগের চাকরি কীভাবে আপনাকে গঠন করেছে সে সম্পর্কে বলুন আপনি কী কী করেছেন তা বলবেন না, বরং আপনি বিভিন্ন কাজ বা ঘটনা থেকে কী অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেছেন তা বলুন

  • ভবিষ্যতে আপনি কী হতে চান
ভবিষ্যতের কথা বলতে, আপনি আপনার ক্যারিয়ারের লক্ষ্য সম্পর্কে কথা বলুন

  • আপনার বক্তব্য গুছিয়ে শেষ করুন
শেষে নিজেই একটি প্রশ্ন করুন এছাড়া আমার সম্পর্কে অন্য কিছু কি জানতে চান?
এই প্রশ্ন করার মাধ্যমে আপনি প্রশ্নকারীকে আরো কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন করার সুযোগ দিবেন, এবং আপনার নিজের সম্পর্কে যদি কিছু বাদ পরে যায় তাহলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবেন

  • নিজেকে তুলে ধরুন ৩ শব্দে
ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজেকে তুলে ধরুন মাত্র তিন শব্দে অর্থাৎ আপনার তিনটি দিক বা ভালো গুন যেগুলো আপনি জানাতে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন সেটা আবিস্কার করুন। নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন এই প্রশ্নকে বেশি কঠিন প্রশ্ন হিসেবে দেখা উচিৎ না

আপনার নিজের ব্যাপারে অন্য কেউ নিশ্চয়ই আপনার চেয়ে ভালো জানে না তবে সবাই যেহেতু নিজের সম্পর্কে বলতে পছন্দ করে তাই সাধারণত বেশিরভাগ লোকজনই কী করতে পছন্দ করে, কীভাবে বিনোদন করে, কোথায় কাজ করে, তার বন্ধুবান্ধব কে ইত্যাদি বিষয়ে বলতে থাকে ফলে এই প্রশ্নটি আসলে অস্বস্তি তৈরি করে থাকে

এখন থেকে আগেই এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে ভাবুন, নিজেকে প্রস্তুত করুন এবং এই প্রশ্নের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন

সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

আমরা কবে সভ্য হবো?

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির অনুষ্ঠানে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে দশ জনের মৃত্যু হয়েছে, হতাহতের শিকার আরো বহু মানুষ। একবিংশ শতাব্দীর এই প্রান্তে এসে যখন দাবি করছি উন্নতির দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছি আমরা। এমন সময়ে কুলখানিতে গিয়ে এমন হতাহত নি:সন্দেহে আমাদের পীড়া দেয়। সেই সাথে লজ্জাও ।

আমি বলছিনা যে , চট্টগ্রামে কুলখানি খেতে গিয়ে যারা আহত হয়েছে বা নিহত হয়েছে বা যারা হুড়োহুড়ি করেছে তারা খাবারে অভাবে সেখানে ভীড় করেছে। বরং ২০১৭ সালের বিজয়ের এই মাসে আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, চালের দাম যতই বাড়ুক নিত্যপন্যের দাম যতই আকাশচুম্বী হোক, দু-মুঠো ভাতের জন্য অন্তত কেউ মারা যায়না।

হয়তো আয়-ব্যায়ের ভারসাম্যহীনতায় আমাদের নাকানি চুবানি খেতে হয়, কিন্তু ভাতের অভাবে কারো মরতে হয়না। মানে আমাদের দ্রব্যমুল্যের পাশাপাশি হয়তো আমাদের সক্ষমতাও বড়েছে। তবে কেন এই হতাহত?

মোটাদাগে বলতে গেলে এটা আমাদের অসভ্যতার একটা নজির।
পরষ্পরের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সহানুভুতি কিংবা সহনশীলতা যে কমছে তারই একটা জলন্ত নজির হয়ে থাকবে চট্টগ্রামের এই ঘটনা।



সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের জামালখান আসকার দীঘির পাড়ে রীমা কমিউনিটি সেন্টারের এ ঘটনায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন দায় নেই বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার। তিনি এটাকে আইনশৃংখলা জনিত সমস্যা নয় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত নয়। এটা মারামারি বা গ্রুপিং বা অন্য কোনো বিষয় না। নিরাপত্তার অভাব হয়নি, অতিরিক্ত মানুষের কারণে এবং ঢোকার সময় হুড়োহুড়ির কারণে অনেকে পড়ে গিয়ে পদদলিত হয়েছেন।



আইনের কথায় তার বক্তব্যে  হয়তো যুক্তি আছে, কিন্তু তার বাহিনীর নামে আইনের সাথে যে শৃংখলা শব্দটি জুড়ে আছে সম্ভবত  তিনি সেটা ভুলে আছেন। তাই একজন তুমুল জনপ্রিয় নেতার কুলখানিতে তার কি পরিমান ভক্ত-অনুরাগীরা এই অনুষ্ঠানে ভীড় করতে পারে, আর সেখানে ঠিক কী কী ধরনের বিশৃংখলা হতে পারে সেটা হয়তো তিনি অনুধাবন করতে পারেননি।

সম্ভবত  চট্টগ্রাম পুলিশের শীর্ষ এই কর্তাব্যাক্তি ভুলে ছিলেন, এখানে ৮০ হাজার লোককে নিমন্ত্রন জানানো হয়েছে। এতো লোকের যেখানে জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে সেখানে শুধুমাত্র সন্ত্রাসী হামলাই ফ্যাক্ট না তারচে বেশি প্রয়োজন শৃংখলা জনিত সমস্যা। যাই হোক অদুর ভবিষ্যতে মর্মান্তিক এই ঘটনার তদন্তে সবকিছুরই কারন অনুসন্ধান হবে এটাই আশা।


কিন্তু পাশাপাশি  যে, কথাটি শুধু বলতে চাই, সেটা হলো আমাদের আচরণ। আইন শৃংখলা রক্ষায় না হয় প্রশাসন আরো কঠোর হলো। কিন্তু আমাদের আচরণ বদলাবে কিসে?  কয়েকবারের নির্বাচিত ও তুমুল জনপ্রিয় মেয়রের কুলখানি অনুষ্ঠান আয়োজন নিশ্চয় কোন ঘাটতি রাখেননি তার পরিবার। 
কিন্তু একটু  শৃংখলভাবে সেখানে অংশ নিতে, হুরুহুরি এড়িয়ে খাবার নিতে আমাদের এতো সমস্যা কেন? এই শিক্ষা আমরা কোথায় পাবো?

শুধুমাত্র হুড়োহুড়ি করে একসাথে এতোগুলো মানুষের অকাল মৃত্যু, এতো গুলো পরিবারের বুকফাটা আর্তনাদের দিনে শুধু এই প্রশ্নটিই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, আর কবে আমরা সভ্য হবো?

শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

পশু কোরবানি: যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

কোরবানি বলা হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও তার এবাদতের জন্য পশু জবেহ করা। কোরবানির দিনটি হল বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। আব্দুল্লাহ ইবনে কুর্ত রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে কারীম স. বলেছেন : আল্লাহর নিকট দিবস সমূহের মাঝে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হল কোরবানির দিন, তারপর পরবর্তী তিনদিন।

কোরবানির দিনের করণীয়

ঈদের সালাত আদায় করা,
এর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার,
পরিচ্ছন্নতা অর্জন,
সুন্দর পোশাক পরিধান করা।
তাকবীর পাঠ করা।
কোরবানির পশু জবেহ করা ও তার গোশত আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা।
এ সকল কাজের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও সন্তুষ্টি অন্বেষণের চেষ্টা করা।
এ দিনটাকে শুধু খেলা-ধুলা, বিনোদন ও পাপাচারের দিনে পরিণত করা কোন ভাবেই ঠিক নয়।

এবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করা। এ কাজটি তিনি শুধু তার উদ্দেশ্যে করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন :— ‘বল, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তার কোন শরিক নাই এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।’


কোরবানি ওয়াজিব: 

প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী মুকীম ব্যক্তি, যে ১০ যিলহজ্ব সুবহে সাদিক থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন অতিরিক্ত সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি রুপা বা সমপরিমান অর্থের মালিক হবেন তার উপর কোরবানি ওয়াজিব।
স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, যে জমি বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র-এ সবই কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। [বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬]

কোরবানির পশু 

রাসুল (সা.)উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ছাড়া অন্য কোন পশু কোরবানি করেননি ও কোরবানি করতে বলেননি। তাই কোরবানি শুধু এগুলো দিয়েই করতে হবে। উট পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু বা মহিষ দু বছরের হতে হবে। ছাগল, ভেড়া, দুম্বা হতে হবে এক বছর বয়সের। কোরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটি মুক্ত হতে হবে। যে পশুটি কোরবানি করা হবে তার উপর কোরবানি দাতার পূর্ণ মালিকানা সত্ত্ব থাকতে হবে। বন্ধকি পশু, কর্জ করা পশু বা পথে পাওয়া পশু দ্বারা কোরবানি আদায় হবে না। কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম। কোরবানি দাতা নিজের কোরবানির পশু নিজেই জবেহ করা উত্তম, যদি তিনি ভালভাবে জবেহ করতে পারেন।

মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোরবানি

কোরবানি মূলত জীবিত ব্যক্তিদের জন্য। তবে মৃত ব্যক্তিদের জন্য কোরবানি করা জায়েজ ও একটি সওয়াবের কাজ। কোরবানি একটি সদকা। আর মৃত ব্যক্তির নামে যেমন সদকা করা যায় তেমনি তার নামে কোরবানিও দেয়া যায়। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবে না। গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। -মুসনাদে আহমদ ১/১০৭, হাদীস ৮৪৫,


কোরবানির গোশত কারা খেতে পারবেন

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘অত:পর তোমরা উহা হতে আহার কর এবং দু:স্থ, অভাবগ্রস্থকে আহার করাও।’ রাসূলুল্লাহ স. কোরবানির গোশত সম্পর্কে বলেছেন :—‘তোমরা নিজেরা খাও ও অন্যকে খাওয়াও এবং সংরক্ষণ কর।’

কতটুকু নিজেরা খাবে, কতটুকু দান করবে আর কতটুকু উপহার হিসেবে প্রদান করবে এর পরিমাণ সম্পর্কে কোরআনের আয়াত ও হাদিসে কিছু বলা হয়নি। তাই উলামায়ে কেরাম বলেছেন, কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকীনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০ মোস্তাহাব।

কোরবানির গোশত যতদিন ইচ্ছা ততদিন সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবে।


কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি 
কোরবানির মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারি হয়। তাই এর কোনো অংশ বিক্রি করা জায়েজ নয়। কোরবানির পশুর গোশত,চামড়া ও হাড্ডি কোরবানিরই অংশ। এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান হলো—এক. কোরবানির পশুর কোনো অংশ, যেমন—গোশত, চর্বি, হাড্ডি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েজ নয়। বিক্রি করলে পূর্ণ মূল্য সদকা করে দিতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ৫/৮১)
তবে কুরবানীর চামড়া কুরবানীদাতা নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেউ যদি নিজে ব্যবহার না করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা করা জরুরি। চামড়া বিক্রি করলে মূল্য সদকা করে দেওয়ার নিয়তে বিক্রি করবে। সদকার নিয়ত না করে নিজের খরচের নিয়ত করা নাজায়েয ও গুনাহ। -আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১

চামড়া বিক্রির অর্থ কোথায় দেয়া যাবে ?


নিয়ত যা-ই হোক বিক্রিলব্ধ অর্থ পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি। বিক্রয়লব্ধ অর্থ পুরোটাই জাকাতের উপযুক্ত ব্যক্তিকে সদকা করে দিতে হবে।  এই অর্থ মাদ্রাসা-মসজিদ ইত্যাদি নির্মাণে খরচ করা জায়েজ নয়। তবে তা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য দেওয়া যাবে। (ফাতাওয়া কাজিখান : ৩/৩৫৪)। কোরবানির চামড়া গরিবের হক। গরিব লোকদের না দিয়ে কোরবানির চামড়ার মূল্য দিয়ে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন, শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন দেওয়া নাজায়েজ। (শামি : ২/৩৩৯)

কোরবানির পশুর কোনো অংশ বিনিময় বা পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয নয়। আলী রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির চামড়া ছাড়ানোর পারিশ্রমিক হিসেবেও চামড়ার কোনো অংশ প্রদান করতে নিষেধ করেছেন। (-সহীহ বুখারী, হাদীস:১৭১৭) ।
শ্রমের বিনিময়ে টাকা দিয়ে দিবে। চুক্তির সময় গোশত বা ভুড়ি দেওয়ার শর্ত না থাকলে ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়ার পর কোরবানির পশুর ভুড়ি বা গোশত হাদিয়া হিসেবে দেওয়া যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। [সহীহ মুসলিম ৩/৩৫০; সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারী) ৩/৬৫০;

কৃতজ্ঞতা: ইন্টারনেট

শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

কেমন আছে ইসলামিক ইরানের ইহুদীরা ?

পৃথিবীর প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত বৃহৎ সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম ইরান। দেশটির জনগণ জাতিগত ও ভাষাগতভাবে বিচিত্র হলেও এরা প্রায় সবাই মুসলিম। শত শত বছর ধরে এ অঞ্চলটি মুসলিম শিয়া মতাবলম্বীদের কেন্দ্র। ইরানের প্রায় ৯৩% মুসলিম শিয়া ধর্মাবলম্বী এবং এদের প্রায় সবাই জাফরি শিয়া মতবাদে বিশ্বাসী। তবে ইরানের বেশিরভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও সেখানে খ্রিস্টান, ইহুদীসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষের বসবাসও রয়েছে স্বল্প পরিমানে। 

 ইরানের প্রায় পৌনে ৮ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ২০  হাজারেরও বেশি ইহুদী জনগোষ্ঠী রয়েছে। 

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র চালু রয়েছে। সেই সুত্রে স্বাভাবিকভাবেই সাধারনের মনে প্রশ্ন সেখানে বসবাসরত অন্য ধর্মাবলম্বীরা কেমন আছে? বিশেষ করে ইহুদী জনগোষ্ঠী। তার কারন মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে অভিযোগের তীর সব সময় ইহুদীবাদি ইসরাইলের দিকেই। তাছাড়া বিশ্বে শান্তি, স্বস্তি ও মানবতার জন্য ইসরাঈলকে বিসফোড়া মনে করা হয়। তাই এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার  ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে বসবাসরত ইহুদীরা কেমন আছে? তারই চিত্র  তুলে ধরেছেন জার্মান ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলের  সাংবাদিক থেরেসা ট্রপার। 

প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, ইসরাঈলের পরে বিশ্বের অন্যান্য যে কোন দেশের তুলনায় ভালো আছেন ইরানের ইহুদীরা। সেখানে ইহুদীরা যেমন স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে পারেন, ঠিক তেমনি ব্যাবসা বাণিজ্য, শিক্ষা সংস্কৃতি এমনকি রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও যুক্ত হতে পারে। ইরান ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হলেও দেশটির সংসদে রয়েছে সংখ্যালঘু ইহুদীদের প্রতিনিধি সংসদ সদস্যও। 
সাক্ষাতকারে তেহরানের ইহুদি সম্প্রদায়ের পরিচালক ও সংসদ সদস্য সিয়ামাক মোরসাদেঘ বলেন, মানুষ যা ভাবে তার চেয়ে অনেক ভালো আছেন ইরানের ইহুদীরা। সেখানে সংখ্যালঘু হিসেবে আমাদের স্বীকৃতি আছে৷ তাই আমরা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে পারি৷ তেহরানে ২০টির বেশি সিনাগগ বা ধর্মীয় উপসনালয় আছে।  
সাধারণভাবে বললে, ইরানে ইহুদিদের অবস্থা সমসময় ইউরোপের চেয়ে ভালো। 


সিয়ামাক মোরসাদেঘ বলেন, এখানে ইহুদি আর মুসলমানরা একে অপরকে সম্মান করে। মুসলমানদের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে। তিনি বলেন, যে হাসপাতালের ডাক্তার আমি সেটি ইহুদি পরিচালিত হলেও সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের ৯৫ শতাংশই মুসলমান৷
তবে কিছু পার্থক্য রয়েছে, যেমন এই দুই ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিয়ে হওয়ার হার খুবই কম। ইরানে আইন অনুযায়ী ইহুদিরা  চাইলে বিচারক হতে পারেনা, সেনাবাহিনীতে কর্মকর্তা পর্যায়ে চাকরি করার সুযোগ নেই, তবে সৈনিক পর্যায়ে চাকরি করতে পারে। 
ইরানের আইনে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরণের যোগাযোগ রাখা নিষিদ্ধ।
ইহুদী হলেও ইসরাঈলের আগ্রাসী নীতির সমালোক অনেক ইহুদী। সিয়ামাক বলেন, ইসরায়েলে যাওয়ার কোন ইচ্ছা আমার নেই। কারণ, আমি মনে করি, ইহুদিরা অন্যদের চেয়ে আলাদা, এই চিন্তাধারা থেকে ইহুদিদের শুধু বিশ্বের একটা জায়গায় বাস করতে হবে – এমন ভাবনার সঙ্গে আমি একমত নই। কারণ আমি মনে করি আমরা সবাই সমান৷
ধর্মীয় শিক্ষা বলে, আমরা যে দেশে বাস করি সেই দেশের আইন মেনে চলতে হবে। বিশ্বে অনেক ইহুদি আছেন যাঁরা ইসরায়েলি সরকার ও সেনাবাহিনীর আচরণের কঠোর সমালোচক৷ ইহুদি হিসেবে আমাদের ধর্মগ্রন্থ ‘তাওরাত' ও ‘তালমুদ' মেনে চলতে হয়৷ অন্য দেশ দখল করা ও নিরীহ মানুষ হত্যা করা মোজেসের (ইহুদিদের নবি) শিক্ষা নয়।  ইহুদি হিসেবে আমরা ইসরায়েলের আচরণ সমর্থন করতে পারি না, এটা ধর্মীয় নয়, রাজনৈতির ‘মুভমেন্ট'।  ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণহত্যার শিকার হওয়ায়, ইহুদিদের উচিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়া।

সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০১৭

চন্দ্র গ্রহন: কতিপয় ভুল ধারনা ও আমাদের করনীয়


রাত ১০ টার কিছু পরে অফিস শেষে বাসার পথে পা বাড়িয়েই এক সুহৃদ কে ফোন করলাম। উদ্দেশ্য কর্মক্লান্তি দূর করে একটু খোস গল্প করে চনমনে হয়ে বাসায় ফেরা। ফোন ধরেই অপর প্রান্ত থেকে উদ্বেগের স্বরে প্রশ্ন, আমি কোথায়? রাস্তায়।  জানাতেই আরো তটস্থ হয়ে জানালো আজ চঁন্দ্র গ্রহন। তাই বেশিক্ষন বাইরে থাকা যাবেনা, রাত ১ টার আগে খাবার খাওয়া যাবেনা..ইত্যাদি আরও কিছু বিধি নিষেধ।  আমি বরাবরই কোন সংস্কারে বিশ্বাস করিনা। এতো বিধি নিষেধের কথা শুনে হাসতে হাসতেই আকাশের দিকে চেয়েতো অবাক।
কী সুন্দর চাঁদ ফুটেছে আকাশের বুকে। অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় অধিক উজ্জল। যেনো একটা মস্ত ফ্লাড লাইট। আসলে ইট পাথর আর কংক্রিটের শহর ঢাকার এই বহুতল ভবনের জঙ্গলে থেকে কখনো আকাশে বিশালতা দেখারও ফুসরত হয়না কখনো, আবার সময় মিললেও কোনটা চাঁদ আর কোনটা সোডিয়াম লাইট পার্থ্যক্য অনুমান করা কঠিন হয়ে দাড়ায়।
আমার নিজের ফোনে তোলা চাঁদ
যাই হোক সুহৃদের এমন শক্ত  বিশ্বাস ও অনুশাষন আমাকেও আরো বেশি উৎসুক করে তোললো চন্দ্রগ্রহন সম্পর্কে। বাসায় ফিরে নেট ঘেটে দেখলাম সত্যি ভয়াবহ ব্যাপার। পক্ষে বিপক্ষে নানা ধরনের আলোচনা প্রচলিত আছে সমাজে।  তাই ভাবলাম বিষয়টি নিয়ে একটা নিরপেক্ষ বিশ্লেষন করা যায়। তারই সংক্ষেপ তুলে ধরলাম আমার পাঠকদের জন্য।

 কী হচ্ছে আজ...?
সোমবার মধ্যরাতে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। ৯.৪৮ মিনিট থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত দেখা যায় এ মহাজাগতিক দৃশ্য। একরেখায় এসে দাঁড়িয়েছে পৃথিবী, চাঁদ আর সূর্য।

মুলত কক্ষপথ পরিভ্রমণের একপর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীকে মাঝখানে রেখে সূর্যের সঙ্গে এক সমতলে এবং এক সরলরেখায় চলে এলে সূর্যের আলো পৃথিবীতে বাধা পড়ে চাঁদে পৌঁছতে পারে না। তখনই ঘটে থাকে চন্দ্রগ্রহণ। অর্থাৎ উজ্জল চাদ তার সমস্ত আলো হারিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে পৃথীবিকে।
সূর্য বা চন্দ্র যে কোনো গ্রহণ থেকে পৃথিবী, সূর্য এবং চাঁদকে একই সরলরেখায় আসতে হয়, এবং এ সরলরৈখিক অবস্থান একটি চন্দ্র মাসে দুবার হয়। তাই সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ জোড়ায় জোড়ায় হয়। একটি চন্দ্রগ্রহণের স্থায়িত্বকাল নির্ভর করে চাঁদের পৃথিবীর ছায়ার প্রদক্ষিণকালের ওপর, এটি কয়েক ঘণ্টা জুড়েও হতে পারে। যদি চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার কার্নিশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে তাহলে তাকে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ বলে কিন্তু চাঁদ যদি পৃথিবীর ছায়া ঢাকা সম্পূর্ণ অংশ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে তাহলে তাকে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বলে।
২০১৭ সালে হলো আংশিক চন্দ্র গ্রহন
বিজ্ঞান কী বলে??
আধুনিক সৌর বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহ দু'টির কক্ষপথের মধ্যবলয়ে রয়েছে এস্টিরয়েড (Asteroid), মিটিওরিট (Meteorite) ও উল্কাপিন্ড প্রভৃতি ভাসমান পাথরের এক সুবিশাল বেল্ট, এগুলোকে এককথায় গ্রহানুপুঞ্জ বলা হয়। গ্রহানুপুঞ্জের এই বেল্ট (Belt) আবিষ্কৃত হয় ১৮০১ সালে। এক একটা ঝুলন্ত পাথরের ব্যাস ১২০ মাইল থেকে ৪৫০ মাইল। বিজ্ঞানীরা পাথরের এই ঝুলন্ত বেল্ট নিয়ে শঙ্কিত। কখন যেনো এ বেল্ট থেকে কোন পাথর নিক্ষিপ্ত হয়ে পৃথিবীর বুকে আঘাত হানে, যা পৃথিবীর জন্য ধ্বংসের কারণ হয় কিনা?

গ্রহানুপুঞ্জের পাথর খন্ডগুলোর মাঝে সংঘর্ষের ফলে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরখন্ড প্রতিনিয়তই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। কিন্তু সেগুলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে এসে জ্বলে ভস্ম হয়ে যায়।
কিন্তু বৃহদাকার পাথরখন্ডগুলো যদি পৃথিবীতে আঘাত করে তাহলে কি হবে? প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে এমনই একটি পাথর আঘাত হেনেছিল। এতে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর তাবৎ উদ্ভিদ লতা গুল্ম সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। উত্তর আরিজন (Arizon) এ যে উল্কাপিন্ড এসে পরেছিল তার কারণে পৃথিবীতে যে গর্ত হয়েছিল তার গভীরতা ৬০০ ফুট এবং প্রস্থ ৩৮০০ ফুট।
বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণের সময় ঝুলন্ত পাথরগুলো পৃথিবীতে ছুটে এসে আঘাত হানার আশংকা বেশী থাকে। কারণ হচ্ছে,এসময় সূর্য,চন্দ্র ও পৃথিবী একই সমান্তরালে,একই অক্ষ বরাবর থাকে।
ফলে তিনটির মধ্যাকর্ষণ শক্তি একত্রিত হয়ে ত্রিশক্তিতে রুপান্ত্রিত হয়। এমনি মুহূর্তে যদি কোন পাথর বেল্ট থেকে নিক্ষিপ্ত হয় তখন এই ত্রিশক্তির আকর্ষণের ফলে সেই পাথর প্রচন্ড শক্তিতে, প্রবল বেগে পৃথিবীর দিকে আসবে, এ প্রচন্ড শক্তি নিয়ে আসা পাথরটিকে প্রতিহত করা তখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাড়াবে। ফলে পৃথিবীর একমাত্র পরিণতি হবে ধ্বংস।

কতিপয় কুসংস্কার
চন্দ্র গ্রহন ও সূর্য গ্রহেনর সময় বিধি নিষেধ নিয়ে সমাজে নানা ধারনা প্রচলিত আছে। এসময় গর্ববতী মহিলাদের বাইরে না বেরুনো, গ্রহনের আগের রান্না করা খাবার গ্রহন চলাকালীন সময় না খাওয়া, না শোয়া বা ঘুমানোসহ অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। আদতে আধুনিক বিজ্ঞান বলে এসব ধারনার কোন ভিত্তি নেই। এটি প্রকৃতির অমোঘ নিয়মের স্বাভাবিক ঘটনা। জোয়ার-ভাঁটার পরিবর্তন ছাড়া এর অন্য কোন প্রভাব নেই।

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে??

অধিকাংশ সময়েই আমাদের দেশের মানুষেরা অত্যন্ত আনন্দ আর কৌতুহল নিয়ে সূর্যগ্রহন এবং চন্দ্রগ্রহন প্রত্যক্ষ করে থাকে। সূর্য ও চন্দ্র যখন গ্রহনের সময় হয় তখন আমাদের প্রিয় নবী (সা.) এর চেহারা ভয়ে বিবর্ণ হয়ে যেত। তখন তিনি সাহাবীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়তেন। কান্নাকাটি করতেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।
আরবীতে সূর্যগ্রহণকে 'কুসূফ' বলা হয়। আর সূর্যগ্রহণের নামাজকে 'নামাজে কুসূফ' বলা হয়। দশম হিজরীতে যখন পবিত্র মদীনায় সূর্যগ্রহণ হয়, ঘোষণা দিয়ে লোকদেরকে নামাজের জন্য সমবেত করেছিলেন। তারপর সম্ভবত তার জীবনের সর্বাদিক দীর্ঘ নামাজের জামাতের ইমামতি করেছিলেনন। সেই নামাজের কিয়াম, রুকু, সিজদাহ মোটকথা, প্রত্যেকটি রুকন সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ছিল।

বিভিন্ন আলেমরাও তাই, এ সময় বেশি বেশি করে নফল নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা, দান সদকা করা এবং মিসকিনকে খাওয়ানোতে উৎসাহিত করেছেন

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০১৭

আরে ভাই, সাংবাদিকতায় কি এসব ভাবলে চলে??

সকাল থেকেই অাকাশের মন ভালো নেই। সেই সাথে আমার শরিরটাও। চিকুনগুনিয়ার প্রভাবে সুস্থ্য হওয়ার পরেও সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হয়।  মনে হয়, হাত-পা ও মেরুদন্ড কেমন রোবটিক হয়ে আছে।  তার উপর আবার গতরাতে সোয়া একটায় বাসায় ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে ৩ টা তাই সকালে ঘুম ভাঙলো ৯ টায়।
চিকুনগুনিয়ারর প্রভাবে যেন অলসতায় পেয়ে বসলো। তার উপর ফেসবুসে ঢুকে সহকর্মী উজ্জলের জাতীয় অলস দিবসেন স্ট্যাটাস দেখে দেহটা যেন আরো আস্কারা পেয়ে বসলো।

তাছাড়া সকালে কাজও নেই তেমন গুরুত্বপুর্ন, এসাইনমেন্ট যেটা আছে তা বিকাল ৩ টায়। কিন্তু এরপরেও আমলাদের ফলোয়াপ বলে কথা...কাজ না থাকলেও সেক্রেটারিয়েটের গাছতলায় গিয়ে বসে থাকতে হবে। এটাই গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

ঘড়ির কাটা ১১ টা ছুই ছুই করছে...। নাহ আর বসে থাকা যায়না ৩০ মিনিটের মধ্যে সেক্রেটারিয়েটের  গাছতলায় পৌছুতে না পারলে কেলেংকারি হয়ে যেতে পারে। সব আলসেমি দুরে ঠেলে ফ্রেস হতে যাবো অমনি দেখি আকাশ মসাই প্রচন্ড গোস্বা করলেন। কথা বার্তা ছাড়াই শুরু করলেন কান্না। সে কি কান্না। তর্জন গর্জন দিয়ে কান্না। তখনই ভাবলাম এই সেরেছেরে..এত থামার কোন লক্ষন দেখছিনা।। এত কান্নায় নির্ঘাত বাসার সামনে হাটুপানি হয়ে যাবে।

এরই মধ্যে গোসল, নাস্তা সেরে দেখি মোবাইলের স্ক্রীনে ভাসছে চারটা মিসড কল। এর মধ্যে তিনটাই অফিসের নাম্বার থেকে। এতগুলো মিসড কলে বিচলিত হইনি, প্রত্যাশিতই ছিল।
এই মুহুর্তে উচিৎ কাজ হলো কল ব্যাক করা। কিন্তু এমন বৃষ্টিস্নাত সকাল সকাল কে বকা শুনতে চায়?নিশ্চয় ফোনে ভাইয়া যখন শুনবেন আমি এখনও বাসায়, তখন টেলিফোনের ওপারে চোখ কপালে তুলে তিনি রাজ্যের বিস্ময় প্রকাশ করবেন।

তারচে ভালো এমন বৃষ্টির কিছু দৃশ্য মোবাইলে ধারন করে বৃষ্টি বিলাশী কিছু বন্ধুর মনোরঞ্জন করি। করলামও..। কিন্তু তাতে আমারতো মনোরঞ্জন হচ্ছেনা। এসাইনমেন্টে যাওয়ার অস্থিরতাও  কমছেনা।  আর ওদিকে আকাশের কান্না থামারও কোন লক্ষন আপাতত দেখা যাচ্ছেনা।

তাই কূল না পেয়ে পাশের রুমের আরেক সংবাদ কামলা ভাইকে বললাম কী করা যায়? উনিও একই অস্থিরতায় ভুগছে। কারন প্রেসক্লাবে উনার চলছে গুরুত্বপুর্ন সেমিনার। মিস করলে লস। তাকে বললাম চলেন..উনি বলে এ্যাতো বৃষ্টিতে ক্যামনে যাই।
বল্লাম অারে ভাই, সাংবাদিকতায় এসব চলে? ঝড়, বৃষ্টি বা রোদ, কিংবা রাস্তায় হাটু পানি এসবকি আর বুঝবে রানডাউন! আপনি সুস্থ্য না অসুস্থ্য তা দিয়েত আর মিডিয়া চলবেনা। যথাসময়ে স্পটে উপস্থিত...। "আকতার আপনিকি শুনতে পাচ্ছেন?...হ্যা শুনতে পাচ্ছি। "  লাইভে অনএয়ার থেকে শুনতে পাওয়াটাই শেষ কথা।

যাইহোক বৃষ্টি দিনে ড্রেস কী হবে? কি পড়ে যাবো। বসের কড়া নির্দেশ লুথার মতো যাওয়া চলবেনা। আমারও একই মত, রাষ্ট্রের সবচে গুরুত্বপুর্ন ব্যাক্তিদের অনুষ্ঠানে কি আর সেন্ডেল পড়ে যাওয়া কি শোভা পায়? কিন্তু রাস্তায় যে হাটু সমান পানি।

আরে ভাই সাংবাদিকতায় কি এতো কিছু ভাবলে চলে। আসেন বের হই। বাধ্যছেলের মতো ভাগিনার ছোট ছাতাটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। ছোটদের ছোট এই ছাতায় দুই জনের মাথা সুরক্ষা হলেও প্যান্টসহ পুরো শরির ভিজেই গেলো। বাধ্যহয়ে ভাবলাম পায়েহাটার পথটুকু রিক্সায় যাই। রিক্সাঅলাও প্রত্যাশার বাইরে কোন আচরন করলো না। বিশ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা। খুবই ন্যায্য আবদার।
এরই মধ্যে রাজ্য জয়ের মতো অানন্দ নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের পরই মনে হলো আজকেত গাছতলায় বসা যাবেনা। বুদ্ধি করে ঢুকলাম ক্যানটিনে। কিন্তু কতক্ষন..?? বৃষ্টি যে থামার নাম নেই।  ক্যান্টিন বয় গুলোর ধৈর্য্যের বাধ যেন ভেঙ্গে গেলো। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই কাছে এসে বললো মামা কাস্টোমার বসতে পারছেনা..মানে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু আমাদেরও উপায় নেই। থাকতে হবে সাড়ে তিনটা অবধি। কেননা তখন কিছু একটা  নিউজ হয়তো পাওয়া যাবে।
ক্যান্টিন বয়ের আচরনে মনে হলো, গ্রামে কিছু চালাক দোকানদারদের কথা যারা টিভি দেখায় খদ্দের আটকে রাখে আবার কিছু না কিনলে উঠায় দেয়।

যাইহোক এখানে যেহেতু কিছু কিনতে পারলাম না তাই চেয়ারটা ছেড়েই দিতে হলো। ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে ফের দ্বিতীয়বার বৃষ্টি ধর্ষন হলাম।।

(( বি.দ্র. যারা এই লেখাকে নিছক ফাও প্যাচাল মনে করছেন তাদেরকে বলছি।। এছাড়া আর কী লিখবো বলেন? ৫৭ ধারার যাতা কলে যেভাবে সাংবাদিক নির্যাতন শুরু হইছে। তাই কী লিখে আবার কার আত্নসম্মানে অাঘাত দেই, পিছে মামলার ঝুঁকি। তারচে বরং নিজেকে নিয়ে খাজুরে গল্প লেখি তাতেও যদি হাতের চুলকানি কিছুটা কমে। ধন্যবাদ।।))

শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭

সংযমের মাসেও কি সংযত হবেননা ব্যবসায়ীরা

খুচরা বাজারে পন্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন এক ব্যাবসায়ী
শুরু হলো রহমত মাগফেরাত আর নাজাতের মাস মাহে রমজান। গতকাল তারাবি নামাজের মাধ্যমে মুসলমানরা সিয়াম সাধনা শুরু করেছেন। দুনিয়ার সমস্ত পাপাচার আর খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমত, ক্ষমা ও সন্তুষ্টি লাভই মুমিনের একমাত্র টার্গেট। আর তাই এই মাসের ব্যাপারে ইসলামেরর নির্দেশনা হলো দুনিয়াবি কাজ কর্ম বা ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়ে বেশি বেশি ইবাদাতে মশগুল থাকা। সারা বছরের উপার্জনের একটা অংশ রেখে দিয়ে রমজান মাসে খরচ করার জন্য এবং এই মাসে কম মুনাফা করার ব্যাপারে নির্দেশনা আছে। কিন্তু আমাদের সমাজের বাস্তবিক চিত্র যেন আল্লাহর সেই নির্দেশনার বিপরীত।

ব্যাবসায়িরা সারা বছর পন্যমজুদ করে বসে থাকেন এই রমজানের অপেক্ষায়। আর রমজান এলেই পন্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দেন। এমন ভাবেই ছেড়ে দেন যেন একে থামাবার বা নিয়ন্ত্রন করার শক্তি কারো নেই।

সারা পৃথিবীতে ন্যায়পরায়ন শাষকরা, ব্যাবসায়ীরা এই মাসে রোজাদারদের কষ্ট লাঘবে নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকেন, ব্যাবসায়ীরা পন্যে ভেজাল দেয়া থেকে বিরত থাকেন, দামও মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে।
অথচ আমাদের দেশে এই পরিস্থিতি পুরো উল্টো, বাজারে নিত্য পন্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্বেও হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম।
নিউজ পোর্টাল অর্থসুচকের একটি প্রতিবেদনে  আজকের বাজার পরিস্থিতিতে দেখা যায়,
 " এদিকে আজ রোববার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। গত শুক্রবারের বাজারে কিছু পণ্যের দাম আরেক দফা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি রসুনের দাম ১০-৫০ টাকা এবং আদার দাম ১০ টাকা হারে বাড়ানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে কেজি প্রতি ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া দেশি রসুন আজকের বাজারে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভারতীয় রসুনের দাম ২৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া চায়না আদা ১০ বেড়ে আজকের বাজারে ১২০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এভাবেই সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে চলেছে সব পণ্যের দাম। "


এই হলো আমাদের বাজার পরিস্থিতি। প্রতিবেদনটিতে পন্যবাজারের  অস্থিতিশীলতার কয়েকটি কারন তুলে ধরেছে। যেখানে বলা হয়েছে, কিছু আমদানিকারক ও পাইকাররা তাদের টার্গেট অনুযায়ী পণ্য গুদামজাতকরণের পরই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। আর কিছু অসাদু পাইকার ব্যবসায়ী রমজানের আগে প্রচুর পণ্য মজুদ করে রাখেন। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। আর দাম বাড়তে থাকে। প্রতি দফা দাম বাড়ার পর অল্প অল্প মাল বাজারে ছাড়েন তারা।"

দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধির অভিযোগ বা কারনটা খুবই স্পষ্ট। এমনকি এই অভিযোগ নতুন কিছুও নয়, বছরের পর বছর একই অভিযোগ। তাহলে দায়টা কার।
সরকারের পক্ষ থেকে বার বার জোড় গলায় বলা হচ্ছে রমজানে পন্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে দামও বাড়বেনা। কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে এসব। তাহলেকি বলবো, সরকার মহাশয় এখানেও অসহায়?? দিন দিন তারা তাদের ব্যার্থতারই প্রমান দিচ্ছে?? যার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারন রোজাদারদের।


বাজার ব্যাবস্থাপনার এ চরম বিশৃংখল পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী হওয়া ছাড়া আমার মতো সাধারন নাগরিকের হয়তো কিছুই করার নেই। তবুও আমাদের এ কষ্টের কথা শোনার কি কেউ থাকবেনা? তিনি আল্লাহ একজন অবশ্যই আছেন। আমরা তার কাছেই অভিযোগ জানাই। হে আল্লাহ, সংযমের এ মাসে তুমি অসাধু, মুনাফাখোর ব্যাবসায়ী, ঘুষ খোর কর্মকর্তাদের  সংযত হওয়ার তৌফিক দাও। নয়তো তোমার ফয়সালাই তাদের দেখিয়ে দাও। যেমন ফয়সালা হয়েছিল, হযরত মুসা আলাইহিসালাম এর জাতির উপর।
যারা তোমার নির্দেশনা অমান্য করে রবিবারে  ইবাদতের জন্য আসা মাছ ধরে ধরতো।
সুতরাং সবক্ষেত্রে অাল্লাহর ফয়সালাই চুড়ান্ত। আমরা সবাই যেন তার গজব থেকে বেঁচে থাকতে পারি, এবং রমজানের পূর্ন সওয়াব অর্জন করতে পারি সে জন্য তৌফিক কামনা করি।
 আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, আমিন।
(২৮-০৫-২০১৭)